
কক্সবাংলা ডটকম(১২ নভেম্বর) :: কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও পদক্ষেপ সত্ত্বেও একধরনের আতঙ্ক বিরাজ কাজ করছে প্রায় সবখানে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা এবং অন্যদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধপূর্ণ অবস্থা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।
মঙ্গলবারও আলাদা আলাদা সমাবেশে জামায়াতের আমির, বিএনপি মহাসচিবসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা জুলাই সনদ, গণভোটসহ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরে এই প্রথম বড়সড় রাজনৈতিক ঝড়ের মুখোমুখি হতে চলেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও তাদের সমর্থক জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি এবং বিএনপি।
দেড় বছরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং অর্থনৈতিক মন্দায় মানুষ ক্ষুব্ধ, তার উপর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামি লিগ ১১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিন আন্দোলনের ডাক দেওয়ায় তেতে উঠেছে পরিস্থিতি।
গত সোমবার সকালে ঢাকার মিরপুরে ইউনূসের বাড়ি ও গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রধান দপ্তর এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের প্রতিষ্ঠান ‘প্রবর্তনা’-র সামনে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
প্রায় একই সময়ে ধানমন্ডি-সহ আরও কয়েক জায়গায় অন্তত ৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্ক ছড়ায়।
সোমবার ভোর ও সন্ধ্যা রাতে আলাদা রাস্তায় ৩টি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ভোরে মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুরে আধ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। রাতে দেওয়া হয়েছে ধানমন্ডিতে।
ঢাকার বাইরে গাছ কেটে হাইওয়ে অবরোধের খবরও মিলেছে। ইউনূস প্রশাসনের প্রবল নিষ্পেষণের মুখে প্রায় ছিন্ন-ভিন্ন আওয়ামি লিগের তৃণমূল-সংগঠন এ ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সপ্তাহখানেক আগেও হয়ত সরকার ভাবেনি।
চাপের মুখে বিএনপি ও জামায়াতও তাদের সাম্প্রতিক দূরত্ব পাশে রেখে আওয়ামি লিগের ‘লকডাউন’ ঠেকাতে মাঠে থাকার কর্মসূচি নিয়েছে।
আওয়ামি লিগের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গল ও বুধবার ঢাকার বাইরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনার মামলার রায়ের দিন-তারিখ ঘোষণার দিন ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি তথা হরতাল পালন করা হবে।
এই কর্মসূচির ডাক আসতেই এ বার মাঠে নেমে পড়েন হাজার-হাজার কর্মী। জেলা-উপজেলা স্তরে মিছিলের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
এই অবস্থায় গত তিন দিনে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার কর্মী ঢাকায় এসে জড়ো হয়েছেন।
এক আওয়ামি লিগ নেতা দাবি করেন, ১৩ নভেম্বরের আগেই ঢাকার বাইরে থেকে লাখখানেক কর্মী এসে জড়ো হবেন।
পুলিশ গ্রেপ্তার করতে এলে আওয়ামি লিগের কর্মীরা নিজেরাই হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন হাতকড়া পরানোর জন্য। প্রিজন ভ্যানে উঠে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছেন ‘জয়বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’। কোথাও কাফনের কাপড় পরে মিছিল করছেন আওয়ামি কর্মীরা।
সোমবার থেকে রাজধানী ঢাকা-সহ সারাদেশে বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি। যে কোনও ধরনের হিংসা ঠেকাতে মাঠে বাড়তি পুলিশ, বিজিবি, র্যাবও মোতায়েন করা হয়েছে।
এ দিনই সরকারি বিবৃতিতে ঢাকার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
গত দু’দিন ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পরে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ইদগাহ ময়দানে সাধারণের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্রের খবর— আওয়ামি লিগের এই ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতি পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে সরকারের কয়েকটি মহলের।
কিছুদিন আগে প্রশিক্ষণের কথা বলে ৫০ শতাংশ সেনাসদস্যকে ক্যান্টনমেন্টে ফিরিয়ে নেওয়া প্রকারান্তরে আওয়ামি লিগকে উৎসাহিত করেছে।
ইতিমধ্যে, গত শনিবার উচ্চ স্তরের পুলিশ কর্তারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আওয়ামি লিগকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।
কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কড়া হাতে আন্দোলন মোকাবিলার নির্দেশ পৌঁছনোর পরে বাহিনীর সাধারণ সদস্যরা বেঁকে বসেছেন। অনেকের মতে, এটা সরকারের জন্য বুমেরাং হতে পারে।
ঢাকার পুলিশ কমিশনার সাজ্জাত আলি ইনচার্জ ছাড়া দায়িত্বরত পুলিশদের মোবাইল ফোন ব্যবহার না-করার নির্দেশ দিয়েছেন।

Posted ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta