সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সচিব হতে না পারায় বাড়ছে ক্ষোভ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০
5 ভিউ
সচিব হতে না পারায় বাড়ছে ক্ষোভ

কক্সবাংলা ডটকম(২০ জুলাই) :: সচিব হওয়ার মতো মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা দায়িত্ব পাননি তাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে একদিকে যারা মেধাবী এবং ছাত্রজীবন থেকে সরকারি দলের অনুসারী, তাদের ক্ষোভ-হতাশার শেষ নেই। পাশাপাশি মেধাবীদের মধ্যে যাদের দলীয় কোনো পরিচয় নেই, চাকরিজীবনে শতভাগ পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, তাদের চাপা কান্না ও অভিমান কম নয়।

যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো ফলাফল নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন, চাকরি জীবনেও প্রতিটি কর্মস্থলে বাস্তব কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন, তারা অতিরিক্ত সচিব পদে আটকে যাওয়াকে কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না।

এসব মেধাবী কর্মকর্তার বেশ কয়েকজনকে এখন জুনিয়র ব্যাচের সচিবের অধীনে চাকরি করতে হচ্ছে। এটি তাদের কাছে খুবই অপমানজনক ও দুঃখের। ভুক্তভোগীদের অনেকে ক্ষোভ-হতাশার এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেন, সরকার তার পলিসি অনুযায়ী সচিব নিয়োগ দিয়ে থাকে। তবে একটি ব্যাচের সবাইকে সচিব করা সম্ভব নয়। এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু সচিব পদে পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানদণ্ড হিসেবে পদোন্নতি বিধিমালার শর্তপূরণ ছাড়াও প্রথমত, সচিব হওয়ার মতো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বেসিক যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকতে হবে।

বৈদেশিক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভূমিকা রাখার জ্ঞানও থাকা চাই। সর্বোপরি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিবের দায়িত্ব পালনের মতো লিডারশিপ গ্রহণের যোগ্যতা থাকা বাঞ্ছনীয়। দ্বিতীয়ত, যেটি দেখা হয় সেটি হল সরকারের রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষের কর্মকর্তা কিনা। কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে এটি বড় করে দেখা হয়। যা ওই অর্থে দোষের কিছু নয়। রাজনৈতিক সরকার এটি বিবেচনা করতেই পারে।

ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে সচিব নিয়োগের সময় উল্লেখিত সাধারণ পলিসিগুলো অনুসরণ করতে সেভাবে সব সময় দেখা যায়নি। বিস্ময়করভাবে এমনও দেখা গেছে, চাকরিজীবনে যাদের বিপরীত ঘরানার রাজনীতি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে সচিব পদেও নিয়োগ পেয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়েও এমন নজির দেখা যায়।

বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চাকরি করেছেন। বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনিও এ সরকারের আমলে সচিব হয়েছেন। তারা বলেন, আমরা এটি বলছি না যে, কোনো মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা বিএনপি সরকারের মন্ত্রী বা সচিবের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে তিনি বর্তমান সরকারের সময়ে সচিব হতে পারবেন না।

অবশ্যই পারবেন। কিন্তু সাধারণ অর্থে সেটি তো প্রয়োগ করা হয় না। বিএনপিপন্থী হওয়ার কারণে বহু দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন। কেউ কেউ উপসচিব কিংবা যুগ্মসচিবের বেশি হতে পারেননি। আবার এটিও দেখা গেছে, বিএনপিপন্থী স্বীকৃত কর্মকর্তা হওয়ার পরও এ সরকারের আমলে অনেক কিছু হয়েছেন।

অপরদিকে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করেছেন, ছাত্র হিসেবেও মেধাবী ছিলেন। কিন্তু চাকরিজীবনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভুলতে পারেননি। এমন অনেক কর্মকর্তা বিএনপি সরকারের আমলে বছরের পর বছর পদোন্নতি পাননি। কাউকে হয়রানিমূলকভাবে ১ বছরের মধ্যে ৭-৮ দফায় বদলি করা হয়। ডাম্পিং পোস্টিং দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফেলে রাখা হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সে সময় সত্যিকার আওয়ামীপন্থীদের মধ্যে সচিবালয়ে যারা চাকরি করেছেন তারাও নীতি-আদর্শে অনড় ছিলেন।

২০০৫ ও ২০০৬ সালে এমন বহু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে পদোন্নতি বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সংস্থাপন সচিবের (বর্তমানে জনপ্রশাসন) দফতরে জড়ো হয়েছেন এবং পদোন্নতি না দেয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই সময় পরীক্ষিত আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের অনেকে সচিব হতে পারেননি। অনেকের ভাগ্যে ভালো কোনো পোস্টিং পর্যন্ত জোটেনি। বুকভরা কষ্ট নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকে অতিরিক্ত সচিব পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন।

ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা বলেন, ‘এ ধরনের বৈপরীত্য চিত্র দেখে আমরা এখন অনেকটা বিভ্রান্ত। নিয়োগ-পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকারের আসলে পলিসি কী- তা বুঝে উঠতে পারি না।’ মাঝে মাঝে মনে হয়, শুরু থেকেই সরকারকে বিপাকে ফেলতে প্রশাসনের মধ্যেও অনেকে সক্রিয়। যারা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে রঙ বদলে রাতারাতি খাঁটি আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা বনে গেছেন। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, নব্য আওয়ামীপন্থীদের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দফতরে প্রকৃত আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা বেশিদিন টিকতে পারেননি।

একজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ১৯৮০-৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের এজিএস ছিলাম (কাদের-চুন্নু পরিষদ)। ১৯৮২ সালে আমার কক্ষে বোমা মারা হয়েছিল। রুমের সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় আমার মাস্টার্স পরীক্ষা এক বছর পিছিয়ে যায়। কর্মজীবনে এসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে এক মুহূর্তের জন্য বিচ্যুত হইনি। বিগত বিএনপি সরকারের শেষদিকে ২০০৫ ও ০৬ সালে সব ধরনের ঝুঁকি নিয়ে আওয়াম লীগের ধানমণ্ডি অফিসে একটি জেলার নির্বাচনী ডেস্কে কাজ করেছি। কিন্তু কী পেলাম আজ?

কয়েক মাসের মধ্যে চাকরি থেকে বিদায় নিতে হবে। অথচ অতিরিক্ত সচিব হওয়া ছাড়া আর কিছুই পাইনি।’ ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার ভাগ্যে হয়নি। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হল বিএনপি আমলে ১৯৮২ ও ১৯৮৬ ব্যাচের যে দু’জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে আমরা সচিবালয়ে মহড়া দিয়েছি। আন্দোলন করেছি। এক জোট থেকেছি। বলতে গেলে তারাও এখন অনেক দূরে।

একজন সচিব হতে পারলেও তার বিদায়টা ছিল খুব বেদনার। এক রকম ভুল বুঝে তাকে সরকার দূরে ঠেলে দিয়েছে। অপরজন তো জীবন বাঁচাতে ২০০৭ সালে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এর মধ্যে আমাদের প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংরক্ষিত ফেসবুক পেজে সম্প্রতি অভূতপূর্ব বাহাস দেখতে হল, যা মোটেও কাম্য নয়।’

অপর একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমি কখনও কোনো রাজনীতি করিনি। সারাজীবন পেশাদার আমলা হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছি। গত দু’বছর থেকে শুনছি, আমাকে সচিব করা হবে। কিন্তু কোথায় যেন একটা বাধা। আজও জানতে পারলাম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি। ভালো রেজাল্টও ছিল। কিন্তু কী হল? এখন জুনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তা আমার সচিব। যদিও তিনি সম্মান দিয়ে আমাকে স্যার সম্বোধন করেন। এই সান্ত্বনাটুকু নিয়ে আছি।’

সচিবালয়ের বাইরে কর্মরত একটি দফতরে কর্মরত একজন অতিরিক্ত সচিব সোমবার বলেন, ‘গত বছর নভেম্বর মাসে একবার শুনেছিলাম। আমিসহ আমাদের ৪-৫ জনকে সচিব করা হচ্ছে। কিন্তু পরে দেখলাম ভিন্ন চিত্র।’ তিনি বলেন, এরপর বিষয়টি নিয়ে আমরা মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে কয়েকবার দেখা করেছি। তারা খুব আন্তরিক ছিলেন।

এমনকি এসএসবি’র মিটিংয়ে আমাদের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। সেখানে বলা হয়, সিনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে দক্ষ ও মেধাবী যেসব অতিরিক্ত সচিবের এখনও ২ বছর চাকরি আছে তাদের সচিব পদে পদায়ন করা হবে। কোনো কারণে সম্ভব না হলে অন্তত গ্রেড-১ এর মর্যাদা দেয়া দরকার। কিন্তু ৬-৭ মাস পার হয়ে গেলেও আমরা এখনও সেই তিমিরেই আছি।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তাকে আমরা এসিআর দিয়েছি, তারা এখন সচিব পদে। ফলে আমাদের মানসিক অবস্থা বুঝতেই পারছেন। আরও বেশি কষ্ট হল এখন ১৩তম ব্যাচ অতিরিক্ত সচিব হওয়ার পথে। তাহলে কোথাও দেখা হলে আমরা সবাই বিব্রত হব। এটি মোটেই কাম্য নয়। এখনও আশা করছি, সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এবং সিনিয়র স্যাররা আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’

অপর একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি ১৯৮৫ ব্যাচ থেকে আর কাউকে সচিব করা হবে না। এমনকি ’৮৬ ব্যাচ থেকে সচিব করার লাগাম টেনে ধরা হবে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন, প্রশাসনে এখন কৃষিবিদ গ্রুপ খুব শক্তিশালী। তাদের কথার বাইরে কিছু হবে না।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমরা কেউ এসব কথা বিশ্বাস করতে চাই না। আমরা মনে করি, সরকারের শীর্ষ মহল একটি মেধাভিত্তিক দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে সচেষ্ট। যেখানে কোনো গ্রুপ বা দলাদলি নেই।’

5 ভিউ

Posted ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.