বুধবার ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

৩৩ বছরেই বিশ্ব উদ্যোক্তা ফাহিমের উজ্জল ভবিষ্যত ঘাতকের এক ইলেকট্রিক করাতেই শেষ ?

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০
38 ভিউ
৩৩ বছরেই বিশ্ব উদ্যোক্তা ফাহিমের উজ্জল ভবিষ্যত ঘাতকের এক ইলেকট্রিক করাতেই শেষ ?

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ জুলাই) :: বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ (৩৩) নিউইয়র্ক নগরীর ম্যানহাটনে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। নিউইয়র্ক পুলিশ ফাহিমের নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকালে তার খণ্ড-বিখণ্ড মরদহে উদ্ধার করে। নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, ফাহিমের হাত-পা, মাথা সবকিছু বিচ্ছিন্ন ছিল। পাশেই ছিল একটি ইলেকট্রিক স (বিদ্যুচ্চালিত করাত)।

বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে ফাহিমের দেহ কয়েক টুকরা করা হয়েছে বলে নিউইয়র্কের পুলিশ জানায়। সন্দ্বীপের হরিসপুরের সন্তান নিউইয়র্ক সিটি সংলগ্ন পোকিপস্পিতে বসবাসরত আইবিএম’র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আহমেদের একমাত্র পুত্র ফাহিমকে নির্দয়ভাবে হত্যার সংবাদ গভীর বেদনার সাথে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশিত হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশ থেকে সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে এসে বসতি গড়া পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবি এবং উদ্যমী ও সফল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে মার্কিন ধারাতে বিশেষ একটি স্থান করে নিয়েছিলেন ফাহিম।

 

পুলিশ জানায়, ফাহিমের এপার্টমেন্টে প্রবেশের সিটিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঘাতকের সন্ধানে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সুপরিকল্পিতভাবে তাকে করাত দিয়ে টুকরা টুকরা করার পর খণ্ডিত অংশগুলো একটি থলিতে ভরার অপেক্ষায় ছিল এপার্টমেন্টের ভেতরেই। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গতবছর সোয়া দুই মিলিয়ন ডলারে এপার্টমেন্টটি ক্রয় করেন ফাহিম। করোনার মহামারির পুরো সময় তিনি ছিলেন মা-বাবার সাথে পোকিস্পিতে। কয়েকদিন আগে এসেছেন অভিজাতশ্রেণীর বিলাসবহুল এই এপার্টমেন্টে।

স্বল্পভাষী ফাহিমের মৃত্যু সংবাদে গোটা কমিউনিটি স্তম্ভিত, ব্যথিত এবং ক্ষুব্ধ। এই অল্প বয়সেই ফাহিমের সম্পদের পরিমাণ প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলার। তবুও কোন অহমিকা ছিল না তার। সাদামাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত ফাহিম ছিলেন অবিবাহিত। তার এই হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত তা উদঘাটনের দাবি উঠেছে কমিউনিটি এবং তরুণ উদ্যোক্তাগণের পক্ষ থেকে।

ম্যানহাটানের লোয়্যার ইস্ট সাইডে সাফোক স্ট্রিটের ইস্ট হিউস্টন স্ট্রিটের ওপর লাক্সারি এই এপার্টমেন্টের প্রবেশ পথের ভিডিও ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশের মুখপাত্র সার্জেন্ট কার্লোস নিয়েভেস জানান, ফাহিমের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা, বুক, দুই হাত ও দুই পা পাওয়া গেছে কক্ষের ভেতরেই।

 

 

পুলিশ আরও জানায়, ফাহিমের বোনের টেলিফোন পেয়ে ওই ভবনের সপ্তম তলায় ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টে যায় পুলিশ অফিসারেরা। আগেরদিন থেকেই ফাহিমের কোন সন্ধান না পেয়ে তার ছোটবোন উদ্বিগ্নচিত্তে ছুটে গিয়েছিলেন সেখানে। ভেতরে ভাইয়ের শিরশ্ছেদকৃত দেহাবশেষ দেখেই ফোন করেছিলেন ৯১১ এ।  ভিডিও ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ আরো জানায়, ১৩ জুলাই সোমবার বিকেলে ফাহিম লিফট দিয়ে ওই ভবনে ঢুকেছেন। তার পেছনেই ছিল স্যুট পরা এক ব্যক্তি, যার মাথায় টুপি, মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস ছিল। সাথে ছিল একটি স্যুটকেস। পুলিশের ধারনা, ফাহিম তার বাসায় প্রবেশের সময়ে আক্রান্ত হতে পারেন। এরপরই তাকে হয়তো নিস্তেজ করা হতে পারে।

পুলিশ অফিসার আরো উল্লেখ করেছেন যে, ঘাতক খুবই চালাক শ্রেণির। ফাহিমের খণ্ডিত দেহ প্লাস্টিকের ব্যাগে পাওয়া গেছে। করাতে তেমন রক্ত দেখেননি পুলিশ অফিসারেরা।

লিফটের একটি সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় ফাহিমের গতিবিধির কিছু ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে সর্বশেষ সোমবার তাকে লিফটের ভেতর দেখা গেছে। স্যুট, গ্লভস, হ্যাট এবং মাস্ক পরিহিত একটি লোককে ওই সময় তাকে অনুসরণ করতে দেখা যাচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, ফাহিম লিফট থেকে বের হওয়ার পরপরই তাকে গুলি করা হয়েছে অথবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। অপরাধীর কাছে একটি স্যুটকেসও ছিল। সে খুবই পেশাদার খুনি বলেই ধারণা করছে পুলিশ।

ফাহিম যে ভবনে থাকতেন সেটি খুব সম্প্রতি নির্মিত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। ভবনের পর্দা নামানো ছিল।

ফাহিমের এক প্রতিবেশী  ডেনিয়েল ফাউস্ট (৪০) বলেন, তিনি পুলিশ প্রহরায় দুই জন নারীকে ওই ভবন থেকে বের হতে দেখেছেন। এর মধ্যে একজন ছোট করে ছাঁটা কালো চুলের। আর দ্বিতীয়জন বেশ লম্বা এবং লম্বা চুল বিশিষ্ট। তাদের একেবারে উদভ্রান্তের মতো দেখাচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে তাদের বেরিয়ে যেতে দেখেছি। পুলিশ ওই ভবন থেকে একটি কুকুরও বের করে নিয়ে গেছে।

তার বন্ধু ও প্রতিবেশীরা বলছেন, সালেহকে কখনোই বলতে শোনা যায়নি তিনি কাউকে সন্দেহ করছেন বা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত আছেন। তাছাড়া এই এলাকায় ২০১৫ সালের পর একটিও খুন হয়নি।

মেধাবি ছাত্র ফাহিম নিউইয়র্কে একটি হাই স্কুলে পড়াবস্থায়ই ‘উইজ টিন’ নামক একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন। বেশ অর্থও আয় করতে সক্ষম হন। এরপর ম্যাসেচুসেটস স্টেটের বেন্টলি ইউনিভার্সিটি থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে কম্পিউটার ইনফরমেশন সিস্টেমে ব্যাচেলর করেন ফাহিম। উদ্ভাবনী মেধাসম্পন্ন ফাহিম আর পেছনে ফিরে না তাকিয়ে কিংবা কোন কোম্পানীতে চাকরির চেষ্টা না করেই মা-বাবার জন্মস্থান বাংলাদেশে ছুটেন। ২০১৫ সালে ঢাকায় মোটর সাইকেলে যাত্রী পরিবহনে ‘পাঠাও’ প্রযুক্তির প্রচলন ঘটান আরো দুই বন্ধুর সাথে। ঢাকায় অবস্থানকালেই এর আগে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘হ্যাকহাউজ’ নামক আরেকটি সংস্থা। বনানী মডেল টাউনে ছিল এর সদর দফতর।

‘পাঠাও’র প্রচলন রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন সিটিতে বিস্তৃত হয়। এক পর্যায়ে তা নেপালেও সম্প্রসারিত হয়েছে। এমনি অবস্থায় ঢাকা ছাড়েন ফাহিম। নাইজেরিয়ায় পরিচিত একজনের পার্টনারে মোটরবাইকে শেয়ারিং সার্ভিস হিসেবে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে লাগোসে চালু করেন ‘গোকাডা’। সেই ব্যবসা জমে উঠলেও নানাবিধ কারণে তা বছরখানেক পরই বন্ধ হয়ে গেছে বলে ফাহিমের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে একটি কোম্পানী স্থাপন করেছেন বলে ফাহিমের এক নিকটাত্মীয় জানান। সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি এ সংবাদ লেখার সময় পর্যন্ত। বিনোদনমূলক এ্যাপারেটাস কোম্পানী ‘কিকব্যাক’রও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফাহিম। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠাতা-পার্টনার ছিলেন এডভেঞ্চার ক্যাপিটলের।

 ফাহিম হত্যাকাণ্ডে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর শোক

পাঠাওয়ের ফাহিম হত্যাকাণ্ডে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর শোক

আজ এক শোকবাণীতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঠাওয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম ছিলেন অসাধারণ উদ্ভাবনী মেধা শক্তির অধিকারী।

মেধাবী এই উদ্ভাবক বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপস কম্পানি, ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা সমাধান করত দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন।

তার উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন অ্যাপস পাঠাও চালু করে রাজধানীর যাতায়াত সমস্যা সমাধান ও কর্মসংস্থানে কার্যকরী অবদান রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পলক বলেন, তার মৃত্যুতে আমরা প্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক মানের অসাধারণ মেধাশক্তির অধিকারী একজন তরুণ উদ্ভাবককে হারালাম। যার অভাব কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

38 ভিউ

Posted ২:৪২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.