বুধবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

হাতির জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে কক্সবাজারের বনাঞ্চল

মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১
59 ভিউ
হাতির জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে কক্সবাজারের বনাঞ্চল

বিশেষ প্রতিবেদক :: শুধু নবেম্বর মাসেই দেশে আটটি হাতি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচটি কক্সবাজার ও চট্রগ্রামে। মানুষের লোভের কারণে ধ্বংস হচ্ছে বন্যহাতির আবাসস্থল। বন উজাড় করে তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি, বনায়ন প্রকল্পের নামে বিনষ্ট হচ্ছে ইকোসিস্টেম। কক্সসবাজারে রোহিঙ্গা বসতির ফলে ধ্বংস হয়েছে পাহাড়ে হাতি চলাচলের করিডর। বাধ্য হয়ে হাতি নেমে আসছে লোকালয়ে। আর বৈদ্যুতিক বেড়ি স্থাপন করে এবং গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে এই বন্যপ্রাণীকে। তবে কি হাতির জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে কক্সবাজারের বনাঞ্চল? এ প্রশ্ন বন ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।

একের পর এক হাতি হত্যার পেছনে দেশজুড়ে সংঘবদ্ধ চক্রের উপস্থিতি রয়েছে, বলছেন পরিবেশবাদীরা। রোহিঙ্গাদের কারণে পাহাড় কেটে ও বন উজাড় করে হাতির আবাসস্থল নষ্ট, বৈদ্যুতিক ফাঁদ ও গুলি করে নির্মমভাবে হাতি হত্যা করা হচ্ছে। সারাদেশে সুপরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষিত লোকজন দিয়েই একের পর এক হাতি নিধন চলছে, এমনই মনে করছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

তারা বলছেন, এ সবের লক্ষ্য হাতি রক্ষার নামে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে তহবিল আনা এবং প্রকল্প বানানো। এ সব লুটপাটের জন্য বারবার হাতি হত্যা করে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে হাতি রক্ষায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই বললেই চলে।

গত ৬ বছরে বাংলাদেশে ৪০টি হাতির তথ্য দিয়েছে ‘সেইভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ’ নামের একটি পরিবেশবাদী সংগঠন। তারা হাতি হত্যার তারিখ ও ঘটনাস্থলও প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ঢাকার তিন বাসিন্দা হাতি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট করেছেন।

সেইভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশের তথ্যমতে, চলতি বছরে সর্বশেষ গত রবিবার কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজাঘাট বিট এলাকায় একটি হাতি হত্যা করা হয়। বৈদ্যুতিক ফাঁদে ফেলে হাতিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। বাচ্চা হাতিটি বৈদ্যুতিক শকে আহত হয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে গড়িয়ে নিচে পড়ে মারা যায়।

২১ নবেম্বর কক্সবাজারের ইসলামাবাদে বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী হাতি শাবকের মৃত্যু হয়। ১৩ নবেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের ছড়াখোলা গ্রামে বৈদ্যুতিক ফাঁদে একটি, ৯ নবেম্বর চকরিয়ার খুটাখালীর বনে একটি হাতিকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

সেপ্টেম্বরে টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পানিরছড়া ও ঝিরিখান থেকে দুই হাতির মৃতদেহ উদ্ধার করে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে তাদের মৃত্যু হয়। আগস্টে রামুর খুনিয়া পালং এলাকায় হাতি হত্যা করে টুকরো করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। সেইভ দ্যা নেচারের তথ্যনুযায়ী ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৪০টি হাতিকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে চলতি বছরেই ১৫টি। এর মধ্যে ১০টি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া কক্সবাজার ও বাঁশখালীতে। তবে হাতি হত্যায় কিছু নৃশংসতা খুবই অবাক করেছে সচেতন মানুষদের। চলতি বছরে ১৩ মার্চ টেকনাফের বাহারছড়ায় একটি স্ত্রী হাতিকে গুলি করে হত্যা করে ক্ষতস্থান ঢেকে দেয়া হয়েছিল গাছের ডাল কেটে।

সেইভ দ্যা নেচার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আনম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, হাতি রক্ষায় সরকারী কোন পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। প্রকল্পের নামে বিপুল অর্থ লোপাট হচ্ছে। প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে হাতিরক্ষা সম্ভব নয়। সামাজিক বনায়নের নামে যে সব গাছ রোপণ করা হচ্ছে, তা ইকোসিস্টেম ধ্বংস করছে। সারাদেশে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশিক্ষিত লোক দিয়েই হাতি হত্যা করছে। স্থানীয়রা জড়িত থাকলেও এদের পেছনে রয়েছে চক্রটি। তারা আন্তর্জাতিক তহবিল আনার জন্য প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করছে। এছাড়া যে সব করিডর দিয়ে হাতি প্রবেশ করত সেখানে বসতি হয়েছে। কক্সবাজারে করিডরগুলো ধ্বংস করেছে সুপরিকল্পিতভাবে।

করিডর ধ্বংস, সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই : যে পথ ধরে হাতির পাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আসা-যাওয়া করে, তাকে করিডর বলা হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১২টি করিডর দিয়ে হাতি চলাচল এক সময় করলেও রোহিঙ্গা বসতির জন্য তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি করিডর রক্ষায় একটি রিট করেছেন ঢাকার তিন বাসিন্দা। তারা হলেন- আদনান আজাদ, ফারজানা ইয়াসমিন ও খান ফাতিম হাসান। জনস্বার্থে এ রিটটি করেন তারা। রিটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন সচিব, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষকসহ ২০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। বন অধিদফতরের চিহ্নিত হাতি চলাচলের নির্ধারিত ১২টি করিডরকে সংরক্ষিত ঘোষণা করার জন্য এই রিট দাখিল করা হয়।

আইনে যা আছে : হাতি হত্যার অপরাধে ন্যূনতম এক বছর থেকে সবোঁচ্চ সাত বছরের কারাদ-ের বিধান আছে। এমনকি এটিকে আইনে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেছে। এই অপরাধে জরিমানা ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা।

ফসল রক্ষার জন্য হাতি হত্যার বিষয়টি মূল নয় জানিয়ে বন বিভাগের তৎকালীন এক কর্মকর্তা জানান, ফসল রক্ষায় হাতি মারা হচ্ছে বিষয়টা পুরোপুরি সঠিক নয়। হাতি কলাগাছ না পেয়ে ধানক্ষেতে নেমে পথ হারিয়ে মানুষের নির্যাতনে মারা যাচ্ছে। আবার একটি চক্র হাতি মারছে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের উদ্দেশ্যে।

দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বনাঞ্চল সঙ্কুচিত এবং পরিবেশ প্রতিকূল হয়ে গেছে। যেখানে বন ছিল সেখানে গড়ে উঠছে মানুষের বসতি। চুনতি অভয়ারণের‌্য মাঝে রাস্তা হচ্ছে। হাতিগুলো বাধ্য হয়ে লোকালয়ে নেমে আসছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১২টি করিডর আছে, তবে টেকনাফ ও উখিয়ার করিডরগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে রোহিঙ্গাদের কারণে।

ব্যবস্থা নেবে বিদ্যুত বিভাগ : বৈদ্যুতিক তারের বেড়ায় শক লেগে হাতির মৃত্যুর ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি হাতি হত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন।

59 ভিউ

Posted ২:১৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com