বৃহস্পতিবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সাংবাদিকরা কেন সবার মার খাবে?

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০২২
180 ভিউ
সাংবাদিকরা কেন সবার মার খাবে?

কক্সবাংলা ডটকম(২২ এপ্রিল) :: ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের দোকানদার, হকার ও কর্মচারীদের সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন— যাদেরকে টার্গেট করে পেটানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনকে গুরুতর অপরাধীর মতো ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং দোকান মালিক-শ্রমিক-কর্মচারীরা যে যেভাবে পারছে মারধর করছে। প্রশ্ন হলো, সংবাদ কাভার করতে যাওয়া এই লোকগুলোর অপরাধ কী? তারা কেন সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ বা শত্রু ভাবছে?

ঘটনার দিন ১৯ এপ্রিল প্রথম আলোর একটি সংবাদ শিরোনাম: ‘শিক্ষার্থী–ব্যবসায়ী সংঘর্ষ, সাংবাদিকদের পেটাচ্ছেন দোকানকর্মীরা’। খবরে বলা হয়, সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে আসা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পেটাচ্ছেন নিউমার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটের দোকানের কর্মচারীরা।তাদের অভিযোগ,ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ নিয়ে সত্য তথ্য প্রকাশ করছেন না সাংবাদিকরা।

প্রশ্ন হলো- সত্য সংবাদের সংজ্ঞা কী? যে সংবাদ নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের পক্ষে যাবে সেটি, নাকি যেটি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে যাবে? সংবাদ মানেই সেটা সত্য। যেখানে ‘সং’ থাকে না। অর্থাৎ ‘সং’ বাদ দিলে যা থাকে সেটার নামই সংবাদ। ঘটনা যা, সেটা বলা ও লেখার নামই সংবাদ। অতএব সত্য সংবাদ মিথ্যা সংবাদ বলে কিছু হয় না। সংবাদ মানে ফ্যাক্ট। এখন মুশকিল হলো, সেই ফ্যাক্ট যখন ব্যবসায়ীদের বিপক্ষে যায় তখন তারা সেটিকে মিথ্যা সংবাদ বলে। সেই ফ্যাক্ট যখন শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে যায় তখন তারাও এটাকে বলে মিথ্যা সংবাদ।

অস্বীকার করা যাবে না, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে রাজনৈতিক ইস্যুতে গণমাধ্যম এখন নানারকম সেন্সরশিপের মধ্যে আছে। অনেক সময় ফ্যাক্ট বলা বা লেখা সম্ভব হয় না। কিন্তু এর বাইরে অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গণমাধ্যম কি স্পষ্টত কারও পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড়ায়? মূলধারার গণমাধ্যমের সাধারণ প্রবণতা অন্তত এটি নয়। খেয়াল করলে দেখা যাবে, সবশেষ নিউমার্কেট এলাকায় যে ঘটনা ঘটলো, সেই এলাকাসহ অন্য যেকোনো এলাকায় যখন ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির শিকার হন, পুলিশি হয়রানির শিকার হন, স্থানীয় মাস্তানদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হন, সাংবাদিকরা সেই তথ্য তুলে ধরেন। জেলা-উপজেলা থেকে ঢাকায় পণ্য আনার ক্ষেত্রে পথে পথে চাঁদাবাজির খবরও সাংবাদিকরা তুলে আনেন।

কোথাও কোনো ব্যবসায়ী অন্যায়-অনিয়মের শিকার হলে কিংবা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে গিয়ে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে, শিল্প-কলকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট হলে, পণ্য আমদানি রপ্তানিতে সমস্যা হলে, সেগুলো সাংবাদিকরা আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরেন। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে পারেন, গণমাধ্যম সব সময়ই সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকে। কিন্তু তারপরও ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই সাংবাদিকদের ওপরে হামলা চালান।

গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হচ্ছে ফ্যাক্ট বলা। কিন্তু পরিবহন খাতে যখন নৈরাজ্য তৈরি হয়, অন্য যেকোনো খাতের শ্রমিকরা যখন রাস্তায় নামেন, তখনও সাংবাদিকরা তাদের টার্গেটে পরিণত হন। খুলনার পাটকলগুলোয় মাঝেমধ্যেই শ্রমিক অসন্তোষ হয় এবং সেই খবর টেলিভিশন চ্যানেলগুলো লাইভ করে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। কিন্তু সেই শ্রমিকরাই সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন— এরকম খবরও শোনা যায়। অর্থাৎ প্রতিটি পক্ষই চায় সাংবাদিকরা তাদের মতো করে লিখবেন, তাদের মতো করে বলবেন। কিন্তু যখনই এতে ব্যত্যয় ঘটে, তখনই তারা সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ বা শত্রু ভাবতে থাকেন।

এই যে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কর্মচারী ও হকাররা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালালেন, তারাই বিভিন্ন সময়ে তাদের দাবি-দাওয়া সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের নজরে এনেছেন। গণমাধ্যম প্রচার না করলে তাদের সেই কথা নীতিনির্ধারকরা কী করে জানতেন? অথচ সেই ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কর্মচারী ও হকাররা যখন ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালেন এবং আর সেই ঘটনার ছবি তুলতে গেলেন সাংবাদিকরা, তখনই তারা আক্রমণের শিকার হলেন।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের দোকানদার, হকার ও কর্মচারীদের সংঘর্ষের সময় সাংবাদিকদের টার্গেট করে পেটানো হয়েছে।

কারণ ছাত্রদের ওপর হামলার প্রস্তুতির অনেক কিছুই সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে যাচ্ছিল। অতএব সেই ছবি যাতে সাংবাদিকরা প্রকাশ ও প্রচার করতে না পারেন, সেজন্য তাদের ওপর আক্রমণ করা হলো এই অজুহাত তুলে যে, সাংবাদিকরা সঠিক সংবাদ প্রকাশ করেন না। তার মানে যতক্ষণ সাংবাদিকরা তাদের পক্ষে কথা বলবেন, ততক্ষণ তারা বন্ধু। যখনই তাদের অন্যায় বা খারাপ দিকগুলো তুলে ধরবেন, তখনই শত্রু।

এটি শুধু নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সমস্যা নয়, এটি এখন জাতীয় সমস্যা। সাংবাদিকরা এখন সবার প্রতিপক্ষ। সবার শত্রু। সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছেন দেশের সাংবাদিকরা, তথা পুরো গণমাধ্যম— যাকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং যে সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছরের মার্চে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে নারায়ণগঞ্জের মৌচাক, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। টেলিভিশনের গাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, একজন রিপোর্টারের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে ‘কলমা’ পাঠ করানো হয়েছে বলেও গণমাধ্যমের খবর প্রকাশিত হয়। নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মতো হেফাজতে ইসলামও তখন দাবি করেছিল, গণমাধ্যম ‘সঠিক সংবাদ’ প্রচার করে না, তাই এই আক্রমণ।

এর আগে, ২০১৮ সালে সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ কাভার করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নির্মম মারধরের শিকার হন। রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় হেলমেটপরা একদল লোক। তাদের কারও কারও পরিচয়ও তখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সায়েন্সল্যাব, সিটি কলেজ, ধানমন্ডি ২ নম্বর ও জিগাতলা এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কারও কারও ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। তাদের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। হুমকি-ধমকি দিয়ে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ছবি তুললে পেটানো হবে বলে শাসানো হয়।

প্রশ্ন হলো- কারা সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ বা শত্রু ভাবে? উত্তর সহজ, যারা নিজেদের অন্যায় আড়াল করতে চায়, যারা অপরাধী, তারাই সাংবাদিককে ভয় পায় বা প্রতিপক্ষ ভাবে। কারণ একজন সরকারি কর্মকর্তা, একজন পুলিশ, একজন ঠিকাদার এবং অন্য যেকোনো পেশার একজন মানুষ যখন অন্যায় করেন, সেই অন্যায়টি অন্য পেশার একজন মানুষ দেখে ফেললে বা জেনে গেলে সেটি যত না ঝুঁকি তৈরি করে, একজন সৎ সাংবাদিক জেনে গেলে সেই ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়। কারণ একজন সৎ সাংবাদিককে টাকা দিয়ে কেনা যায় না। ফলে তিনি অন্যায়টি প্রকাশ ও প্রচার করবেন। অপরাধীদের ভয় এখানেই।

এটা ওপেন সিক্রেট যে, পুলিশ বা অন্য যেকোনো পেশার অসৎ লোকেরা সাংবাদিক ছাড়া কাউকেই ভয় পায় না বা তোয়াজ করে না। ফলে সুযোগ পেলেই তারা সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়। ক্ষমতাবানরা জানে, তাদের অন্যায় কাজগুলো দেশের মানুষ শুধু এই সাংবাদিকদের কারণেই জানতে পারে। না হলে দেশ বহু আগেই লুটপাট করে খেয়ে ফেলতো তারা। তবে যেহেতু তারা এই অবাধ লুটপাট করতে পারে না কেবল গণমাধ্যমের ভয়ে, তাই গণমাধ্যমই তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ, শত্রু।

প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেও দেখা যাবে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাংবাদিক তথা গণমাধ্যমকে কী ভাষায় গালাগাল করছেন। অথচ যারা সাংবাদিকদের সমালোচনায় মুখর, তাদের অনেকেই বিপদে পড়লে প্রথমেই তার পরিচিত একজন সাংবাদিককেই ফোন করেন। সরকারি চাকুরে, পুলিশ, আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, এনজিওকর্মী থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টরের মানুষ বিপদে পড়লে বা কোনো সমস্যায় পড়লে এমনকি সরকারি হাসপাতালে একটা সিট কিংবা কেবিন পেতেও তার পরিচিত কোনো সাংবাদিককে ফোন করেন। তার সহায়তা চান। অথচ সুযোগ পেলেই সাংবাদিকদের গালি দেন। সাংবাদিকরা সত্য গোপন করে, মিথ্যা বলে, সরকার ও ক্ষমতাসীনদের দালালি করে— ইত্যাদি অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হন।

অধিকাংশ মানুষই জানে না সাংবাদিকদের কতগুলো পক্ষের সঙ্গে আপস করে বা লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। এসব পক্ষের মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক, বিজ্ঞাপনদাতা বড় বড় প্রতিষ্ঠান, সরকার, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, উগ্রবাদী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত সাংবাদিকদেরই বিভিন্ন সংগঠন। পৃথিবীর আর কোনো পেশার মানুষকে এতগুলো পক্ষের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় না। আবার যখনই কোনো একটি সংবাদ কোনো গোষ্ঠীর বিপক্ষে যায়, তারাই গণমাধ্যমকে শত্রু বিবেচনা করে এবং ব্যবস্থা নিতে উদ্যত হয়।

সেটি কখনো বিজ্ঞাপন বন্ধ করে, কখনো সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টার ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে, কখনো রিপোর্টারকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে, কখনো বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে, কখনও মোটা অংকের পয়সা দিয়ে সাংবাদিকদের কিনে নিয়ে, এমনকি নিবন্ধন বাতিল বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে। তার ওপর সাংবাদিকদের বিরাট অংশেরই চাকরির নিশ্চয়তা নেই। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠেনি। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন হয় না।

বাইরের এই সব পক্ষের বাইরেও মূলধারার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা এ মুহূর্তে অভ্যন্তরীণ দুটি বড় পক্ষের দ্বারা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, এর একটি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— যেখানে প্রতিনিয়ত খবরের নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয় এবং মূলধারার গণমাধ্যমকে সেগুলোর বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে হয়। আরেকটি হচ্ছে অপেশাদার, ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদ পোর্টাল ও আইপি টিভি। এগুলোও সংবাদের নামে তথ্য বিকৃতি, চাঞ্চল্যকর খবরের নামে মিথ্যা ও অর্ধসত্য জিনিসপত্র প্রকাশ ও প্রচার করে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দেয়। অর্থাৎ একদিকে বিভিন্ন ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর চোখ রাঙানি এবং অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা, ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদ পোর্টাল ও আইপি টিভির কথিত সাংবাদিকরাও পেশাদার সাংবাদিকদের মান মর্যাদা ক্ষুণ্ণে বড় ভূমিকা রাখেন।

পরিশেষে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম কতটুকু স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এ কথা বোধ হয় কেউই অস্বীকার করবেন না যে, এই সীমিত স্বাধীনতা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গণমাধ্যমই দেশকে টিকিয়ে রেখেছে। কারণ চারপাশে এত বেশি খারাপ লোকের আধিপত্য যে, তারা কেবল ক্যামেরাগুলোকেই ভয় পায়। না হলে বহু আগেই সবকিছু পেটের ভেতরে নিয়ে যেতো। যেহেতু সবকিছু পেটের ভেতরে নিয়ে হজম করার পথে প্রধান অন্তরায় গণমাধ্যম, অতএব তারাই শত্রু, তারাই প্রতিপক্ষ।

রাষ্ট্রও জানে তার সব কার্যক্রমে নজর রাখে গণমাধ্যম। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের মতো গণমাধ্যমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে বা মামলা দিয়ে শায়েস্তা করা না গেলেও রাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করে রাখতে চায়, যাতে গণমাধ্যম নিজেই নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়ে এবং সেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করতে গিয়ে অন্য দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ না পায়।

আমীন আল রশীদ: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, নেক্সাস টেলিভিশন

180 ভিউ

Posted ৯:২৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com