বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : জড়িত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র

সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭
242 ভিউ
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : জড়িত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র

কক্সবাংলা ডটকম(২১ আগস্ট) :: ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ চার দলীয় জোট সরকারের প্রভাবশালী কজন নেতা জড়িত। আর এতে সহায়তা করে রাষ্ট্রীয় কয়েকটি সংস্থার অসাধু কিছু কর্মকর্তা। বাস্তবায়নে ছিলো দেশি-বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। এসব তথ্য উঠে এসেছে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে। দ্রুত এ মামলার রায় আসবে বলে আশাবাদী রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী।

একুশে আগস্ট ২০০৪। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভা। প্রধান অতিথি দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার বক্তব্য শুরু এক পর্যায়ে শুরু হয় নজিরবিহীন গ্রেনেড হামলা।

১২ জঙ্গি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নেয় সমাবেশ মঞ্চের তিন দিকে। বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে শুরু হওয়া এই হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমান শেখ হাসিনার দেহরক্ষী মাহবুবসহ নিহত হন ২৪ জন আর আহত শেখ হাসিনা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ দলের তিনশর বেশি নেতাকর্মী।

এই হামলা পরিকল্পনা হয় হাওয়া ভবনে। উদ্দেশ্য শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যা। পরামর্শক ছিলেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ হারিছ চৌধুরী জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ। জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সাবেক সংসদ সদস্য কায়কোবাদ ও কমিশনার আরিফ।

পরে বেশ কদফা বৈঠক হয় মিন্টু রোড, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে। হামলা চালানোর দায়িত্বে ছিল জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ ও পাকিস্তানের হরকাতুল মুজাহিদীন। সহযোগিতা করেন সে সময়ের বেশ কজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

১৮ই আগস্ট চূড়ান্ত বৈঠক হয় ধানমন্ডিতে। অংশ নেন বিএনপির দুই মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টু, জঙ্গি নেতা আহসান উল্লাহ কাজল, মওলানা আবু তাহের, মওলানা তাজউদ্দিন ও মুফতি হান্নান। হামলায় সহযোগিতার দায়িত্ব দেয়া হয় কমিশনার আরিফ আর হানিফ পরিবহনের মালিক- হানিফের ওপর। মওলানা তাজউদ্দিন নেন গ্রেনেড সরবরাহের দায়িত্ব। একাজে তাকে সহায়তা করে কাশ্মীরের নাগরিক জঙ্গি মাজেদ ভাট।

এই মাজেদই পাকিস্তান থেকে গ্রেনেড এনে হানিফ পরিবহনের মাধ্যমে পৌঁছে দেন ধানমন্ডির আবদুল সালাম পিন্টুর বাসায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ আগস্ট আবু জান্দাল ও কাজল ১৫টি গ্রেনেড নিয়ে আসে বাড্ডার মুফতি হান্নানের বাসায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে এ হামলার অর্থ আসে বিদেশি এক গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে।

শর্ষের মধ্যে ভূত ?

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ঐ দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে যুক্ত হয় আরও এক কলঙ্কময় অধ্যায়। সেই দিনের ঘটনায় অকালে ঝরে যায় ২৪টি তাজা প্রাণ। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন নেতাকর্মী। পরে আরও মারা যান ৮ জন। দীর্ঘ ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর প্রহর গোনে ২৪ আগস্ট মারা যান আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী আইভি রহমান।

এই তালিকায় আরো অছেন মোস্তাক আহম্মদ সেন্টু, শেখ হাসিনার দেহরক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রহমান, সবার প্রিয়মুখ আদাচাচা হিসাবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, হাসিনা মমতাজ রীনা, সুফিয়া বেগম, রিজিয়া বেগম, আমিনুল ইসলাম, রতন শিকদার, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, লিটন মুন্সী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাসউদ্দিন শিকদার, মোতালেব, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, আবুল কাসেম, আবদুর রহিম, জাহেদ আলী ও নাসিরউদ্দিন সর্দার।

দীর্ঘ ১৩ বছরেও শেষ হয়নি ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার বিচার। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের বিচারে দেখা দিয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। সেদিনের হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা অধীর আগ্রহ নিয়ে বিচারের রায় শোনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। লাশ, রক্তস্রোতের ভয়ঙ্কর স্মৃতি আর শরীরের ভেতরে স্থায়ী আবাস গড়া স্পিস্নন্টারের যন্ত্রণা আজও তাদের তাড়া করে ফিরছে। তাদের স্বপ্নভরা চোখে এখনো বিষাদের কালো ছায়া। আবার অনেকে জঘন্য এই ঘটনার বিচার না দেখেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

এ মামলার ৪৯১ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ২২৪ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বারবার তদন্ত, আসামির তালিকা পরিবর্তন ও দীর্ঘ স্বাক্ষ্য গ্রহণ বিলম্বের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ এজলাস দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে এ ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার বিচার চলছে।

কবে নাগাদ এ মামলার বিচার শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি কৌসুলি এ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল সরকারী গণমাধ্যম বাসসকে জানিয়েছেন, ‘দুইজন তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) জেরা সম্পন্ন হলেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেয়া হবে এবং এ জন্য ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে।

গত বছর ১৮ আগস্ট জাতীয় সংসদে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কমিটিকে জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ২২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া শেষ হয়েছে। আর দু’জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া বাকি। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হবে।

আওয়ামী লীগ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ একইদিন অপর এক আলোচনা সভায় বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর রক্তের মধ্যে কেউ যেন ক্ষমতায় যেতে না পারে, সেই জন্য ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হাওয়া ভবন থেকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। সেই বিচার কাজ খুব দ্রুত সমাপ্ত করা হবে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সিআইডি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা ২টি মামলার তদন্ত শেষে সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিআইডি পুলিশকে এ ঘটনার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। সিআইডি সিনিয়র এএসপি আব্দুল কাহহার আকন্দের নেতৃত্বে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরো ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।

এ মামলার মোট সাক্ষী ৪৯১ জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই মামলার  অন্যতম একজন সাক্ষী। এ মামলার অপর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১২ বছরে মাত্র ২২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখনও বাকি আছে ২৬৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা। মোট ৫২ জন আসামির মধ্যে এখনো পলাতক রয়েছে ১৯ জন। এদের মধ্যে আছে তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিস চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এমপি, সাবেক মন্ত্রী পিন্টুর ভাই তাইজউদ্দিন।

এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি ও সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, এ মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন তার আইনজীবীরা। তখন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। ওই রিটের সুরাহা হতে ৬৭ দিন সময় লাগে। এরপর মুফতি হান্নান আরও একবার হাইকোর্টে গেলে তখন আরো কিছুদিন সময় নষ্ট হয়। এসব কারণে মামলার কার্যক্রম শেষ হতে বিলম্ব হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আরো বলেন, আগের তদন্তে হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডগুলো উৎস, সরবরাহ, মজুদ ও বিতরণের বিষয়গুলো একেবারেই আসেনি। পরবর্তীতে যে তদন্ত হয়েছে তাতে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এখন ন্যায়বিচারের স্বার্থে যেসব সাক্ষীর জবানবন্দি না দিলেই নয়, সেসব সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর শুরু হয় তদন্ত। কিন্তু তৎকালীন জোট সরকার শুরু থেকেই মনগড়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সহায়তার জন্য আসা ব্রিটিশ গোয়েন্দা পুলিশ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) টিম ঢাকায় আসে। সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে দিক নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থা সিআইডিকে। কিন্তু সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে ঘটনার মূল হোতাদের আড়াল করে ঘটনার দায় চাপিয়ে দেয়া হয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর। গ্রেপ্তার করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী ও ওয়ার্ড কমিশনার মোখলেছসহ অনেকেকে। হোটেল কর্মচারী জর্জ মিয়াকে দিয়ে রচনা করা হয় নাটক। কিন্তু সে নাটক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মামলা তদন্তে নতুন মোড় নেয়। পরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। উন্মোচিত হতে থাকে ঘটনার আসল রহস্য। গ্রেপ্তার করা হয় জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ অনেককে। হুজি নেতা মুফতি হান্নানের গ্রেপ্তারের পরে ২১ আগস্ট ঘটনার সব রহস্য উন্মোচিত হয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় পেছনে কারাবন্দি মুফতি হান্নান, মুফতি মওলানা আব্দুস সালাম, আবু জান্দাল, মোরসালিন ও মুত্তাকিনসহ ভারত ও পাকিস্থানের শীর্ষ জঙ্গী নেতাদের হাত ছিলো। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জঙ্গী হামলায় অংশ নিয়েছিল।

ওই ঘটনায় শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে প্রায় দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে জীবনের কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। আহত হয়েছিলেন সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের অন্যতম কান্ডারী আব্দুর রাজ্জাক। তিনিও পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন বিচার না দেখেই। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে একরাশ হতাশা নিয়েই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে।

আহতদের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গ্রেনেডের অসংখ্য স্পিস্নন্টার নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন অনেকে। এদের মধ্যে কয়জন এই বর্বরোচিত গণহত্যার বিচার দেখে যেতে পারবেন তা নিয়ে তারা নিজেরাও হতাশায় বেদনা নিয়ে দিন গুনছেন। যারা পঙ্গু হয়ে মৃতপ্রায় তদের কষ্ট থাকবে সারাটা জীবন। আহত নগর মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাসিমা ও মাহবুবার মতো অনেক নেতাকর্মীকেই গ্রেনেড একেবারে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে সারাজীবনের জন্য। অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেই বেঁচে আছেন বলা যায়।

সরকারি কৌসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, চার্জশিটে অভিযুক্ত ৫২ জনের মধ্যে ১৯ জন পলাতক, ৮ জন জামিনে রয়েছে এবং বাকিরা বিভিন্ন কারাগারে রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ফাঁসিতে মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি আবদুল হান্নান কারাগারে রয়েছেন। এই মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহীদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক ৩ তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদ জামিনে রয়েছেন।

পলাতকদের মধ্যে তারেক রহমান রয়েছে লন্ডনে, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ব্যাংককে, হানিফ এন্টারপাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফ কলকাতা, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন আমেরিকায়, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার কানাডায়, বাবু ওরফে রাতুল বাবু ভারতে, আনিসুল মোরসালীন ও তার ভাই মহিবুল মুত্তাকিন ভারতের একটি কারগারে এবং মওলানা তাজুল ইসলাম দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

জঙ্গি নেতা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মওলানা আবু বর, ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর ও মওলানা লিটন ওরফ জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, ডিএমপি’র তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) ও ডেপুটি কমিমনার (দক্ষিণ) মো. ওবায়দুর রহমান এবং খান সৈয়দ হাসানও বিদেশে অবস্থান করছে। সূত্র জানায়, এদের অধিকাংশই রয়েছে পাকিস্তানে। তবে সাবেক অভিযুক্ত হারিছ চৌধুরীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পলাকতকদের মধ্যে মওলানা তাজউদ্দিন ও বাবু আটক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই।

এক যুগ পার হয়েও যুক্ত হয়েছে আরও একটি বছর। পেরিয়ে গেছে ১৩টি বছর। বিচারের বাণী কাঁদছে নীরবে,নিভৃতে। বহু প্রশ্ন রয়েছে। যেগুলোর উত্তর নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হচ্ছে, এই বিচারে বাধা কোথায়? এই ঘটনায়ও কী শর্ষের মধ্যে ভুত রয়েছে?

২১শে আগস্ট হামলা মামলার রায় শিগগিরই

আজ ২১শে আগস্ট। ১৩ বছর আগে এই দিনে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়।

সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু হয়। নিহত হন আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন। অল্পের জন্য শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দিনটি স্মরণে প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২৪ মিনিট নিরবতা এবং আলোর মিছিলের আয়োজন করে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠন। দ্রুত এই মামলার রায় ঘোষণা এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি করেন তারা।

২১ আগস্ট স্মরণে বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

242 ভিউ

Posted ১২:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com