সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রোহিঙ্গা সংকটের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রহীনতা : ইউএনএইচসিআর দূত ও অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট

শুক্রবার, ২৩ মার্চ ২০১৮
314 ভিউ
রোহিঙ্গা সংকটের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রহীনতা : ইউএনএইচসিআর দূত ও অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৩ মার্চ) :: রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারে রয়েছে জানিয়ে সেখানে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছা দূত ও অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট।

ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে আমার মনে হয়, তাদের (রোহিঙ্গা) রাষ্ট্রহীনতার বিষয়টিতে নজর দেয়াই হচ্ছে মূল ব্যাপার।’ উদ্বাস্তুরা যখন ফিরে যেতে চাইবেন তখন তাদের ফেরানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে আরো অনেক কিছু করা দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৬ সালের মে মাসে ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছা দূত হওয়া কেট ব্লানচেটের মতে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তুদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সাথে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবেই অনুকূলে নেই।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চালানো সহিংসতা ও হুমকির বিরামহীন সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশে থাকাকালীন আমি নিজেই সেই রকম কিছু ঘটনা শুনেছি।’

রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সম্প্রতি ইউএনএইচসিআরের সাথে বাংলাদেশ সফর করেন কেট ব্লানচেট।

তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর ও তাদের সহযোগীরা রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সেখানে অবাধ প্রবেশাধিকারের জন্য আবেদন জানিয়ে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব উদ্বাস্তু, যাদের অর্ধেকের বেশিই শিশু, তাদের দেখভাল করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বেসরকারি খাত ও জনগণ- সবাইকে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। তাদের সহনশীলতা অবিশ্বাস্য রকম, কিন্তু উদ্বাস্তু এবং তাদের উদারভাবে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশিদের জরুরিভাবে আরো আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

২০০৭ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পাওয়া কেট বলেন, এটা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধমান উদ্বাস্তু সংকট। ‘রোহিঙ্গারা অবর্ণনীয় সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। তারা শুধু উদ্বাস্তু নয়, তারা দেশহীন উদ্বাস্তু।’

অস্কার বিজয়ী এই অভিনেত্রীর সাথে ১৮ বছর বয়সী এক উদ্বাস্তু মেয়ের কথা হয়। সে তার স্বামীকে হারিয়েছে। পরে নিরাপত্তার আশায় এক বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে সে বন-জঙ্গল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

ওই মেয়ের মতো আরো অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে তাদের রক্ষায় এবং এক দুর্যোগের মধ্যে আরেকটি দুর্যোগ রোধ করতে ইউএনএইচসিআর ও তাদের সহযোগীদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার এবং উদ্বাস্তুরা নিজেরাই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

‘যে কাজ করা হচ্ছে তা আমি নিজেই দেখেছি। আরেকটু বেশি সুরক্ষার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র উন্নত করা হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভূমি ও ঢালু পথ মেরামত করা হচ্ছে, এমনি বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে,’ বলেন কেট।

বাংলাদেশ সরকারের অবদান নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা যে এই বিশাল চ্যালেঞ্জ কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং সংকটের শুরুতেই সাড়া দিয়েছে এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মিয়ানমারে অবর্ণনীয় সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তুদের সাহায্যে তারা অবিশ্বাস্য কাজ করেছে। এত অল্প সময়ে এত বিপুল মানুষের আগমন, তাদের জন্য সীমান্ত খুলে রাখা এবং সহায়তা দেয়া- আমি জানি এ জন্য ইউএনএইচসিআর খুবই কৃতজ্ঞ।

কিন্তু এখন উদ্বাস্তুদের রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের কাজে সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চেষ্টা বাড়ানো দরকার। সেই সাথে বর্ষা আসছে, তাই স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহায়তা প্রয়োজন, যোগ করেন কেট ব্লানচেট।

বাংলাদেশ সফরের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশি জনগণ কতটুকু করেছে- সফরকালে এটাই ছিল আমার প্রথম দেখার বিষয়।’

আসন্ন বর্ষা মোকাবেলায় উদ্বাস্তুদের প্রস্তুতির বিষয়টিও কেট ব্লানচেটের নজর কাড়ে। উদ্বাস্তুদের আশ্রয় কেন্দ্রে বালির বস্তা ফেলা এবং চলাচলের পথ মেরামত করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে ভূমিধস, বন্যা, রোগ ও প্রাণহানীর ভয় রয়েছে বলে জানান তিনি।

নিজের ভূমিকা সম্পর্কে কেট বলেন, ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী উদ্বাস্তু পরিস্থিতির সাক্ষী হতে পারেন এবং তাদের সাহায্যে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে বা অর্থ সংগ্রহ করতে নিজের অবস্থান ব্যবহার করবেন।

‘আমার ভূমিকা উদ্বাস্তু ও ইউএনএইচসিআরের পক্ষে সমর্থন যোগানো। এ ব্যাপারে আমার উৎসাহ রয়েছে,’ উল্লেখ করে কেট ব্লানচেট বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সাড়ে ছয় কোটি উদ্বাস্তু মানুষ রয়েছে।

এ ব্যাপারে নজর দেয়া এর আগে আর কখনো এত জরুরি ছিল না। আমার দৃষ্টিতে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এটাই হচ্ছে মানব প্রজাতির জন্য সবচেয়ে বড় ইস্যু। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

314 ভিউ

Posted ৮:৩৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ মার্চ ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com