মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

স্বপ্নের পদ্মা সেতু : ১১৬৭ দিনে বসলো ৪১টি স্প্যান,তিন বছরে দৃশ্যমান হলো ৬.১৫ কিলোমিটার

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২০
369 ভিউ
স্বপ্নের পদ্মা সেতু : ১১৬৭ দিনে বসলো ৪১টি স্প্যান,তিন বছরে দৃশ্যমান হলো ৬.১৫ কিলোমিটার

কক্সবাংলা ডটকম(১০ ডিসেম্বর) :: পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণের ৫ বছর পূর্তির দুই দিন আগে খুঁটির ওপর বসল সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান। বহুল কাঙ্ক্ষিত এই স্প্যান বসার মধ্য দিয়ে সেতুর মূল অবকাঠামো শতভাগ দৃশ্যমান হলো। বাস্তবে ধরা দিল দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম এবং পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এ খবর নিশ্চিত করেন।

পদ্মা সেতু

দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, সর্বশেষ স্প্যানটি বসানোর পর সেতুর পুরো ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হলো। আর এরই মাধ্যমে যুক্ত হলো মুন্সীগঞ্জ ও শরিয়তপুর জেলা।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। এরপর একে একে নানা বাধা পেরিয়ে ও নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিন বছর দুই মাস ১০ দিনে সেতুর সব স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়।

এখনও সেতুর আরও কিছু কাজ বাকি আছে। যেমন−রোডওয়ে স্ল্যাব, রেলওয়ে স্ল্যাব, সুপার-টি গার্ডার বসানো। স্ল্যাবের ওপর পিচ ঢালাইয়ের কাজ, আলোকসজ্জা, ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ করতে হবে। সব মিলিয়ে যান চলাচলের জন্য সেতু উন্মুক্ত করতে আরও এক বছর লাগতে পারে। তবে স্প্যান বসানো শেষে পদ্মা সেতুর বাকি কাজ শেষ হতে আর ১০ মাস সময় লাগবে বলে সম্প্রতি জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

পদ্মা সেতু

এর আগে বুধবার (৯ ডিসেম্বর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মাওয়ার কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে বহন করে কাঙ্ক্ষিত পিয়ারের উদ্দেশে রওনা দেয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পিয়ারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় স্প্যানটিকে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে জেটি থেকে স্প্যান রওনা দিতে ঘণ্টা তিনেক অপেক্ষায় থাকতে হয় ক্রেন তিয়ান-ই কে।

পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সব স্প্যান বসাতে তিন বছর দুই মাসের বেশি সময় লাগলেও ২০২০ সালেই ২১টি স্প্যান বসানো হয়। যদিও বন্যার কারণে এ বছরের দীর্ঘ চার মাস স্প্যান বসানোর কাজ করতে পারেনি ঠিকাদার কোম্পানি। এছাড়া করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণেও সেতুর কাজে কিছু ধীরগতি আসে। পরে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। আর ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বসানো হয়েছিল প্রথম স্প্যানটি। সেতুর মোট পিলার ৪২টি এবং এতে স্প্যান বসানো হয় ৪১টি।

পদ্মা সেতু

ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতু। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। প্রকল্পের সর্বমোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা।

মূল সেতুর দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে এক হাজার ২৮৫টি এবং দুই হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে এক হাজার ৯৩০টি স্থাপন করা হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা ভায়াডাক্টে ৪৮৪টি সুপার-টি গার্ডারের মধ্যে ৩১০টি স্থাপন করা হয়েছে।

“>পদ্মা সেতুর স্প্যান বহনকারী তিয়ান-ই ক্রেন

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৯১ ভাগ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ৩৮ ভাগ। মূল সেতু কাজের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৭২৩ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা। নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৫০ ভাগ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৫ দশমিক ১৭ ভাগ। নদীশাসন কাজের চুক্তিমূল্য ৮ হাজার ৭০৭ দশমিক ৮১ কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৬৭৪ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু

সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার খাত, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ খাত, পরামর্শক, সেনা নিরাপত্তা, ভ্যাট ও আয়কর, যানবাহন, বেতন ও ভাতাদি এবং অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ ৭ হাজার ৭১৬ দশমিক ৯১ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সর্বমোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৪ হাজার ১১৫ দশমিক ০২ কোটি টাকা; অর্থাৎ ৭৯ দশমিক ৮৯ ভাগ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮২ দশমিক ৫০ ভাগ।

১১৬৭ দিনে ৪১ স্প্যান

বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দেশের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর। পরের বছর ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতু নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ২০১৭ সালের শুরু হয় স্প্যান বসানোর কাজ। এরপর তিন বছর দুই মাস ১০ দিনে বা মোট ১১৬৭ দিন পর সেতুর সব স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো পুরো পদ্মা সেতু।

২০১৪ সালের ১৭ জুন চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেতু নির্মাণ শুরুর প্রায় তিন বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসে প্রথম স্প্যান। এরপর একে একে বসতে থাকে সেতুর মূল কাঠামো এই স্প্যানগুলো। দৃশ্যমান হতে থাকে এর দৈর্ঘ্য।

প্রথম দিকে স্প্যান স্থাপনের গতি কম থাকলেও আস্তে আস্তে এটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) বসে ৪১তম স্প্যান। ৪২টি পিলারের ওপর এই ৪১টি স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়।

প্রথম স্প্যান বসার পর শেষ স্প্যান বসতে সময় লাগে এক হাজার ১৬৭ দিন। গাণিতিক হিসেবে গড়ে ২৮ দিনে একটি করে স্প্যান বসেছে। অবশ্য বাস্তবে কোনও কোনও স্প্যান বসেছে এক সপ্তাহেরও কম ব্যবধানে। আবার কোনটি বসতে সময় লেগেছে ছয় মাসেরও বেশি সময়। প্রমত্তা পদ্মায় স্রোতের কারণে প্রতি বছরই জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে অন্তত তিনমাস স্প্যান বসানো বন্ধ থেকেছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে একটি, ২০১৮ সালে চারটি, ২০১৯ সালে ১৪টি এবং ২০২০ সালে বসে ২২টি স্প্যান।

প্রথম স্প্যান: ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয় ‘৭ এ’ স্প্যানটি। এটি বসানো হয় সেতুর জাজিরা প্রান্তে। ওই সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় স্প্যান: প্রথম স্প্যান বসানোর ১২০ দিন পর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি জাজিরা প্রান্তে ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিয়ারের ওপর বসে ‘৭ বি’ স্প্যানটি। এতে ৩০০ মিটার দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু।

তৃতীয় স্প্যান: ২০১৮ সালের ১১ মার্চ ‘৭ সি’ নম্বর স্প্যানটি বসে ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিয়ারের ওপর। এতে সেতুর দৃশ্যমান হয় ৪৫০ মিটার।

চতুর্থ স্প্যান: ২০১৮ সালের ১৩ মে ‘৭ ই’ স্প্যানটি বসে আগেরটির পাশের ৪০ ও ৪১ নম্বর পিয়ারের ওপর। দৃশ্যমান হয় ৬০০ মিটার।

পঞ্চম স্প্যান: ‘৭ এফ’ স্প্যানটি বসে ২০১৮ সালের ২৯ জুন। এটাতে ৪১ ও ৪২ নম্বর পিয়ারের ওপর স্থাপন করা হয়। দৃশ্যমান হয় পৌনে এক কিমি (৭৫০ মিটার)।

ষষ্ঠ স্প্যান: ছয় মাস ২৫ দিনের মাথায় বসে ষষ্ঠ স্প্যান। ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিয়ারের ওপর ‘৬ এফ‘ স্প্যানটি বসানো হয়েছে। ফলে সেতুর মূল কাঠামোর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। জাজিরা প্রান্তের তীরের দিকের ষষ্ঠ শেষ স্প্যান বসে।

সপ্তম স্প্যান: পদ্মা সেতুর সপ্তম স্প্যানটি বসে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিয়ারের ওপর স্প্যান ‘৬-ই’ বসানোর মাধ্যমে এই প্রান্তে দৃশ্যমান হয় সেতুর ১০৫০ মিটার।

অষ্টম স্প্যান: ২০১৯ সালের ২২ মার্চ পদ্মা সেতুর ৩৫ ও ৩৪ নম্বর পিয়ারের ওপর অষ্টম স্প্যানটি বসানো হয়। ‘৬ ডি’ স্প্যান বসানোয় ১২০০ মিটারের সেতু দৃশ্যমান হয়।

নবম স্প্যান: পদ্মা সেতুর নবম স্প্যানটি বসে মাওয়া প্রান্তে। এটি ছিল মাওয়া প্রন্তের প্রথম স্প্যান। ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল ‘৩ এ’ স্প্যান ১৩ ও ১৪ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানোয় সেতুর ১৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্যে রূপ নেয়।

দশম স্প্যান: ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিয়ারের ওপর ১০তম স্প্যান বসে। ‘৩ বি’ স্প্যানটি বসানোর ফলে সেতুর দেড় কিলোমিটার (১৫০০ মিটার) দৃশ্যমান হয়।

১১তম স্প্যান: এটি মাওয়া প্রান্তের দ্বিতীয় স্প্যান। ২০১৯ সালের ২৫ মে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিয়ারের ওপর স্প্যান ‘৩বি‘ বসানো হয়। এতে সেতুর ১৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

১২তম স্প্যান: ২০১৯ সালের ২৯ জুন পদ্মায় বসে দ্বাদশ স্প্যান। ‘৩সি’ স্প্যানটি বসানো হয় ১৫ ও ১৬ নম্বর পিয়ারের ওপর। এতে সেতুর ১৮০০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

১৩তম স্প্যান: ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ১৩তম স্প্যান বসানো হয়। জাজিরা প্রান্তে ২৪ ও ২৫ নম্বর পিয়ারের ওপর ‘৪এফ’ স্প্যানটি বসানো হয়। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ১৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

১৪তম স্প্যান: ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর ১৪তম স্প্যান বসানো হয়। জাজিরা প্রান্তে ২৩ ও ২৪ নম্বর পিয়ারের ওপর স্প্যানটি বসানো হয়। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ২১০০ মিটার (২ দশমিক ১ কিলোমিটার) অংশ দৃশ্যমান হয়।

১৫তম স্প্যান: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান বসানো হয়। সেতুর ১৬ ও ১৭ নম্বর পিয়ারের ওপর স্প্যান ‘৩ডি’ বসানো হয়। এ স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর ২২৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

১৬তম স্প্যান: ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর পদ্মায় বসানো হয় ১৬তম স্প্যান। ৪ডি স্প্যানটি বসে জাজিরা প্রান্তের ২২ ও ২৩ নম্বর পিয়ারের ওপর। এতে ২৪০০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

১৭তম স্প্যান: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ বসানো হয় পদ্মা সেতুর ১৭তম স্প্যান। মাওয়া প্রান্তে ১৭ ও ১৮ নম্বর পিলারের ওপর ৩-ই স্প্যানটি বসানো হয়। এই স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর ২ হাজার ৫৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

১৮তম স্প্যান: ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ১৮তম স্প্যান বসানো হয়। আর এতে করে দৃশ্যমান হয় সেতুর দুই হাজার ৭০০ মিটার। ‘৪সি‘ স্প্যানটি বসে সেতুর ২১ ও ২২ নম্বর পিয়ারের ওপর।

১৯তম স্প্যান: ২০১৯ সালের শেষ দিনে ৩১ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ১৯তম স্প্যান বসানো হয়। সেতুর ১৮ ও ১৯ নম্বর পিলারের ওপর ‘৩ এফ’ নামে এ স্প্যানটি বসানো হয়। এতে সেতুর ২৮৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

২০তম স্প্যান: ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি ২০তম স্প্যান বসানো হয়। ১এফ স্প্যানটি বসানো হয় সেতুর ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ারেরর ওপর। এর মধ্যদিয়ে পদ্মা সেতুর তিন কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়। ১এফ স্প্যানটি ছিল সেতুর সর্ব প্রথম তৈরি করা স্প্যান। কিন্তু নির্ধারিত পিলার দুটি প্রস্তুত না থাকায় এটাকে আগে বসানো যায়নি। যার কারণে এক বছর তিন মাস আগে ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর এই স্প্যানটি অস্থায়ীভাবে সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয়েছিল।

২১তম স্প্যান: ১৪ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে সেতুর ২১তম স্প্যান স্থাপন করা হয়। এতে ৩১৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। জাজিরা প্রান্তে ৩২ ও ৩৩ নম্বর পিয়ারের ওপর ৬বি স্প্যানটি বসানো হয়।

২২তম স্প্যান: ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে বসানো হয় পদ্মা সেতুর ২২তম স্প্যান। সেতুর ৫ ও ৬ নম্বর পিয়ারে ‘১ই’ স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় সেতুর তিন হাজার ৩০০ মিটার।

২৩তম স্প্যান: ২ ফেব্রয়ারি ২০২০ জাজিরা প্রান্তে বসে পদ্মা সেতুর ২৩তম স্প্যান। ৬-এ স্প্যানটি সেতুর ৩১ ও ৩২ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয়। এতে তিন হাজার ৪৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

২৪তম স্প্যান: ১১ ফেব্র্রুয়ারি ২০২০ ২৪ তম স্প্যান বসানো হয়। ৩০ ও ৩১ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয় ‘৬এ‘ স্প্যানটি। এর ফলে ৩ হাজার ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হলো। অবশ্য এই স্প্যানটি রেলওয়ে এবং রোডওয়ে স্লাব বসানোর সুবিধার্থে এর আগে ২০১৯ সালের ৬ মে ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছিল।

২৫তম স্প্যান: ২০২০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জাজিরা প্রান্তে বসে পদ্মা সেতুর ২৫তম স্প্যান। ৫-ই স্প্যানটি ২৯ ও ৩০ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয়। এটি বসানোর পর সেতুর তিন হাজার ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

২৬তম স্প্যান: ২০২০ সালের ১০ মার্চ পদ্মা সেতুতে ২৬তম স্প্যান বসানো হয়। জাজিরা প্রান্তে ২৮ ও ২৯ নম্বর পিয়ারে ৫-ডি আইডি নম্বরের স্প্যানটি বসানো হয়। ফলে সেতুর ৩৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

২৭তম স্প্যান: ২৮ মার্চ ২০২০ পদ্মা সেতুতে ২৭তম স্প্যান বসানো হয়। জাজিরা প্রান্তের ২৭ ও ২৮ নম্বর খুঁটির ওপর ৫-সি আইডির স্প্যানটি বসানো হয়। যার মাধ্যমে সেতুর ৪ হাজার ৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

২৮তম স্প্যান: ১১ এপ্রিল ২০২০ সেতুতে ২৮তম স্প্যান বসানো হয়। সেতুর প্রায় মসাঝামাঝি অংশে ২০ ও ২১ নম্বর পিয়ারের ওপর ৪-বি স্প্যানটি বসানো হয়। যার মাধ্যমে সেতুর ৪ হাজার ২০০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

২৯তম স্প্যান: ২০২০ সালের ৪ মে ২০২০ করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সেতুর ২৯তম স্প্যান বসানো হয়। মুন্সীগঞ্জ প্রান্তে ১৯ ও ২০ নম্বর পিয়ারের ওপর ৪-এ স্প্যানটি বসানো হয়। এতে পদ্মা সেতুর ৪ হাজার ৩৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হয়।

৩০তম স্প্যান: ২০২০ সালের ৩০ মে সেতুর ৩০তম স্প্যান বসে। সেতুর জাজিরা প্রান্তের ২৬ ও ২৭ নম্বর পিয়ারের ওপর ‘৫বি’ নম্বর এ স্প্যানটি বসানো হয়। এতে সেতুর সাড়ে ৪ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়।

৩১তম স্প্যান: ২০২০ সালের ১০ জুন পদ্মা সেতুর ৩১তম স্প্যানটি বসানো হয়। সেতুর ২৫ ও ২৬ নম্বর পিয়ারের জাজিরা প্রান্তে ৫-এ স্প্যান বসানো হয়। এতে পদ্মা সেতুর ৪ হাজার ৬৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হয়।

৩২তম স্প্যান: ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৩২তম স্প্যান বসানো হয়। সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ারের ওপর ১-ডি আইডির স্প্যানটি বসানো হয়। এতে সেতুর ৪ হাজার ৮০০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

৩৩তম স্প্যান: ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর মাওয়া প্রান্তে পদ্মাসেতুর ৩ ও ৪ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয় ৩৩তম স্প্যান ‘ওয়ান-সি’। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৪ হাজার ৯৫০ মিটার।

৩৪তম স্প্যান: ২৫ অক্টোবর ২০২০ সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৭ ও ৮ নম্বর পিয়ারের ওপর স্প্যান ২-এ বসানো হয়। ৩৪তম এ স্প্যান বসানোর ফলে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৫ হাজার ১০০ মিটার।

৩৫তম স্প্যান: ৩০ অক্টোবর ২০২০ সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় ৩৫তম স্প্যান ২-বি)। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৫ হাজার ২৫০ মিটার।

৩৬তম স্প্যান: ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর ২ ও ৩ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৬তম স্প্যান (স্প্যান ১-বি) এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৫ হাজার ৪০০ মিটার।

৩৭তম স্প্যান: ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর মাওয়া প্রান্তের ৯ ও ১০ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৭তম স্প্যান (স্প্যান ২-সি) এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৫ হাজার ৫৫০ মিটার।

৩৮তম স্প্যান: ২০২০ সালের ২১ নভেম্বর পদ্মা সেতুর ৩৮তম স্প্যান বসানো হয়। মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর খুঁটির ওপর ১-এ নামের স্প্যানটি বসানো হয়। এর মধ্যদিয়ে সেতুর ৫৭০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। অবশ্য খুঁটির চেয়ে ১ নম্বর পিলারের গঠন সম্পূর্ণ আলাদা। ওই খুঁটিতে ১৬টি পাইল স্থাপন করা হয়। অন্যান্য স্থাপন করা পিলারে ৬/৭টি পাইল। ১ নম্বর খুঁটির ওপর দিয়েই মাওয়াপ্রান্ত দিয়ে সেতুতে গাড়ি ও ট্রেন প্রবেশ করবে।

৩৯তম স্প্যান: ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ১০ ও ১১ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৯তম স্প্যান (স্প্যান ২-ডি), এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৫ হাজার ৮৫০ মিটার।

৪০তম স্প্যান: ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর ১১ ও ১২ নম্বর পিয়ারের ওপর ৪০তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) এবং এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৬ হাজার মিটার (৬ কি. মি)।

৪১তম স্প্যান: সর্বশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান (স্প্যান ২-এফ) বসে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় সেতুর পুরো ৬ হাজার ১৫০ মিটার। এই স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে স্বপ্নের সেতুর স্বপ্নপূরণের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে।

কাজ শেষ হলো তিয়ান-ই’র

তিয়ান-ই ক্রেন

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান ক্রেন হিসেবে খ্যাত ‘তিয়ান-ই’র কাজ শেষ হলো পদ্মা সেতুতে। কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে কাঙ্ক্ষিত পিয়ারের কাছে স্প্যান বহন করে নিয়ে যাওয়া এবং পিয়ারে স্প্যান উঠানোর কাজ করতো ক্রেনটি। তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার তিয়ান-ই পদ্মা সেতুর সব স্প্যান কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে বহন করে নিয়ে পিয়ারে উঠিয়েছে।

পদ্মা সেতুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর জানান, তিয়ান-ই একটি কম্পিউটার অপারেটেড ভাসমান ক্রেন। এখানে ম্যানুয়ালি কিছু করা হয় না। তাই এটিকে অটোমেশিনও বলা যায়। চীন থেকে ঠিকাদার কোম্পানির ভাড়া করে আনা তিয়ান-ই পদ্মা সেতুর প্রতিটি স্প্যান পিয়ারে উঠিয়েছে।

তিয়ান-ই ক্রেন

উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর কাজ। সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয় ৪১তম স্প্যান (২-এফ)। ফলে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুর পুরোটই দৃশ্যমান হলো।

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। আর ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বসানো হয়েছিল প্রথম স্প্যানটি। সেতুর মোট পিলার ৪২টি এবং এতে স্প্যান বসানো হয় ৪১টি।

পদ্মা সেতু (ছবি: ফোকাস বাংলা)

ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতু। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। প্রকল্পের সর্বমোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা।

369 ভিউ

Posted ১:৪৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com