রবিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সংকট তৈরি করে বাড়ানো হলো ভোজ্য তেলের দাম

শুক্রবার, ০৬ মে ২০২২
175 ভিউ
সংকট তৈরি করে বাড়ানো হলো ভোজ্য তেলের দাম

কক্সবাংলা ডটকম(৬ মে) :: ভোজ্যতেল আমদানিকারকরা ক্রেতাদের রীতিমতো জিম্মি করে সয়াবিনসহ অন্যান্য ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। দাম বাড়ানোর পরও কিন্তু বাজারে তেল মিলছে না!

তারা আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিলেও এখন যে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে তা দুই তিন-চার মাস আগে আমদানি করা। এখন যে দাম সেই দামের তেল বাংলাদেশে আসতে আরও তিন-চার মাস লাগবে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে সিটি গ্রুপের একজন কর্মকর্তা বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশে ভোজ্য তেল, বিশেষ করে সয়াবিন আমদানি করে ছয়-সাত জন আমদানিকারক। ফলে পুরো ব্যবসা তাদের নিয়ন্ত্রণে।

টিসিবি’র তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি বেড়েছে ৮০ টাকা।

পুরান ঢাকার মৌলভী বাজারের সয়াবিন তেলের ডিলার (পাইকারি বিক্রেতা) গোলাম মাওলা বলেন, ‘রোজার মাঝামাঝি থেকেই আমদানিকারকরা মিল থেকে সয়াবিন তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তখন থেকেই খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট তৈরি হয়। আমার জানা মতে, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও তারা দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দিতে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এখন দাম বাড়ানোর পরও সরবরাহ শুরু হয়নি। দুই-একদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তারা জানিয়েছেন।’

কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণেই ১৬০ টাকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ২২০ টাকায়ও বাজারে পাওয়া যাচ্ছিল না। আর এখন ১৯৮ টাকা লিটার বেঁধে দিলেও বাজারে সরবরাহ শুরু না হওয়ায় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও ২২০ টাকার নীচে এক লিটার সয়াবিন তেল কেনা যাচ্ছে না।

কলাবাগানের খুচরা বিক্রেতা এফএনএফ শপের মিন্টু মিয়া বলেন, ‘১৫ দিন ধরে আমার দোকানে সয়াবিন তেল নেই। আমি বিক্রি করছি না। যাদের কাছে আছে, তারা ২২০ টাকার নীচে বিক্রি করছেন না।’

এখন বাজারে ভোজ্য তেলের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা প্রতি টনের আমদানিমূল্য ফ্রেইট চার্জসহ দুই হাজার ১০০ ডলার হিসেবে।

কিন্তু ইনডেক্স মুন্ডি জানাচ্ছে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন ক্রুড সয়াবিন তেলের দাম এক হাজার ৯০৭ ডলার। আর বাংলাদেশে এখন যে তেল আছে, তা বছরের প্রথম দিকে ফেব্রুয়ারি মাসে এলসি খুলে আমদানি করা হয় বলে জানা গেছে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টনের দাম ছিল এক হাজার ৬০০ ডলার।

ভোজ্য তেলে প্রতি লিটারের খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা, খোলা পাম অয়েল ১৭২ টাকা। বোতলের সয়াবিন তেল লিটারে বেড়েছে ৩৮ টাকা, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

গত বছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ টন সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে প্রতি মাসে গড়ে এক লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত সয়াবিন তেলের মজুত আছে।

আমদানিকারকরা একই কথা বলছেন। সয়াবিন তেলের ৯৪ ভাগই আনা হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। এই তেল প্রায় পুরোটাই আমদানি করা হয়। এদিকে রোজার আগে সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৩০ ভাগ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর এসএম নাজের হোসেন মনে করেন, ‘কয়েকজন ভোজ্য তেল আমাদানিকারকদের হাতে ভোক্তারা জিম্মি হয়ে আছে। তারা সরকারকে চাপ দিয়ে তেলের দাম বাড়িয়ে নিয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা এই কাজ করেছে। এখন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপরও পড়বে।’

বাড়তি দামেও সয়াবিন তেল মিলছে না বাজারেবাড়তি দামেও সয়াবিন তেল মিলছে না বাজারে

তিনি বলেন, ‘তারা কেনা দাম এক হাজার ৮০০ ডলার ধরেছে। কিন্তু এই তেল যখন আমদানি করা হয় তখন এক হাজার ৫০০ ডলার দাম ছিল। ফলে দাম নির্ধারণে ফাঁকি আছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনের সহায়তায় তারা এই কাজ করেছে। আবার যখন দাম কমবে, তখন তারা বলবে, আমরা তো বেশি দামে আমদানি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাজারে মজুত আছে পর্যাপ্ত। আজকেও (শুক্রবার) চট্টগ্রাম বন্দরে এক হাজার ৫০০ টন সয়াবিন তেল খালাস করা হয়েছে।’

সিটি গ্রুপের চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার বিশ্বজিৎ সাহা বাজারে এখনো সয়াবিন তেলের সংকট নিয়ে খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, ‘তাদের কাছে তেল আছে তারা স্টক করে রেখেছে। আর দেশে সয়াবিন তেলের মজুতও পর্যাপ্ত আছে।’

আবার তিনিই বলেন, ‘ঈদ গেল তো দুই-এক দিনের মধ্যে সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে। আমরা সরবরাহ নিশ্চিত করবো।’

কিন্তু ডিলাররা অভিযোগ করেন, ‘আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোর জন্য রোজা থেকেই সয়াবিন তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এখন দাম বেড়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে সরবরাহ পাওয়া যাবে। আমরা তো কমিশন এজেন্ট। স্টক করে আমাদের কী লাভ? আমরা তো নির্ধারিত হারে কমিশন পাই।’

বিশ্বজিৎ সাহা দাবি করেন, ‘তারা আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখেই তেলের দাম বাড়িয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশন অনুমোদন করেছ।এখানে কোনো কারসাজি নেই।’

আগে দাম কম ছিল সেই তেলের ওপর এখন কেন দাম বাড়ানো হবে জানতে চাইলে তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এবং জবাব না দিয়েই টেলিফোন লাইন কেটে দেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হচ্ছে ৪ কোটি ৭০ লাখ লিটার ভোজ্যতেল 

দামের অস্থিরতার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজ থেকে খালাস হচ্ছে ৪৭ হাজার টন বা ৪ কোটি ৭০ লাখ লিটার ভোজ্যতেল। একাধিক আমদানিকারক এসব তেল আমদানি করেছেন। এর মধ্যে দুটি জাহাজে রয়েছে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল। অপর দুটিতে পাম অয়েল।

দেশে দফায় দফায় ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই গত মাসে বিশ্ববাজারে পাম অয়েল বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইন্দোনেশিয়া। দেশটি বিশ্বের সর্বাধিক পাম অয়েল রপ্তানিকারক। ঘোষণা অনুযায়ী তারা ২৮ এপ্রিল থেকে পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েন দেশের আমদানিকারকরা। তারা নতুন এলসি খুলতে পারছেন না।

বন্ধ ঘোষণার আগে যেসব এলসি খোলা হয়েছিল তার বিপরীতে তেল আমদানি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে কিছু পাম অয়েল জাহাজে বোঝাই করতে পেরেছেন তারা। মূলত সেসব পাম অয়েলই এখন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, এ বন্দরের বহির্নোঙরে ওই চারটি জাহাজ থেকে ভোজ্যতেল খালাসের কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে। এগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার সান লরেঞ্জো বন্দর থেকে ৭ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে ২৯ এপ্রিল এ বন্দরে আসে এনএস স্টেলা নামের জাহাজ।

একই বন্দর থেকে ওরিয়েন্ট চ্যালেঞ্জ নামের অপর একটি জাহাজ ২১ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে ২ মে। ইন্দোনেশিয়ার দুমাই বন্দর থেকে মেঘনা প্রাইড ৪ মে এ বন্দরে এসেছে ৭ হাজার ৭৯৯ টন পাম অয়েল নিয়ে। একই দিন একই বন্দর থেকে সানঝিন ৩০২৫ নামের জাহাজটি নিয়ে এসেছে ১১ হাজার ২৪৫ টন পাম অয়েল।

বন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১ হাজার ২০০ টন পাম অয়েল নিয়ে সুমাত্রা পাম নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে বৃহস্পতিবার। তবে এ জাহাজের তেল খালাস এখনো শুরু হয়নি।

175 ভিউ

Posted ১১:৫৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৬ মে ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com