সোমবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

হেফাজতকে কি ভয় পায় আওয়ামী লীগ? হেফাজতেই আশা দেখছে বিএনপি

মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১
152 ভিউ
হেফাজতকে কি ভয় পায় আওয়ামী লীগ? হেফাজতেই আশা দেখছে বিএনপি

কক্সবাংলা ডটকম(৩০ মার্চ ) :: টানা ১২ বছর ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার এটি অনন্য একটি রেকর্ড। এই সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়েছে। পাশাপাশি রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ একটি সংযত অবস্থান তৈরি করেছে। ফলে বিরোধী দল নেই বললেই চলে। বিএনপি সংকুচিত হতে হতে নিঃশেষিত প্রায়। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো শক্তিহীন।

রাজনীতিতে হরতাল, ভাঙচুর, নাশকতা কঠোরভাবে দমন করেছে আওয়ামী লীগ। ফলে দলটি জনসমর্থনও পেয়েছে। বাংলাদেশ গত এক যুগে হরতালের নামে জ্বালাও পোড়াও, ভাঙচুরের সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে এসেছে। কিন্তু সেই বাংলাদেশেই হঠাৎ করে হেফাজতের তাণ্ডব, চোখ রাঙানি লক্ষ্যণীয়। তারা সরকারের চোখে চোখ রেখে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, সরকারকে বিভিন্ন দাবি দাওয়া দিচ্ছে, সরকারের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

কিন্তু অনান্য রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে সরকার যতটা কঠোর, যত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়, হেফাজতের ব্যাপারে ততটাই নমনীয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে স্লথ গতি লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক মহলে কথা উঠেছে আওয়ামী লীগ কি তাহলে হেফাজতকে ভয় পায়?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক কারণে হেফাজতের সাথে আওয়ামী লীগ সরাসরি বিরোধে যেতে চায় না বরং হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ আগ্রহী। হেফাজতকে কেন আওয়ামী লীগ ভয় পায় এটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পাঁচটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন।

১. আওয়ামী লীগকে ইসলাম বিরোধী বলে প্রচারণার ভয়: হেফাজত একটি উগ্র মৌলবাদী সংগঠন। হেফাজতের সঙ্গে যদি আওয়ামী লীগ সরাসির কঠোর অবস্থানে যায় তাহলে আওয়ামী লীগ ৭৫ পরবর্তী তাদের মুসলিম বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছিলো সেটি আবার ঘটানোর একটি সুযোগ তৈরি হবে, যেটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি নেতিবাচক প্রচারণা হতে পারে। কাজেই ইসলাম বিরোধী রাজনৈতিক দলের তকমা এড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগ হেফাজতকে সমীহ করে চলে।

২. সংঘবদ্ধ উগ্র শক্তি: হেফাজত এই মুহূর্তে বাংলাদেশে একটি সংঘবদ্ধ উগ্র শক্তি। সারাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলে। এই শিক্ষার্থীরা দরিদ্র হওয়ার কারণে তারা শিক্ষকদের কথামত সবকিছু করে। তাদেরকে যেভাবে প্রশিক্ষণ-শিক্ষা দেয়া হয় তাকে নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, বিবেক-বুদ্ধিকে বন্ধক রেখে শিক্ষকদের নির্দেশে সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকে। এই সংঘবদ্ধ উগ্র শক্তিকে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে একটু ভয় পায় বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।

৩. বিএনপি সুযোগ পাবে: হেফাজতকে ভয় পাওয়া বা সমীহ করার প্রধান কারণ হলো বিএনপি। বিশ্লেষকরা মনে করে হেফাজতের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে এই ঘটনা থেকে বিএনপি লাভবান হতে পারে। বিএনপি এই সুযোগ নিয়ে হেফাজতকে যেমন ব্যবহার করবে তেমনি নিজেরাও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। আর এ কারণেই এখনই হেফাজতের সঙ্গে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ব্যাপারে সরকারের মধ্যে একটি ভিন্ন মত আছে বলেই বিভিন্ন মহল মনে করে।

৪. আওয়ামী লীগের মধ্যে হেফাজতের লোক আছে: সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রচুর মৌলবাদী লোকজন ঘাঁটি গেড়েছে বলেই মনের করেন বিশ্লেষকরা। এরা সরকারের নীতি এবং কৌশলে হেফাজত বিরোধী অবস্থানকে বাদ রাখছে। এদের কারণেই সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যেতে পারছে না বরং এরা সরকারকে হেফাজতের ব্যাপারে ভুল তথ্য দিচ্ছে। যে কারণে হেফাজতকে সরকার সমীহ করছে।

৫. নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বিপদ: হেফাজত যদি শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায় তাহলে সরকার বিপদে পড়তে পারে এমন ধারণা সরকারের কারও কারও মধ্যে আছে। আর যে কারণেই সরকার হেফাজতকে সমিহ করে চলছে বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। তবে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মুক্তচিন্তার মানুষ মনে করে হেফাজতের সাথে সরকারের ফায়সালা হওয়া উচিৎ এখনই কারণ হেফাজতকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হলে এটি আওয়ামী লীগের জন্যই ভয়ঙ্কর হবে।

হেফাজতেই আশা দেখছে বিএনপি

হেফাজতেই আশা দেখছে বিএনপি

ছোটবেলার পাঠ্যপুস্তকে একজন দরিদ্র কৃষকের গল্প সবাই জানে। সেই গল্পের দরিদ্র কৃষকের নাম হলো গনি মিয়া। গল্পের শুরুটা ছিল এরকম, গনি মিয়ার নিজের জমি নাই অন্যের জমিতে চাষ করে। বিএনপির রাজনীতি এখন গনি মিয়ার মতো হয়েছে। বিএনপি নিজেদের কোনো ইস্যু নেই। অন্যের ইস্যুর পিছনে বিএনপির ছোটে এবং অন্যের আলোতে আলোকিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপির রাজনীতিকে চাঁদের সঙ্গে তুলনা করেন। চাঁদের যেমন নিজস্ব আলো নেই, সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়। তেমনি বিএনপি অন্যান্য দল, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ইস্যুতে উত্তেজনা অনুভব করে এবং সেটি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করে। এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কিংবা ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনেও বিএনপিকে গনি মিয়ার মতো আন্দোলনের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এবার হেফাজতের আন্দোলনের পরও বিএনপি রাজপথে দেখা যাচ্ছে। যদিও বিএনপি প্রকাশ্যে বলছে হেফাজতের তাদের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু হেফাজতই যেন বিএনপিকে আশা দেখাচ্ছে। হেফাজতের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে বিএনপি যেন মাঠে নামার চেষ্টা করছে।

হেফাজত দেশের যে তিনটি জায়গায় নাশকতা এবং তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করেছিল সেই তিনটি জায়গা ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চট্টগ্রাম। ঢাকায় হেফাজতের তাণ্ডবের পথ ধরে বিএনপি`র নেতা নিপুন রায় চৌধুরী বাস পোড়ানোর জন্য কর্মীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই অডিও শুনলে বোঝা যায় যে তিনি ওই কর্মীকে লোভ দেখিয়েছিলেন যে এই বার্তাটি তিনি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেবেন। চট্টগ্রামে গতকাল হেফাজতের দেখানো পথে বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত এর নেতৃত্বে তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করা হয়।

শেষ পর্যন্ত ডা. শাহাদাত গ্রেপ্তার হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে এখন বিএনপি এবং হেফাজত একাকার হয়ে গেছে। বিএনপিকে এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বলা হচ্ছে হেফাজতের পানি সরবরাহকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান দুটি দলের মধ্যে একটি হলো বিএনপি। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে আছে দলটি। কিন্তু ক্ষমতার বাইরে থাকার মাধ্যমে তারা যে সুযোগটি পেয়েছিল সেই সুযোগটি তারা কাজে লাগাতে পারেনি।

বরং ক্ষমতার গর্ভে জন্ম নেয়া এই দলটি ক্ষমতার বাইরে থেকে ক্ষীণ হতে হতে বিলুপ্তপ্রায় হয়ে গেছে। এখন বেঁচে থাকার চেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন দলের উপর নির্ভর করতে হয় এ দলটিকে। এখন যেমন হেফাজত আন্দোলন শুরু করেছে তখন বিএনপি মনে করছে এই আন্দোলন থেকে তারা হয়তো লাভবান হবে। কিন্তু হেফাজতের এই আন্দোলন থেকে বিএনপি কিভাবে লাভবান হবে বা হেফাজতের এই আন্দোলন বিএনপিতে গতি আনবে কিনা সে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম হাস্যরস এবং কৌতুক রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, হেফাজতকে উস্কে দেওয়া এবং হেফাজতকে রাজনীতিকরণের ক্ষেত্রে বিএনপি`র একটা ভূমিকা রয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সেই সময় বিএনপির নেতারা হেফাজতের সমাবেশ স্থল শাপলা চত্বরে গিয়েছিলেন, হেফাজতের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছিলেন, সমর্থন জানিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাহলো বিএনপি সবসময়ই স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদদ দেয়, পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং তাদের সঙ্গে একটি সম্পর্ক রয়েছে।

এখন হেফাজত যখন নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে তাণ্ডব চালালো তখন বিএনপি যেন তাদেরকে এক ধরনের মৌন সমর্থন দিল। বিএনপির নেতারাও স্বীকার করেন যে তারাও সরকারকে হটাতে চান। কিন্তু সরকার হটানোর মত শক্তি সামর্থ্য তাদের নাই। আর এই কারণেই তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠনের উপর ভর করেন, বিভিন্ন ইস্যুর উপর নির্ভর করেন। এখন যেমন হেফাজতেই তারা আশার আলো দেখছেন।

152 ভিউ

Posted ১০:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com