রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সরকার হেফাজতকে ছাড় দেয় কেন ?

বুধবার, ১৭ মার্চ ২০২১
2073 ভিউ
সরকার হেফাজতকে ছাড় দেয় কেন ?

কক্সবাংলা ডটকম(১৬ মার্চ) :: হেফাজত ইসলাম সর্বপ্রথম আলোচনায় আসে ২০১৩ সালের মে মাসে। সেই সময়ে যুদ্ধাপরাধ বিরোধী, গণমঞ্চের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘোষণা করে হেফাজত এবং তারা ঢাকায় চলো কর্মসূচী দেয়। এই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তারা সারাদেশের কওমি মাদ্রাসার নিরীহ এবং অভাবী শিক্ষার্থীদেরকে জড়ো করে হেফাজত এবং ঢাকায় এসে এক তাণ্ডব চালায়।

সরকার সেসময় হেফাজতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছিল কিন্তু ঐ মামলাগুলোর শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। বরং মামলাগুলো হিমাগারে পড়ে গেছে। ২০১৩ সালের মে মাসের ঐ তাণ্ডব সরকার কঠোরভাবে দমন করেছিল।

তখনই মনে করা হয়েছিল যে, এর মাধ্যমে মৌলবাদী রাজনীতির অবসান ঘটবে এবং যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে সরকার।

কিন্তু অদৃশ্য কারণে ঐ ঘটনার পর সরকারের একটি মহল হেফাজতের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা করে। সেসময় হেফাজতের আমির ছিলেন আল্লামা শফী। ঐ ঘটনার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে হেফাজত একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। বরং এটি কওমি মাদ্রাসার মাদ্রাসার একটি সংগঠন। কিন্তু ঢাকা চলো বা ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনীতিতে এটি একটি শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে দাঁড়ায়। আর সে কারণেই সম্ভবত সরকার হেফাজতের সাথে একটা সমঝোতার চেষ্টা করে। সেই চেষ্টাতে সফলও হয়। অনেক কিছুর বিনিময় সরকার হেফাজতকে বশীভূত করে।

হেফাজতের কথায় বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করা হয়, হেফাজতের কথায় কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য সরকার অনেক টাকা বরাদ্দ করেন, হেফাজতের কথায় কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছিল। আর এ কারণেই হেফাজত আওয়ামী লীগের অনুগত ইসলামপন্থী সংগঠন হিসেবে কাজ করেছে।

কিন্তু গতবছরে হেফাজতের আমির আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতের নতুন মেরুকরণ ঘটে। হেফাজতে সবসময় এক শক্তিশালী জামাত এবং জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল। আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মামুনুল হকের নেতৃত্বে এই হেফাজতে জঙ্গিবাদী এবং উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। তারা হেফাজতের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর তারা একের পর এক সরকারকে বিভিন্নভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে।

জুনায়েদ বাবুনগরী এর নেতৃত্বে আসার পর প্রথম হুমকি দেয় ভাস্কর্য নিয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমদিকে এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছিল। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রথম প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতারা হেফাজতের এই ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে হেফাজতের সাথে সরকার সমঝোতা করে এবং ভাস্কর্য ইস্যুটি হিমাগারের পাঠানো হয়। এখন ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে কোন কথাবার্তা বলছে না কেউই।

এখন হেফাজত আবার নরেন্দ্র মোদির ঢাকা আসা নিয়ে বিরোধিতা করছে। তারা বলছে যে, নরেন্দ্র মোদিকে ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য রাখার সাহস হেফাজত পাচ্ছে, কারণ বিভিন্ন সময়ে সরকার তাদের প্রতি নরম আচরণ করছে এবং তাদের অন্যায় আবদার মেনে নিচ্ছে। হেফাজতকে সরকার চটাতে চায় না, এই নীতিমালার কারণে হেফাজত আস্কারা পাচ্ছে।

সরকার মনে করছে যে, জামাত এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের ঠেকানোর জন্য হেফাজতকে হাতে রাখতে হবে। তাছাড়া হেফাজতের অধীনে সারাদেশে বিপুল সংখ্যক কওমি মাদ্রাসা এবং তার শিক্ষার্থীরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকে।

এজন্য সরকারকে এই ঐক্যবদ্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীকে চটাতে চায় না। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। কিন্তু হেফাজতকে ব্যবহার করার জন্য এখন নানামুখী তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে, ২০১৩ সালের মে মাসে বিএনপি এবং জামায়াত প্রকাশ্যেই হেফাজতকে সমর্থন দিয়েছিল। এখনো বিএনপি-জামায়াতের একটি শক্তিশালী গ্রুপ হেফাজতের মধ্যে কাজ করে এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো সরকারকে বিব্রত করা।

তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, হেফাজতের সাথে সমঝোতা নয় বরং আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং আওয়ামী লীগের মৌলিক নীতি, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের হেফাজতের মত বিপদজনক মৌলবাদী সংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকার যদি হেফাজতের সাথে আপোষ সমঝোতা করে, হেফাজতকে যদি কথায় কথায় ছাড় দেয়, ভবিষ্যতে হেফাজত সরকারের বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

2073 ভিউ

Posted ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৭ মার্চ ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com