শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

শিল্পে ব্যবহারের নামে সোডিয়াম সালফেট আমদানি : ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কক্সবাজারের লবণ চাষিরা

সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১
150 ভিউ
শিল্পে ব্যবহারের নামে সোডিয়াম সালফেট আমদানি : ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কক্সবাজারের লবণ চাষিরা

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় লবণ উৎপাদনে মাঠে নেমেছেন চাষিরা। এবার লবণ চাষের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। বিগত বছরের প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টনসহ চলতি মৌসুমে উৎপাদিত লবণ মাঠে থাকার পরও বিদেশ থেকে লবণ আমদানিসহ নানা কারণে দিন দিন মূল্য কমে যাচ্ছে লবণের। ধস নেমেছে লবণ বিক্রিতে। এতে করে সংকটে পড়েছেন লবণ চাষিরা। ফলে চরম হতাশায় রয়েছেন এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ৫০ হাজার চাষি ও এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে জড়িত ৫ লাখ মানুষ।

প্রায় ৬০ হাজার একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই শিল্প কক্সবাজারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ভালো নেই লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। লাগামহীনভাবে লবণের দাম কমে যাওয়ায় খুবই ক্ষতিগ্রস্ত লবণ চাষিরা। লবণের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার দাবিতে চাষিরা ইতিমধ্যে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

বিসিক কক্সবাজারের সূত্র জানায়, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, পেকুয়া, মহেষখালী, কুতুবদিয়া উপকূলীয় এলাকায় লবণের চাষ হয়ে থাকে। ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে।গত মৌসুমের ৩.৪৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে। এবার কক্সবাজারের ৬০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। এ বছর দেশে লবণের চাহিদা দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

লবণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশে বছরে সোডিয়াম সালফেটের চাহিদা ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টন। অথচ বছরে চীন থেকে প্রায় ৫ লাখ টনের বেশি সোডিয়াম সালফেট আমদানি হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে এবং দেশীয় লবণশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও চৌফলদন্ডী এলাকার লবণ চাষি এম এন আবছার তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লবণের ন্যায্য মূল্য পেতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি লিখেন, ‘আমার এক কানি (৪০ শতক) জমিতে লবণ চাষ করতে খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। ওই পরিমাণ জমিতে উৎপাদিত লবণ বিক্রি করে পাচ্ছি ৫৪ হাজার টাকা। লোকসান গুনতে হচ্ছে ২৬ হাজার টাকা। মৌসুমের শেষ দিকেও দাম না বাড়লে পথে বসা ছাড়া আমার আর কোন উপায় থাকবে না’।

আরও কয়েকজন চাষি জানান, মাঠ পর্যায়ে এক মন লবণ উৎপাদন করতে ব্যয় হয় ৩ শ টাকা। সে লবণ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়। এতে লাভ তো দূরের কথা, উল্টো গুনতে হচ্ছে লোকসান। আর এ ক্ষতির জন্য চাষিরা দায়ী করছেন অসাধু মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ও বিদেশ থেকে লবণ আমদানিকে। এ অবস্থায় লবণ চাষি ও মালিকদের দাবি লবণের মূল্য আগের মতোই রাখা হোক। যাতে করে লবণ শিল্প বেঁচে থাকে আর এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা রক্ষা পায়।

লবণ চাষি সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মোর্শেদুর রহমান জানান, এক কানি বা ৪০ শতক জায়গায় লবণ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা। কিন্তু লবণ বিক্রি করে চাষিরা পাচ্ছেন ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিমণ লবণ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৩০০ টাকা। কিন্তু তা বিক্রি করতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়।

তিনি আরও জানান, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে মণ প্রতি লবণের দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০০ টাকায়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রতি মণ বিক্রি হয় ৩৫০-৪৫০ টাকা। এই অর্থবছরে চাষিরা লাভের মুখ দেখায় চলতি মৌসুমে লবণ চাষের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে হঠাৎ দাম কমে প্রতি মণ ১৭০-২০০ টাকায় এসে দাঁড়ায়। কিন্তু মাঠে মণ প্রতি লবণ উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৩শ টাকা।

বদরখালীর চাষি জসিম উদ্দীন বলেন, মন প্রতি ৫০০ টাকা থাকা লবণ ১৭০-২০০ টাকায় নেমে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্টে আছি। আমি ঋণ নিয়ে এ চাষ শুরু করছিলাম। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ঋণ শোধ করতে পারিনি। তার মতে এর জন্য দায়ী পটিয়া ও নারায়ণগঞ্জের কিছু অসাধু মিল মালিক। যারা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম কমিয়ে ফেলেছে। আর চাহিদা পূর্ণ থাকার পরেও বেশি লাভের আশায় বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করে দেশি লবণের সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ লবণ চাষি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ চৌধুরী জানান, আগের বছরের লবণের দামের ওপর নির্ভর করে চাষিরা অগ্রিম টাকা নিয়ে লবণের মাঠ করছে। এই অবস্থায় যদি ৫০০ টাকার লবণ সর্বোচ্চ ২০০ টাকা হয়, তাহলে চাষিদের মজুরির টাকা পর্যন্ত উঠবে না।

বাংলাদেশ লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়সার ইদ্রিস বলেন, চাষিদের প্রতি কেজি লবণের উৎপাদন খরচ পড়ে ৭-৮ টাকা। কিন্তু কেজি ৫ টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা। তাই লোকসানের কারণে অনেক চাষি লবণ মজুত করে রেখেছেন। শিল্পে ব্যবহারের নামে আমদানি করা সোডিয়াম সালফেট দেশের বাজারে সোডিয়াম ক্লোরাইড মিশ্রিত করে ভোজ্য লবণ হিসেবে দেদার বিক্রি হচ্ছে। তারা দামও কম রাখছে। ফলে দেশীয় লবণচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।

150 ভিউ

Posted ২:২৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com