মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

হেফাজতের কৌশলেই ঘায়েল করেছে সরকার

বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১
69 ভিউ
হেফাজতের কৌশলেই ঘায়েল করেছে সরকার

কক্সবাংলা ডটকম(৬ মে) :: হেফাজতের কৌশল ছিলো খুব সুস্পষ্ট। তারা সরকারের সাথে একদিকে আলাপ-আলোচনা করতো, সমঝোতার নাটক করতো সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে প্রশাসনকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেখাতো যে তারা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অন্যদিকে সরকারকে ঘায়েল করার জন্য সংঘবদ্ধ হতো এবং রাজপথে যেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতো। ড্রইংরুমের সরকারের প্রশংসা করা, বাইরে গিয়ে সরকারের বিষোদগার করা এবং লোকজনকে উস্কে দেওয়া। এটাই ছিলো ২০১৩ সালের পর থেকে হেফাজতের কৌশল। ভেতরে ভেতরে হেফাজত সরকারের কাছ থেকে ব্যাপক সুবিধা নিয়েছে। হেফাজত যত সুবিধা নিয়েছে কোন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে এত সুবিধা নিতে পারেনি।

সেই হেফাজতই আবার প্রকাশ্যে সরকারকে ধমক দিয়েছে, হুমকি দিয়েছে এবং কৌশলে তাদের দাবি আদায় করে নিয়েছে। ২০১৩ সালের পর হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকার অভিযান বন্ধ করেছে, পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করেছে, হেফাজতের কথায় কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে, বিপুল পরিমাণ অর্থ গেছে মাদ্রাসাগুলোতে এবং ফুলে-ফেঁপে উঠেছে হেফাজতে তথাকথিত নেতারা। আর এই কৌশলেই সরকারকে কোণঠাসা এবং বিব্রত করেছিল হেফাজত।

হেফাজতের নেতারা ঘোষণা দিয়েছিল যে, নরেন্দ্র মোদির সফর উপলক্ষে তার সীমিত আকারে আন্দোলন করবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস থেকে বায়তুল মোকাররমে যেতে যদি তারা হুংকার দিয়েছিল এবং যেকোনো মূল্যে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর প্রতিহত করা হবে বলে উদ্ধত্যপূর্ণ উচ্চারণ করেছিল। ভেতরে সুন্দর পরিবেশে রাখা আর বাইরে সরকারকে সমালোচনার ধোলাই দেওয়া, এটিই ছিলো হেফাজতের কৌশল। এখন সরকার ৮ বছর পর যেন হেফাজতের কৌশলেই হেফাজতকে ঘায়েল করেছে।

একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় নৈশ বৈঠক হচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসার সামনে রাত-বেরাতে তারা ঘুরঘুর করছে এবং রাত ১০টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। আর অন্যদিকে হেফাজতের যারা তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত, সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে গ্রেপ্তার আওতায় আনা হচ্ছে। সর্বশেষ গ্রেফতার করা হয়েছে হেফাজতের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজীকে।

এই গ্রেফতারটি করা হলো যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হেফাজতের নেতারা বৈঠক করলেন এবং বৈঠক করে তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি, হয়রানি বন্ধ করার জন্য চার দফা দাবি উপস্থাপন করলো। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের সাথে সুন্দরভাবে বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন সজ্জন ব্যক্তি। কাজে তিনি কোনো কটু কথা তাদেরকে বলবেন এমনটি বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার কোনো কারণ নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদেরকে চা-পানির আপ্যায়ন করেছেন কিনা তাও আমরা জানি না এবং জোটের নেতারাও সে সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি। তবে এই বৈঠক নিয়ে হেফাজতের সন্তুষ্টির ঢেকুর কাটতে না কাটতেই তাদের আর একজন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে।

অর্থাৎ সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি। হেফাজত যেমন সরকারবিরোধী প্রকাশ্য অবস্থান থেকে সরে না এসে গোপনে সরকারকে সাথে আলাপ-আলোচনা করতো ঠিক তেমনি সরকার এখন গোপনে হেফাজতের সাথে আলাপ-আলোচনা করছে এবং প্রকাশ্যে হেফাজতবিরোধী অবস্থানকে অটুট রেখেছে। হেফাজতের যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, যারা তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে। আর এই কৌশল হেফাজত ঘায়েল হয়ে গেছে। একদিকে তারা বিভ্রান্ত। তারা মনে করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। নিশ্চয়ই সমস্যার সমাধান হবে।

আবার আগের মতো সরকার তাদেরকে আদর-আপ্যায়ন করবে। সেজন্য তারা কোন আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করতেও দ্বিধান্বিত। আবার অন্যদিকে সরকার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আন্দোলনের সাথে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সরকার হেফাজতের ওই কৌশল রপ্ত করেছে কিনা জানা যায়নি। তবে হেফাজত যে কৌশল নিয়ে এতদিন সরকারের সঙ্গে খেলছিল সেই কৌশলটি হেফাজতকে এখন ফিরিয়ে দিচ্ছে সরকার।

ঈদের পর ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় হেফাজত

গতরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা দেখা করেছেন। এদের মধ্যে ছিলেন হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজী, মাওলানা ইয়াহিয়া সহ আরো কয়েকজন। এটি অন্য বৈঠকগুলোর মতো গতানুগতিক বৈঠক ছিলনা।

তারা সেই বৈঠকে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের নেতাদের গ্রেপ্তার হয়রানি বন্ধ করা সহ চার দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। এটির মাধ্যমে একটি অবস্থান সুস্পষ্ট করলো যে, তারা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বরং মামুনুল হকের গ্রেপ্তার, জুনায়েদ বাবুনগরীর নির্বাসিত জীবনযাপন এবং অনেক নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার পরে হেফাজত এখনো চোখ রাঙাচ্ছে।

আর এই বৈঠকের সূত্র ধরেই একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানাচ্ছে যে, হেফাজত ঈদের পরে একটি বড় ধরনের শোডাউন এবং আন্দোলনের পরিকল্পনা করে এগুচ্ছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, ঈদের পর লকডাউন তুলে নিলেই আটক গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে হেফাজত একটি মহাসমাবেশ করতে পারে এবং এই মহাসমাবেশকে ঘিরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টির একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যেমন পরিকল্পনা ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত করেছিল ঠিক একই রকম একটি পরিকল্পনার জন্য শক্তি সঞ্চয় করছে। আর এই শক্তি সঞ্চয়ের জন্য হেফাজতের কর্মীরা অর্থাৎ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যেন সাহস পায় এই জন্যই ঘনঘন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করানো হচ্ছে।

হেফাজতের যারা বর্তমানে মুক্ত নেতা আছেন তারা এটি প্রমাণের চেষ্টা করছেন যে হেফাজত শেষ হয়ে যায়নি, হেফাজত এখনো শক্তিশালী আছে এবং সরকারের সাথে দেনদরবার করার মতো ক্ষমতা হেফাজতের রয়েছে। সে কারণেই গত ২০ এপ্রিল, ২ মে এবং গতকালও হেফাজতের নেতৃবৃন্দ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

একাধিক সূত্রগুলো বলছে যে, হেফাজতের নেতারা গ্রেফতার হওয়ার পর হেফাজত দুটো কৌশল গ্রহণ করেছে। একটি কৌশল হলো- সরকারের সাথে যে কোন উপায়ে একটি সমঝোতা স্থাপন করা। যেন সরকার তাদের উপর যে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করেছিলেন সেটি বন্ধ করে এবং জুনায়েদ বাবুনগরী, নুরুল ইসলাম জিহাদীর মতো শীর্ষ নেতারা যেন মুক্ত থাকেন। সরকারের সঙ্গে আগের ঘনিষ্ঠতার আবহাওয়া তারা ফিরিয়ে আনতে চাইছে। অপর কৌশল হলো- ভিতরে ভিতরে তারা আবার সংগঠিত হচ্ছে। নতুন করে হেফাজত সারাদেশে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং হেফাজতের অন্যান্যদের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হেফাজতের একজন নেতা বলেছেন যে, এখন আন্দোলনের কোন বাস্তব অবস্থা নেই। কারণ রমজান মাস। রমজান মাসে হেফাজতের শিক্ষার্থীরা কোন আন্দোলন সংগ্রামে যাবে না। আবার কওমি মাদ্রাসাগুলো বন্ধ। সেজন্য হেফাজতের এখন কৌশলটি খুব সুস্পষ্ট। তারা সরকারের কাছে সাথে একটা সম্পর্ক করে, আবেদন নিবেদন করে কওমি মাদ্রাসা আগে খুলে নিতে চায়। কওমি মাদ্রাসা খুলে নেওয়ার পরেই মামুনুল হক সহ হেফাজতের যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দিতে চায়।

ওই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা আবার একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। এজন্য হেফাজতের নেতারা বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় বলছেন যে, অপেক্ষা করুন, ঈদ যাক, লকডাউন তুলে নেওয়া হোক, আমরা কী করি দেখেন। এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, হেফাজত একটি ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সেই পরিকল্পনা বন্ধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যে হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকারের যে কঠোর অবস্থান, সেই অবস্থানকে আরো কঠোর করা।

69 ভিউ

Posted ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com