সোমবার ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সঞ্চয়পত্র বিক্রির ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কমছে

রবিবার, ১৪ মার্চ ২০২১
82 ভিউ
সঞ্চয়পত্র বিক্রির ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কমছে

কক্সবাংলা ডটকম :: সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে পাওয়া যাচ্ছে অন্য যেকোনো উৎসের চেয়ে বেশি মুনাফা। এর ফলে নানা কড়াকড়ি এবং সীমা আরোপ করেও সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে লাগাম টানা যাচ্ছে না। প্রতি মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রির গতি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর এখন অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি করতে হচ্ছে সরকারকে। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রির এই ঊর্ধ্বগতিতে ব্যাংকঋণ নির্ভরতা কমছে সরকারের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংক থেকে সরকার এখন যে পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে, তার চেয়ে শোধ করছে বেশি। গত ফেব্রুয়রি পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকার বেশি ব্যাংকঋণ শোধ করেছে সরকার।

প্রতিবছর বিশাল ঘাটতির বাজেট পেশ করে সরকার। এই ঘাটতি মেটানো হয় দুটি উৎস থেকে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস। বৈদেশিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পাওয়া না গেলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয় সরকারকে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র খাত। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬৫ হাজার ৬২১ কোটি টাকা।

এ সময়ে সুদ-আসল বাবদ গ্রাহকদের শোধ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৭০২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮.৫১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঁচ হাজার ২১৫ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মানুষ এখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি ‘নিরাপদ’ মনে করছেন। কারণ বিনিয়োগের বিকল্প সব উৎসের চেয়ে এখানে মুনাফা বেশি। তাই বিভিন্ন শর্ত পরিপালন করেও সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন তাঁরা। এতে নিট বিক্রি বাড়ছে এবং এর ফলে সরকারের ব্যাংকঋণ নির্ভরতা কমে এসেছে।”

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকিং খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিমাসে সরকারের সাত হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি ঋণ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগে নেওয়া ঋণের প্রায় ৪৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা শোধ করা হয়েছে।

এতে নিট ব্যাংকঋণ ঋণাত্মক ধারায় নেমেছে। এর পরিমাণ ১১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৫২ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছিল ৫০ হাজার ৯১ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছিল দুই হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।

এবারও চলতি অর্থবছরের শুরুতে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয় সরকার। জুলাই মাসের প্রথম ১৬ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার নিট ঋণ নিয়েছিল প্রায় আট হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। তবে জুলাই মাসের পুরো সময়ে নেয় ৯ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। এরপর থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমতে থাকে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংকঋণ ছিল মাত্র দুই হাজার ২০৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ওই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকে নিট ব্যাংকঋণ ছিল ৩৩ হাজার ৫৯৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

গত অর্থবছরজুড়ে ব্যাংক থেকে অস্বাভাবিক ঋণ নিয়েছিল সরকার। বাজেট ঘাটতি মেটাতে গত অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। পরে তা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৪২১ কোটি টাকা করা হয়।

তবে অর্থবছরের শেষে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়ায় প্রায় ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এটি মূল বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ৫২ শতাংশ বেশি। এক অর্থবছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই ব্যাংক থেকে এত বেশি ঋণ নেয়নি সরকার।

বন্ধ থাকা ৫ সঞ্চয়পত্রেও লাভ দিচ্ছে সরকার

চালু করা ১০টি সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পাঁচটি সঞ্চয়পত্র বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বন্ধ হয়ে যাওয়া সঞ্চয়পত্রগুলো হলো প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র, তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র, বোনাস সঞ্চয়পত্র, ছয় মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও জামানত সঞ্চয়পত্র। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেও মুনাফা দিচ্ছে সরকার।

এ তথ্য জানিয়েছেন সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, জনগণকে সঞ্চয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করতে এবং বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মাধ্যমে সংগ্রহ করার লক্ষ্যে সঞ্চয়পত্র চালু হয়। সময়ের সঙ্গে ওঠানামা করেছে এর সুদের হার, একই সঙ্গে বেড়েছে এর বিনিয়োগও।

তবে বিভিন্ন কারণেই এর মধ্য থেকে বিভিন্ন স্কিমের মধ্যে ৫টি সঞ্চয়পত্র বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তার মধ্যে পাঁচ ধরনের সঞ্চয়পত্রের অনুকূলে রাখা অর্থের বিপরীতে এখনো লাভ দেওয়া হচ্ছে।

সঞ্চয়পত্র অধিদফতর জানায়, ১০ ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পাঁচ ধরনের সঞ্চয়পত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব সঞ্চয়পত্র বন্ধ করে দেওয়া হলেও আগের গ্রাহকদের রাখা অর্থের সুদ এখনও দিচ্ছে সরকার। সেক্ষেত্রে এসব সঞ্চয়পত্রে নতুন বিনিয়োগ না থাকলেও সেখানে অতীতে গচ্ছিত অর্থের লাভ দিতে হচ্ছে সরকারকে।

২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সঞ্চয় অধিদফতরের হিসাব থেকে জানা গেছে, বন্ধ হওয়া হিসাবগুলো থেকে কোনও নতুন জামানত না থাকলেও প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্রে জানুয়ারি পর্যন্ত মুনাফা দিয়েছে সরকার। বাকিগুলোরও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফা দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের উপ-পরিচালক রাজিয়া বেগম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি সঞ্চয়পত্র বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। যেসব সঞ্চয়পত্রের বিক্রি শূন্য সেগুলোই মূলত বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলোর সুদ সরকার দিচ্ছে। নতুন কোনও বিনিয়োগ সেখানে নেই।

82 ভিউ

Posted ২:০০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৪ মার্চ ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com