সোমবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

স্বরাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ঠেলাঠেলি : ভুলে ভরা রাজাকার তালিকা

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯
29 ভিউ
স্বরাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ঠেলাঠেলি : ভুলে ভরা রাজাকার তালিকা

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ ডিসেম্বর) :: মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পাঁচ দশক পর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম- দায় কার? তালিকা প্রণয়নকারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভরতার প্রতীক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়? মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরসহ তালিকায় অন্তত ডজনখানেক মুক্তিযোদ্ধার নাম আসার দায় নিতে চাচ্ছেন না কেউই। তালিকা প্রকাশের পর সারাদেশে তুমুল বিতর্কের মাঝে দুই মন্ত্রীর মধ্যে শুরু হয়েছে দায় ঠেলাঠেলি।

রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত-শিবির সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং তালিকাকে বিতর্কিত করতে এ কাজ করেছে। তবে সরকার কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারে না। সরকারের উচিত শিগগিরই তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। সেই সঙ্গে তালিকায় নাম আসা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তালিকা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করা।

অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে প্রকাশিত তালিকায় ভুলভাবে যদি কারও নাম এসে থাকে, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই শেষে তার বা তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে বলে গতকাল গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ তালিকায় বেশ কিছু নাম এসেছে যারা রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি বা স্বাধীনতাবিরোধী নন বরং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বা মুক্তিযোদ্ধা। এ ধরনের কোনো ব্যক্তির নাম তালিকায় কীভাবে এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তালিকায় একাধিক মুক্তিযোদ্ধার নাম আসায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়ী করছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এই ভুলের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায় অস্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তালিকা হুবহু তারা প্রকাশ করেছেন, কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, তালিকায় আমার নামটা এলে আমি যেভাবে কষ্ট পেতাম, ওনারা ঠিক এভাবেই কষ্ট পেয়েছেন। সে জন্য আমি ব্যথিত। আমিও কষ্ট পেয়েছি। কয়েকবার বলছি, এই ভুলের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। এখনো এই তালিকা সংশোধন করা সম্ভব। দুঃখ প্রকাশ করা আর ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভুলের দায় এড়াতে পারি না। যেসব অভিযোগ পাব, যাচাই করে সেসব নাম প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। ভবিষ্যতে তালিকা প্রকাশের আগে যাচাই-বাছাই করে পরে প্রকাশ করা হবে। বর্তমান তালিকায় ভুল-ভ্রান্তি বেশি থাকলে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নোট ছাড়াই রাজাকারের তালিকা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজাকারদের যে তথ্য আছে, সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চেয়েছিল। পরে পাঠানো হয়েছে। এটি একটি দুরূহ ব্যাপার। দালাল আইনে ১৯৭২ সালে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, তদন্ত শুরু হয়েছিল, পরে আবার কেউ কেউ মামলা থেকে প্রত্যাহার হয়েছিল, তাদের আমরা প্রাথমিকভাবে নিয়েছি। আমরা প্রাথমিকভাবে সেই মামলার বিবাদীদের নাম লিস্ট করি। পরে আমরা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিই। তবে সেই লিস্টে কিছু মন্তব্য করে দিয়েছি, অনেকগুলো মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এ হিসেবে আমরা আমাদের এখান থেকে একটি নোটও দিয়েছিলাম। সেই নোটে যাদের নামের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তাদের নাম লেখা হয়নি। আশা করব, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আরো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করবে।

স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রণাঙ্গনের যোদ্ধারা। রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসায় শুধু মুক্তিযোদ্ধাকে নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। জানতে চাইলে সেক্টর কমান্ডার ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই রাজাকার, আলবদরদের তালিকা চাচ্ছিলাম। এদের অনেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসিত হয়েছে, পুরস্কৃত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থেই এদের তালিকা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু যে তালিকা হয়েছে, সেখানে কি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের নাম, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদজায়ার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সারাদেশে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ৪৮ বছর পর তৈরি এই তালিকাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ হওয়া উচিত ছিল। আরো সূ² বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী চেতনার হাতে।

প্রশাসনে অনেক জামায়াত-শিবির রয়েছে। তবে এসব বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারকে কঠোরভাবে মনিটর করে খুঁজে বের করতে হবে, কারা এই কাজ করেছে, কোনো উদ্দেশ্যে, কার নির্দেশে করেছে। এদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বটি শুধু আমলানির্ভর না হয়ে সরকারের উচিত ছিল মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের গবেষকসহ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা। তাহলে এত প্রশ্ন উঠতো না। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু দালাল আইনে যাদের বিচার করেছেন সেই তালিকা কই? এটি কেন খুঁজে বের করা হচ্ছে না?

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ভোরের কাগজকে বলেন, রাজাকারের তালিকায় আমরা ইতোমধ্যে ১০ জন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের নাম পেয়েছি। কারা, কেন, কোন উদ্দেশ্যে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাদের খুঁজে বের করার জন্য আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ করছে।  বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা সংবাদ সম্মেলন করব। যারা এই গর্হিত অন্যায় করেছে তাদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার বিজয় দিবসের আগের দিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ১১ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকায় নাম এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক গোলাম আরিফ টিপু, নয় নম্বর সেক্টরে মেজর আবদুল জলিলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া এডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী, তার বাবা শহীদ সুধীর কুমার চক্রবর্তী ও মা শহীদজায়া ঊষা চক্রবর্তী, বরিশালের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মিহির লাল দত্ত, তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিতেন্দ্র লাল দত্ত, মুক্তিযুদ্ধের সময় বরগুনার পাথরঘাটার আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন মজিবুল হক, আমির হামজা ওরফে রুস্তম খাঁ ও খলিলুর রহমান ওরফে মানিক প্রমুখের নাম। এদিকে বরিশাল, বরগুনা, রাজশাহী, বগুড়া ও ঝালকাঠি জেলার মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগ নেতাদের কয়েকজনের নাম এ তালিকায় উঠে আসায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে ।

29 ভিউ

Posted ২:০০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com