সোমবার ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

হেফাজতের নানা ইস্যুতে সরকারের ভিন্ন কৌশল

বুধবার, ০৭ এপ্রিল ২০২১
45 ভিউ
হেফাজতের নানা ইস্যুতে সরকারের ভিন্ন কৌশল

কক্সবাংলা ডটকম(৬ এপ্রিল) :: রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে সরকার হেফাজতে ইসলামকে দুর্বল করতে চায়৷ পাশাপাশি গ্রেপ্তারসহ অন্য বিষয় নিয়ে ভাবছেন তারা৷ আর মামুনুল হক ইস্যুতে হেফাজতকে অনেকটাই চাপে ফেলা গেছে বলে মনে করেন সরকারের নীতি নির্ধারকের৷

আওয়ামীলীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে নেতা-কর্মীদের এখন হেফাজতের ‘সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড’ নিয়ে প্রচার প্রচারণায় জোর দিতে বলা হয়েছে৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর ও সফর পরবর্তী হেফাজতে ‘নেতিবাচক’ কার্যক্রম এবং সর্বশেষ হেফাজত নেতা মামুনুল হক ইস্যু ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়ছে৷

এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও মূলধারার গণমাধ্যমের সহায়তার জন্যও বলা হয়েছে৷ সরকার মনে করে, এটা করে হেফাজতকে এবার চাপে ফেলা যাবে৷ চাপের মুখে ফেলে বর্তমান ও পুরনো মামলাগুলো কাজে লাগানো হবে৷ সব ঘটনায়ই মামলা আছে৷ আর তদন্ত পর্যায়ে শীর্ষ নেতাদের নাম এলে তাদের ছাড়া হবে না৷

চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও গত ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদে নাশকতার ব্যাপারেও মামলা হয়েছে৷ সাম্প্রতিক ঘটনায় এই প্রথম ঢাকার মামলায় মামুনুল হকসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হলো৷ আসামিদের মধ্যে আরো আছেন হেফাজত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা লোকমান হাবিব, নাসির উদ্দিন মনির, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া৷

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টের ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলেও মামুনুল হককে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার না করা কৌশলগত দিক দিয়ে ভালো হয়েছে বলে মনে করেন সরকারের লোকজন৷ কারণ গ্রেপ্তার করলে উল্টো ফল হতে পারতো৷ গ্রেপ্তার না করে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা তাকে ‘ছিনিয়ে নেয়ায়’ এখন হেফাজতই ঝামেলায় পড়েছে বলে তারা মনে করেন৷

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনার পর নানাভাবে হেফাজতকে সরকার বাগে আনতে পারলেও এবার হেফাজতের নতুন নেতৃত্বের কারণে পুরনো কৌশল কাজে আসছে না বলে মনে করেন সরকারের লোকজন৷ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুর পর তাদের সাথে বৈঠক করেও কাজ হয়নি৷ তারা মনে করেন, হেফাজত একটার পর একটা ইস্যু মাঠে আনছে৷ তাই এবার কৌশলও ভিন্ন৷

এরই মধ্যে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে হেফাজত ও মামুনুল হককে নিয়ে কথা বলেছেন৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সংসদে এব্যাপারে সব তথ্য তাদের কাছে থাকার কথা বলেছেন৷ আর সংসদেই বাবুনগরী ও মামুনুলকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে৷

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এই বিষয়ে বলেন, ‘‘মামলা একটা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে যারা ধর্মের নামে অধর্ম এবং নাশকতা ও জ্বালাও পোড়াও করেছে, এর সাথে যারা জড়িত, যারা নির্দেশনা দিয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা হবে৷ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে৷ মামলাই শেষ নয়, আইনের আওতায় এনে এদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে৷”

তিনি বলেন, ‘‘শুধু তাই নয়, এই ধরনের রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে যারা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করবে তাদেরকে কঠোরভাবে দমনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷”

তিনি বলেন, ‘‘এখন করোনার কারণে আমরা এইসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মাঠে সভা- সমাবেশ করতে পারছি না৷ করোনা কমলে সেটা করা হবে৷ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে করা হচ্ছে৷ তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব কাজ হয় না৷”

আওয়ামী লীগের শরীক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু মনে করেন, হেফাজতের ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও প্রশাসন যথাযযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি৷ তাই তিনি ভুল ধরিয়ে দিয়ে বাবুনগরী ও মামুনুলকে সংসদে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন৷

তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিস্ক্রিয়তা পালন করেছে৷ হুকুমদাতা বাবুনগরী ও মামুনুল হকসহ আরো যে নেতারা আছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে৷”

তার মতে, ‘‘হেফাজত পাকিস্তানপন্থি এবং বিএনপির ভাড়াটে খেলোয়াড়৷ তারা প্রতিটি ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে৷ শাপলা চত্বরে হেফাজত যে ভয়াবহ তাণ্ডব করেছিল সেরকমই কিছু একটা তারা করতে চাইছে৷ তখন যেভাবে দমন করা হয়েছিল এখনও তাদের দমন করার ক্ষমতা সরকারের আছে৷’

হেফাজতে ইসলামও মনে করে, সরকার তাদের এখন চাপে ফেলতে চাইছে৷ হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘‘সরকার হেফাজতের কর্মসূচিতে ভীত হয়ে মামলা, হামলা ও হয়রানি করে হেফাজতকে দমন করতে চাইছে৷ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা অভিভাবকসুলভ আচরণ আশা করি৷ কিন্তু তিনি সংসদে সবার প্রধানমন্ত্রী নয়, আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রীর মতো কথা বলেছেন৷ যা আমরা আশা করিনি৷”

বাবুরগরী এবং মামুনুল হককে গ্রেপ্তারে হাসানুল হক ইনুর দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘তার মত জনবিচ্ছিন্ন লোকের কথায় কোনো ক্ষতি হবে না৷”

তিনি দাবি করেন, ‘‘সরকারে সাথে হেফাজতের আগেও কোনো যোগাযোগ বা সুসম্পর্ক ছিলোনা, এখনো নাই৷ কওমী সনদের স্বীকৃতি দিয়ে তারা কওমী মাদ্রাসাকে কিনতে চেয়েছিল৷ সরকার যদি এই হয়রানি, হামলা, মামলা বন্ধ না করে তাহলে হেফাজতকে তা মোকাবেলার চিন্তা করতে হবে৷ আলেম- ওলামারা তাদের সাংবিধানিক ও ঈমানি দায়িত্ব পালন করবেন৷”

45 ভিউ

Posted ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৭ এপ্রিল ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com