সোমবার ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

হেফাজতে পদ হারানোর ভয়ে বাবুনগরী,গ্রেফতার আতঙ্কে মামুনুল

শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১
143 ভিউ
হেফাজতে পদ হারানোর ভয়ে বাবুনগরী,গ্রেফতার আতঙ্কে মামুনুল

কক্সবাংলা ডটকম(১০ এপ্রিল) :: হেফাজতের প্রয়াত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফির মৃত্যুর পর থেকে হেফাজতে আধিপত্য বাড়তে থাকে জুনায়েদ বাবুগরীর। কিন্তু তখন থেকেই অভিযোগ ওঠে বিএনপি-জামায়াতের একটি বড় সমর্থন এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে জুনায়েদ বাবুনগরীর পেছনে। শুরুতে ঢালাও অভিযোগ মনে হলেও আস্তে আস্তে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যখন বিরোধীতা করে হেফাজত তখন থেকেই প্রমাণ হতে থাকে তাদের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থন রয়েছে। আর এটির বড় প্রমাণ হলো হেফাজতের সবচেয়ে বড় ঘাটি হচ্ছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা। কিন্তু সেখানে জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য থাকলেও সেটির বিরোধীতা করেনি তারা।

একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি-জামায়াতের ভারত বিরোধী অবস্থানের কথা সবারই জানা। বাংলাদেশে স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্ত্রী ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন বাংলাদেশ সফরে আসছেন তখন এর বিরোধীতায় বিএনপি-জামায়াত নেপথ্যে থেকে হেফাজতকে সামনে আনে তাদের অনুগত বাবুনগরী ও মামুনুল হককে দিয়ে। এরপর সরাদেশে তাণ্ডব চালায় হেফাজত। বাড়িঘর, সরকারি স্থাপনাসহ বিভিন্ন জায়গায় ধ্বংসলীলা চালায় তারা।

এই পরিস্থিতির মধ্যে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। হেফাজত নেতাদের ব্যাংকিং হিসাব তলব করা হয়। আর এরপর থেকে বাবুনগরী ও মামুনুল হকের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। অনেক আলেম-ওলামা বাবুনগরী-মামুনুলের নেতৃত্ব মানতে চাইছে না। আর এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নেতৃত্বে ধরে রাখতে মরিয়া বাবুনগরী-মামুনুল। কিন্তু তাদের এই দুর্দিনে কাউকে পাশে পাচ্ছেন না এই দুই নেতা এমনটাই জানিয়েছেন এদের অনুসারীদের একটি সূত্র।

বাবুনগরী-মামুনুল হকের ঘনিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, বাবুনগরী-মামুনুল এখন তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ওপরে বিরক্ত। তাদের এই দুর্দিনে তারা কাউকেউ পাশে পাচ্ছেন না। আর এই পরিস্থিতিতে যদি তাদের নেতৃত্ব চলে যায় তাহলে তাদের সামনে কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে সেটা তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন। এ কারণেই তারা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছেন। বিশেষ করে গুঞ্জন উঠেছে মামুনুল হক গ্রেফতার হতে পারেন। আর তিনি যদি গ্রেফতার হন তাহলে তিনি হয়তো বাবুনগরীর ব্যাপারে মুখ খুলতে পারেন।

এর ফলে বাবুনগরীও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনও হেফাজত নিয়ে এতো কঠোর অবস্থানে যাননি। আর এটি নিয়ে হেফাজত নেতারা অনেকটাই ভীতির মধ্যে আছেন। যদিও নেতারা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি কঠোর অবস্থান নেয়ার জন্য হেফাজত নিজেরাই দায়ী। আর এসব কারণে মামুনুল হক গ্রেফতার আতঙ্কে আছেন। আর বাবুনগরী আছেন নিজের পদ চলে গেলে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন সেটি নিয়ে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হেফাজত আসকাড়া পেয়ে এখন মৌমাছির চাকে ঢিল দিয়েছে। তাই এখন তাদের চারদিকের পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। একদিকে সরকার, একদিকে দলীয় নেতাকর্মীরা, একদিকে জণগণ আর একদিকে নিজেদের দুর্নীতির আমলনামা। যেহেতু মাদ্রাসাগুলো অনেকের অনুদানে চলে তাই এসব জায়গায় অর্থ তছরুপ হওয়ার বিষয়টি আসবেই। সরকার যদি এসব দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে তাহলে অনেক হেফাজত নেতার পদ যাবে এবং মাদ্রাসার চাকরিও হারাতে হতে পারে অনেকের।

এসব কারণে আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে হেফাজত নেতাদের এবং তারা এর জন্য বাবুনগরী-মামুনুলকে দায়ী করছেন। এই আতঙ্ক হঠাৎ করেই এসেছে কারণ সরকার একটা সুযোগের অপেক্ষায় থেকে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলা দিয়েছে। আর এখন সেই সুযোগ নেয়ার সময় এসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে এই পরিস্থিতিতে বাবুনগরী-মামুনুল কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন, কীভাবে দলের নেতৃত্ব ধরে রাখবে সেটােই দেখার বিষয়।

এবার মামুনুলের শাস্তি দাবি করছে হেফাজত

এবার মামুনুলের শাস্তি দাবি করছে হেফাজত 

হেফাজতের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরমে উঠে গেছে। বিশেষ করে মামুনুলের বিতর্কিত নানা রকম বক্তব্য নিয়ে হেফাজতের মধ্যে তুলকালাম চলছে। হেফাজতের একাধিক নেতা বলছে, মামুনুল ইসলামের শরীয়া বিরোধী কথাবার্তা বলছে। নিজেকে বাঁচাতে তিনি ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, এটা মেনে নেয়া যায় না। আর এর প্রেক্ষিতে হেফাজতের একাধিক শীর্ষ নেতা মামুনুলের শাস্তি দাবি করেছেন দলের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীর কাছে। জুনায়েদ বাবুনগরী এখন কি করবেন সেটাই দেখার বিষয়।

একাধিক সূত্র বলছে যে, বিভিন্ন কারণে মামুনুলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে হেফাজতের আলেম এবং নেতারা। প্রথমত যখন ২৬ এবং ২৭ মার্চে এতোবড় ঘটনা ঘটে গেল, অধিকাংশ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে, মারা গেছে অন্তত ১২ জন (হেফাজতে হিসাব মতে)। সেই পরিস্থিতিতে মামুনুল কিভাবে প্রমোদবিহারে গেলেন। দ্বিতীয়ত মামুনুল সেখানে কেন মিথ্যা কথা বললেন। হেফাজতের একজন আলেম বলেছেন, মিথ্যা বলা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।

এটার মধ্যে কোনো যদি, কিন্তু, ইত্যাদি নেই। মামুনুল যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেই থাকেন তাহলে সেটার ব্যাপারে তিনি অটল থাকতেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি যখন তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফোন করে এ বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন, তখন সুস্পষ্ট ভাবে তিনি ইসলামবিরোধী কাজ করেছেন বলে মনে করেন হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা। তৃতীয়ত প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এটিও ইসলামের শরীয়া সম্মত নয় বলে মনে করছেন হেফাজতের নেতারা।

তবে সর্বশেষ গতকাল ফেসবুকে লাইভে এসে মামুনুল হক যে সমস্ত কথাবার্তা বলেছেন তাতে হেফাজত এবং আলেম সমাজ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে বলে হেফাজতের নেতারা মনে করছেন। হেফাজতের একাধিক নেতা বলেছেন যে, মামুনুল হক ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। স্ত্রীকে খুশি করার জন্য সীমিত আকারে সত্য গোপন করা যায়, এ ধরনের বক্তব্য কখনই ইসলাম সমর্থন করে না বলে তাঁরা মনে করছেন। আর এই সমস্ত প্রেক্ষিতে মামুনুল হকের শাস্তি দাবি করা হচ্ছে হেফাজতের পক্ষ থেকে।

তবে হেফাজতের একাধিক সূত্র বলছে, মামুনুল হক যেহেতু একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা এবং তার কর্মীবাহিনী আছে এটা বাবুনগরীর কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এ কারণেই মামুনুলের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বাবুনগরী নমনীয়। তাছাড়া হেফাজতের অন্য একটি অংশ মনে করছে যে এখন যদি মামুনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হয় তাহলে প্রকারান্তে হেফাজতই দুর্বল হয়ে যাবে এবং হেফাজত সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ ধারণা তৈরি হবে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, মামুনুল হকের সর্মথকরা মনে করছে যে, এখন মামুনুল হক যাই বলুন না কেন সেটাকে হেফাজতের পক্ষ থেকে সমর্থন করতে হবে এবং তার পাশে দাঁড়াতে হবে। আর তা না হলে হেফাজতই বিতর্কের মুখে পড়বে এবং হেফাজতের কর্মকাণ্ড নিয়েই জনমনে নানা রকম প্রশ্ন উঠবে। আর এ কারণেই জুনায়েদ বাবুনগরী মামুনুলের শাস্তি দাবি করা হলেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনায় হেফাজত টালমাটাল অবস্থায় পৌঁছে গেছে এবং এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত হেফাজতের ভাঙন যে অনিবার্য সেটি নিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

143 ভিউ

Posted ৩:৫৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com