বুধবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বুধবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

৫৭ ধারা বাতিলে সোচ্চার বাংলাদেশ

শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭
427 ভিউ
৫৭ ধারা বাতিলে সোচ্চার বাংলাদেশ

কক্সবাংলা ডটকম(২০ জুলাই) :: সরকার ৫৭ ধারার বিকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত ডিজিটাল সিকিইউরিটি অ্যাক্টের যে ১৯ ধারার কথা বলছে, এতে কার্যত কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য শুধু এক জায়গায়। শাস্তির পরিমাণ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ১৯ ধারায়। ফলে বিদ্যমান ৫৭ ধারা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, কার্যত এর অবসান খুব একটা হচ্ছে না।

বিশিষ্টজনেরা বলছেন, ৫৭ ধারার মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত রেশারেশির ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধারা বিলুপ্ত হওয়া জরুরি।

কেউ কেউ বলছেন, আইনটির পরিবর্তন দরকার। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও চান মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এ ধারার বিলুপ্তি হোক। একই সঙ্গে সরকার যে বিকল্প আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি যেন গণমাধ্যমবান্ধব হয়। নতুবা একদিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে অন্যদিকে সেই স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরা হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অবশ্যই কালাকানুন বাতিল করতে হবে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ঘোষণা দিয়ে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এখানে নানাভাবে লেখা প্রচার করা হয়। ব্ল্যাকমেইল করা হয়। মানুষের নামে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়। তাই সামাজাকি যোগাযোগমাধ্যমকেও একটা পৃথক নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

৫৭ ধারায় যা আছে : ২০০৬ সালের তথ্য প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি অ্যাক্ট) ৫৭ ধারায় ইলেকট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত অপরাধ ও এর দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ বা সমপ্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার মাধ্যমে মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা হানতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়, তা হলে তার এই কাজ হবে একটি অপরাধ।

’ এর উপধারা-১ এ বলা হয়েছে, ‘এর অধীন অপরাধ করলে তিনি অনধিক ১৪ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সঙ্গে অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যা রয়েছে : অন্যদিকে প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৬-এর ১৯ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,

(১) কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে দণ্ডবিধি (১৮৬০ সালের ৪৫ নম্বর আইন) এর ৪৯৯ ধারামতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানি ঘটাইলে তাহা হইবে একটি অপরাধ।

(২) কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কোনো কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা বা অশ্লীল এবং যাহা মানুষের মনকে বিকৃত ও দূষিত করে, মর্যাদাহানি ঘটায় বা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে, তাহা হইলে ইহা হইবে একটি অপরাধ।

(৩) কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সমপ্রচার করেন, যা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পাঠ করলে বা দেখলে বা শুনলে তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে তা হলে ইহা হইবে একটি অপরাধ।

’ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে প্রকৃত ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত বা ব্যবহূত কোনো পুস্তক, লেখা, অঙ্কন বা চিত্র অথবা যে কোনো উপসনালয়ের ওপর বা অভ্যন্তরে বা প্রতিমাসমূহ পরিবর্তনের জন্য ব্যবহূত যে কোনো প্রকার খোদাইকৃত, মিনাকৃত, চিত্রিত বা প্রকারান্তরে প্রতিচিত্রিত অথবা কোনো ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত কল্পমূর্তির ক্ষেত্রে উপধারা ৩ প্রযোজ্য হইবে না।

’ এ ধারায় শস্তির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি উপধারা (১), (২) অথবা (৩)-এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক দুই বৎসর কারাদণ্ডে এবং অন্যূন দুই মাস কারাদণ্ডে বা অনধিক দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসেই প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৬-এর ১৯ ধারা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ৯ জুলাই এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে জানানো হয়েছে, আগস্টের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশিষ্টজনেরা যা বললেন : এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য অধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান বলেন, ‘সবকিছুই হতে হবে একই আইনের মাধ্যমে। কেননা এখন সবকিছুই ডিজিটাল আর অনলাইন। এখন গণমাধ্যমে, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবই হয়ে গেছে অনলাইন। তবে ৫৭ ধারার কারণে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ জন্য আইনটি পরিবর্তন হওয়া জরুরি।

’ একদিকে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলছে, অন্যদিকে ৫৭ ধারার মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে—এতে সরকার স্ববিরোধী অবস্থানে রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তা হচ্ছে। এ জন্যই আইনটির পরিবর্তন দরকার। অপব্যবহার বন্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু ধারাটি বাতিলে বিলম্ব কেন হচ্ছে সেটাই বুঝতে পারছি না। এতে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। ’ এখন এই ৫৭ ধারা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত রেশারেশির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘আমি মনে করি এটা খুবই দুঃখজনক যে, প্রায় প্রতিদিনই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হচ্ছে। এসব মামলার অধিকাংশই হয়রানিমূলক। এতে মুক্ত গণমাধ্যম চর্চার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হচ্ছে। অথচ এ সরকার গত কয়েক বছরে অনেকগুলো পত্রিকা, টেলিভিশন আর রেডিও অনুমোদন দিয়েছে। এতে গণমাধ্যমে কাজের সুযোগ বেড়েছে। সেই সঙ্গে সাংবাদিক হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে। এ জন্য আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা অবশ্যই বাতিল হওয়া দরকার। কেননা সংবিধানেও মত প্রকাশের অধিকারের কথা পরিষ্কারভাবে বলা রয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে যে আইন করা হচ্ছে, সেখানেও ৫৭ ধারার মতো বিষয়গুলো রাখা হচ্ছে—এটা গণমাধ্যমের জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক হতে পারে না। একদিকে সরকার বলছে, আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি। এ জন্য পত্রিকা, টেলিভিশনের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বা ডিজিটাল সিকিউরটি অ্যাক্টের ১৯ ও ২০ ধারায় যা রাখা হচ্ছে, এটা সরকারের দ্বৈত নীতির বহিঃপ্রকাশ, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ’

তিনি বলেন, ‘এটা খুবই নিন্দনীয়। আমি মনে করি পুরো বিষয়টাকে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ ধরনের একটি আইন করার পক্রিয়া চলছিল। কিন্তু সে দেশের উচ্চ আদালত তা হতে দেননি। ফলে আমাদের এখানেও এসব বিষয় আরও ভেবে দেখা দরকার। এ সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ফলে শিগগিরই ৫৭ ধারার অপব্যবহার বন্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এখানে আরেকটা বিষয় হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর গণমাধ্যমকে একসঙ্গে বিচার করা যাবে না। দুইটার জন্য পৃথক আইন হওয়া দরকার। একই আইন দিয়ে এ দুই প্রতিষ্ঠানকে বিচার করা ঠিক হবে না। এতে মুক্ত গণমাধ্যম চর্চা হুমকির মুখে পড়বে।

’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘৫৭ ধারা বাতিল হওয়া খুবই জরুরি। কেননা এর অপব্যবহার হচ্ছে। এতে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এর প্রধান ভিটকিম হচ্ছেন সাংবাদিকরা। এটা মানা যায় না। মানা সম্ভব না। এখানে কোনো সুরক্ষা নেই। এর যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। যে কোনো আইনে গ্যারান্টি থাকতে হয় যে এর মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হবে না। কিন্তু ৫৭ ধারায় সেটা নেই। আইন হতে হবে উদার এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন। অথচ ৫৭ ধারা হচ্ছে একটি কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রণমূলক ও কর্তৃত্ববাদী ধারা। এটা হওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর গণমাধ্যমকে এক চোখে দেখা উচিত নয়। দুটি ভিন্ন বিষয়। দুটির মাধ্যমেই মানহানি হতে পারে। এখানে দেখতে হবে কোন মাধ্যমে মানহানি হয়েছে এবং বিচারটাও হতে হবে সেভাবেই।

’ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম বলেন, ‘আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার মূল সমস্যা হলো, এ ধারার মাধ্যমে লঘু পাপে গুরু দণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এতে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে, যা মুক্ত গণমাধ্যম চর্চার অন্তরায়। আবার শোনা যাচ্ছে, নতুন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টেও একই বিধান রাখা হচ্ছে। এটা নিন্দনীয়। এটা নতুন বোতলে পুরনো মদ খাওয়ানোর মতো। নাগরিকদের সুরক্ষা হয় এমন আইনই হওয়া দরকার। কিন্তু যে আইন নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা করতে পারে না, সে আইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ’

427 ভিউ

Posted ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.