মঙ্গলবার ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় ঘরবন্দি পহেলা বৈশাখ বরণে বাঙালি

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০
6 ভিউ
করোনায় ঘরবন্দি পহেলা বৈশাখ বরণে বাঙালি

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ এপ্রিল) :: বিদায় ১৪২৬। নতুন বছর ১৪২৭ স্বাগত। এ বছর আর নববর্ষে শোভাযাত্রা, মেলা, হালখাতা খোলায় মেতে ওঠা নয়। করোনা সংকটে চারিদিকেই হতাশা আর আশঙ্কার কালো মেঘ। তবুও আমোদপ্রিয় বাঙালি উৎসব পালনে এতটুকুও ফাঁক রাখতে নারাজ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই এবার হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকেই বাঙালির বর্ষবরণ। নতুন বছর ১৪২৭ হোক করোনা-মুক্ত। পয়লা বৈশাখে ঘরে-ঘরে আজ একটাই প্রার্থনা।

মারণ ভাইরাসের হানায় শিকেয় সব উৎসব পালন। বেজায় মন খারাপ বাঙালির। এবারের পয়লা বৈশাখে ঘরবন্দি আমোদপ্রিয়-ভোজনরসিক বাঙালি। লকডাউন মেনে বাড়িতে থেকেই তাই নববর্ষ পালন। উধাও বাঁধভাঙা সেই উচ্ছ্বাস, তবে রয়ে গিয়েছে চিরাচরিত সেই আবেগ।

চৈত্রের শুরু থেকেই প্রমাদ গোণা শুরু। পয়লা বৈশাখের আগেই হয়তো উধাও হবে করোনার করাল গ্রাস। ভাবনাই হল সার। মারণ করোনা আরও ভয়াবহ রূপ নিল। রিস্ক নেওয়াটাই আজ সবচেয়ে বড় বোকামি। চালাক বাঙালি তাই বাড়িতেই মজে বর্ষবরণের আনন্দে।

এবার বোধ হয় অন্য স্বাদের, ভিন্ন ভাবনার বাংলার নতুন বছর বরণ। প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে আনন্দ করার উপায় নেই, নেই সেই ইচ্ছাটাও। গোটা পৃথিবী যে লড়ছে ভয়ঙ্কর এক বিপদের সঙ্গে। লড়ছি আমরাও। ঘরে থেকেই যুদ্ধ জয়ের দারুণ চেষ্টায় একজোট হয়েছি সবাই।

এরই মধ্যে চলে এল পয়লা বৈশাখ। না, এবার আর মিষ্টি আর ক্যালেন্ডারের লোভে দোকানে-দোকানে ভিড় জমাবে না কমবয়সীরা। ব্যবসায়ীরাও নতুন খাতা তৈরি করে পুজো দিতে যাবেন না মন্দিরে। বাড়িতে থেকেই যাবতীয় প্রার্থনা ভগবানের উদ্দেশ্যে। ব্যবসায় মঙ্গলকামনার সঙ্গে গোটা পৃথিবী থেকে মারণ ভাইরাসের কালো চাদরটাও তুলে নেওয়ার প্রার্থনা চলবে ঘরে-ঘরে।

এ এক অন্য পয়লা বৈশাখ। বহু বাড়িতেই আজ ভুরিভোজের ভাবনা নেই। বরং বাংলা বছরের এই প্রথম দিনটিতে করোনা-মুক্ত এক পৃথিবী চাইছে বাঙালি। বিশ্ববাসীর এই মুহূর্তে এই একটাই চাওয়া। সবের হয়েই আজ প্রার্থনায় বাঙালি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে পয়লা বৈশাখে তাই করোনা-মুক্ত পৃথিবীর সন্ধান।

নববর্ষ উদযাপনে ভাঁটার শুরুটা হয়েছিল চৈত্র শুরু কয়েকদিনের মধ্যেই। বাঙালির সাধের চৈত্র সেলের বাজার এবার শুরুতেই শেষ। সেলের বাজারে গড়িয়াহাটে না যেতে পেরে প্রাণ হাঁফিয়ে উঠেছিল বাঙালির। গত কয়েকদিনে একই দশা চোখে পড়ে রাজ্যের অন্যত্রও। শুনশান ছিল রাস্তাঘাট, উধাও ছিল পরিচিত সেই হুড়োহুড়িও।

লকডাউনের গোটা চৈত্রই ঘরে কেটেছে। তবুও মন-খারাপের পয়লাতেই বৈশাখ-বরণ বাঙালির…

ছায়ানটের আয়োজন :

ছায়ানট এক ফেসবুক বার্তায় জানিয়েছে, এবার করোনাজনিত পরিস্থিতিতে বর্ষবরণের আয়োজন হবে ভিন্ন আঙ্গিকে। বার্তায় বলা হয়, ‘নতুন বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানানো এখন আর উৎসব নয় বরং জীবনযুদ্ধে জয়ের শপথ।’

নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসমাবেশ ঘটিয়ে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি নববর্ষকে ডিজিটালি স্বাগত জানানোর যে আহ্বান রেখেছেন, তাতে সাড়া দিয়ে ছায়ানট এবার ‘উৎসব নয়, সময় এখন দুর্যোগ প্রতিরোধের’- এই অঙ্গীকার নিয়ে সীমিত আকারে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে।

বার্তায় জানানো হয়, ‘বর্ষবরণ ১৪২৭’ অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার শুরু হবে সকাল ৭টায়। বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়াও এই অনুষ্ঠান দেখা যাবে ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেল বা বেসরকারী টেলিভিশনে। যুগপৎ সম্প্রচারে আগ্রহী বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোও বিটিভি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে।

এ উপলক্ষে গত শনিবার বিকেলে দেওয়া ছায়ানটের সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান মহামারিতে বিশ্বজুড়ে অগণ্য মানুষের জীবনাবসান ও জীবনশঙ্কার ক্রান্তিলগ্নে ছায়ানট এবারের এ উৎসবের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- ‘উৎসব নয়, সময় এখন দুর্যোগ প্রতিরোধের’।

বিবৃতিতে সন্‌জীদা খাতুন বলেন, ‘পাকিস্তানি আমলের বৈরী পরিবেশে বাঙালির আপন সত্তার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আর মানবকল্যাণের ব্রত নিয়ে ১৯৬১ সালে ছায়ানটের জন্ম। এই সংগঠন আজন্মই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। লক্ষ্য অর্জনে ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতিবছর রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখের ভোরে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে আসছে এই সংগঠন। ১৯৭১ সালে দেশকে শত্রুমুক্ত করার সশস্ত্র সংগ্রামের সময় ছাড়া আর কখনও বন্ধ হয়নি রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখ উদযাপন।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বমানব আজ বিপর্যস্ত। বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করে না মানবজাতি। লড়াই চলছে, পাশাপাশি চলছে বিপন্ন মানবসমাজকে জাগিয়ে রাখার, বাঁচিয়ে রাখার অনন্ত প্রয়াস। এই জীবনযুদ্ধে মনোবল অটুট রাখা অনিবার্য। তাই নতুন বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানানো এখন আর উৎসব নয় বরং জীবনযুদ্ধ জয়ের শপথ। তাই পিছু না হটে নববর্ষ বরণে ছায়ানট আয়োজন করেছে উজ্জীবনী সুরবাণীর।

বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নবসজ্জার অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে পহেলা বৈশাখ ভোর সাতটা থেকে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কাছ থেকে সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এ অনুষ্ঠানের ফ্রেশ ফিড পাবে।

অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে সাম্প্রতিক নানা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের নির্বাচিত গান এবং বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ছায়ানট সভাপতি সন্‌জীদা খাতুনের সমাপনী কথন দিয়ে, যা বিটিভি ছাড়াও ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলেও সম্প্রচার হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যসহ দেশবাসীকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানান।

মঙ্গল শোভাযাত্রা :

প্রাণঘাতী করোনাসংক্রমণজনিত দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনও হচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে, ডিজিটাল মাধ্যমে। ১৯৮৯ সালে প্রথম বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। বাঙালির নববর্ষের এই মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইউনেস্কো বিশ্বসংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এ ব্যাপারে ভিডিওবার্তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, প্রতিবছর মঙ্গল শোভাযাত্রায় মানুষের মিলন ঘটলেও, এবার আমরা বিয়োগের আহ্বান জানিয়েছি। মানে সবাইকে ঘরে থাকতে এবং নিরাপদ থাকতে বলছি। কারণ এবারের ঘটনাপ্রবাহ সম্পূর্ণ বিপরীত। আমাদের এখন ঘরে থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তিনি জানান, এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার পোস্টারটি আন্তর্জালের মাধ্যমে ঘুরবে সারাদেশে, সারাবিশ্বে। শোভা পাবে রাজধানীর দেয়ালেও।

পোস্টারের নকশা সম্পর্কে নিসার হোসেন জানান, কালো জমিনের ওপর লাল, সাদা ও হলুদ রঙের বর্ণমালায় লেখা হয়েছে স্লোগান। সবার ওপরে ‘বৈশাখ ১৪২৭’ লেখার পর রক্তিম বর্ণমালায় লেখা হয়েছে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ ‘মানুষ ধ্বংস হতে পারে, কিন্তু মানুষ পরাজিত হয় না’। তার নিচে সাদা বর্ণমালায় ব্যক্ত করা হয়েছে বর্তমানের এই সংকট থেকে মুক্তির প্রত্যয়। এর পর বড় অংশজুড়ে দৃশ্যমান হয়েছে একটি বর্ণিল সরাচিত্র। যার নিচে লেখা আছে মূল স্লোগান, ‘মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।’

অন্যান্য আয়োজন :

এ বছর ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বাংলা বর্ষবরণের ডিজিটাল আয়োজন করছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। শিল্পীরা যার যার অবস্থান থেকে ফেসবুকে লাইভে যুক্ত হবেন ঐকতানে। সুরের ধারা ও চ্যানেল আইয়ের আয়োজনে সরাসরি সম্প্রচারিত ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠান এবার স্থগিত করা হয়েছে। এর বদলে ধারণ করা অনুষ্ঠান প্রচার করবে চ্যানেল আই। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গ্রুপ ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে বাংলা নতুন বছরকে বরণের নানা আয়োজন করেছে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয়, জেলা শহর, উপজেলা এবং গ্রামে-গ্রামেও এ বছর বাংলা নববর্ষের আয়োজন হবে ঘরে। ঘরেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেবে ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

6 ভিউ

Posted ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.