সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

শেয়ার বাজারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব : হাওয়া সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা

শনিবার, ২৭ মার্চ ২০২১
123 ভিউ
শেয়ার বাজারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব : হাওয়া সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা

কক্সবাংলা ডটকম :: ঘুরে দাঁড়ানো শেয়ার বাজারে ফের অস্থিরতা বাড়ছে। দরপতনের কবল থেকে বের হতে পারছে না। শেয়ার বাজারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশাও বাড়ছে। অনেকেই শেয়ার বাজার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে বাজার উত্থানের চেয়ে পতন হচ্ছে বেশি। শুধু তাই নয়, সার্বিকভাবে পতনের এই ধারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না এই বাজার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর তথ্য বলছে, টানা দুই সপ্তাহের বড় দরপতনে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। দরপতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিকবার বৈঠক করলেও কোনও উপকারে আসছে না।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দরপতনের আতঙ্ক ভর করেছে। যে কারণে ছোট ও মাঝারি শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা দেদারছে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিশ্রেণির উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরা এ পতনের মধ্যেও শেয়ার কিনছেন।

এদিকে বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে আরও একটি সপ্তাহ পার করলেন শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা। এতে গেলো সপ্তাহেই বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন। আগের সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা হারান সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর ফলে টানা দুই সপ্তাহের বড় দরপতনে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার কারণে এই অর্থ হারান বিনিয়োগকারীরা।

তথ্য বলছে, গেলো সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবস শেয়ার বাজারে দরপতন হয়। এর মধ্যে দুই কার্যদিবসে রীতিমতো ধস নামে শেয়ার বাজারে। এতেই বড় অঙ্কের অর্থ হারান বিনিয়োগকারীরা। সেই সঙ্গে মূল্য সূচকেরও বড় পতন হয়েছে। কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। যদিও ডিএসই’র বাজার মূলধন একসময় ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর সেই বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকায়, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল চার লাখ ৭২ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে আট হাজার ৭০৩ কোটি টাকা।

আগের সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে ১০ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। এই হিসাবে টানা দুই সপ্তাহের পতনে বাজার মূলধন কমলো ১৯ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘করোনা বাড়তে থাকায় হয়তো অনেকেই আগের মতো বিনিয়োগ করার সাহস পাচ্ছেন না। তবে শেয়ারবাজার ঝুঁকিমুক্ত করতে হলে প্রথমেই সুশাসন জরুরি। আর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করতে ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হবে বেশি বেশি। এই দুইটা বিষয় করা সম্ভব হলে বাজারের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকবে। কোনও গুজবই বাজারকে প্রভাবিত করতে পারবে না।’

তথ্য বলছে, ২০২০ সালের শেষ সময়ে একদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নতুন নেতৃত্ব এবং অপরদিকে মোবাইল কোম্পানি রবি ও দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট গ্রুপ ওয়ালটন আসায় শেয়ার লেনদেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে। প্রায় ১০ বছর পর অনেকেই সম্ভাবনা দেখতে থাকেন এই বাজার নিয়ে। আসতে থাকে নতুন বিনিয়োগও। কিন্তু ২০২১ সালের শুরু থেকেই বাজার হারায় গতি।

শেয়ার বাজারে লকডাউনের ‘গুজব’ থামাতে ২২ মার্চ বিএসইসি-কে একটি বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত প্রকাশ করতে হয়। তাতে বলা হয়, ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকলে শেয়ার বাজারের লেনদেনও অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের কোনও গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১০৭ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ১৩৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ, দুই সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ২৪১ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট।

বড় পতন হয়েছে ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকেরও। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি কমেছে ৫২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ৮০ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট ।

আর ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে ২৯ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ১৮ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট।

তথ্য বলছে, ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ৫৩টি প্রতিষ্ঠান। দাম কমেছে ২২১টির। আর ৯৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬০১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৬৫৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে তিন হাজার চার কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় দুই হাজার ৬২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ৩৭৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মোট লেনদেন বাড়ার কারণ গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে এক কার্যদিবস কম লেনদেন হয়।

123 ভিউ

Posted ২:১৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৭ মার্চ ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com