
কক্সবাংলা ডটকম(৩ আগস্ট) :: ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিতে বিএনপির হাইকমান্ডকে মত দিয়েছেন দলটির তৃণমূল নেতারা। শুক্রবার (৩ আগস্ট) বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তৃণমূল বিএনপি নেতারা জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়াপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কিছুই জানানো হয়নি।
মতবিনিময়ে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারস খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন জোরদার, আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য তৈরি এবং সংগঠনকে কিভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে নিজদের মতামত ব্যক্ত করেছেন তৃণমূলের নেতারা।
পাশাপাশি সিলেট নির্বাচনের প্রসঙ্গে টেনে জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ৩০ জন নেতা তাদের নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। তাদের কেউ কেউ ২০-দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেয়ারও দাবি জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি- জামায়াতের কারণে আমাদের জাতীয় ঐক্য হচ্ছে না। এখানে জামায়াতই সবচেয়ে বড় বাধা। যে কারণে বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, আ স ম রব এবং মাহমুদুর রহমান মান্নারা জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না।’
‘নেত্রীর মুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে ভাবতে হবে। এটা আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বলেছি। তারা সহমত প্রকাশ করেছেন। নোট করেছেন’ যোগ করেন তৃণমূলের এই নেতা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।
এছাড়া দিনাজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ জেড এম রেজাওনুল হক, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি মইনুল হাসান সাদিকসহ তৃণমূলের নেতারা এই মতবিনিময়ে অংশ নেন।
জানতে চাইলে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, নেত্রীর মুক্তি, সিলেট নির্বাচন, সংগঠনকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সেই বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি। সিনিয়র নেতারা তা নোট করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে উপজেলা, পৌরসভা পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেয়ার জন্যও অনুরোধ করেছি।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ক্লোজড ডোর মিটিং (রুদ্ধদ্বার বৈঠক) করেছি। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই।’
এছাড়া বিকালে খুলনা ও বরিশালের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শনিবার সকালে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগ এবং বিকালে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা।
কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।
সকালের সেশনের পর বেলা সাড়ে ৩টা থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ২২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি হাইকমান্ডের বৈঠক শুরু হয়।

Posted ১:৩০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৪ আগস্ট ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta