শুক্রবার ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

৭২ বছর পেরিয়েও রাজনীতিতে দাপুটে আওয়ামী লীগ

বুধবার, ২৩ জুন ২০২১
70 ভিউ
৭২ বছর পেরিয়েও রাজনীতিতে দাপুটে আওয়ামী লীগ

কক্সবাংলা ডটকম(২২ জুন) :: দেশের পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ৭২ বছর পূর্ণ করেও এখনও দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করে যাচ্ছে।

দীর্ঘ সময় পাড়ি দিয়ে দলটির ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবার করোনাকালে পালিত হবে সীমিত পরিসরে।

পাকিস্তান আমলে স্বাধীকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ অবস্থান নেয়া দলটি আজকের এই অবস্থানে আসা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দাঁড় করান রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার ও পর্যবেক্ষকরা।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন ভবনে জন্ম হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের। পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের রাখা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

সে সময় প্রতাপশালী মুসলিম লীগের সঙ্গে লড়াই করে দলটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধের পর জাসদ, এরপর জিয়াউর রহমানের সেনাশাসন, পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সেনাশাসন এরপর বিএনপির সঙ্গে লড়াই, প্রতিযোগিতা করে আজকের অবস্থানে এসেছে দলটি।

এক কালের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা আজ নিভু নিভু, ৯০ দশকের পর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিও অনেকটাই নিষ্প্রভ। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ আপাতদৃষ্টিতে অপরাজেয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে অগণতান্ত্রিক শাসন কায়েমের অভিযোগও আনা হচ্ছে, যদিও তা উড়িয়ে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল।

আন্দোলনের ‘সেরা’

বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত যত বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে, সবগুলোর নেতৃত্বই এসেছে আওয়ামী লীগ থেকে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দলটিও আওয়ামী লীগ।

স্বাধীন বাংলাদেশে সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানো, ৯০ দশকে বিএনপি সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা, ২০০৭ সালে একদলীয় নির্বাচন ঠেকিয়ে দেয়ার সাফল্য আছে দলটির।

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পাঁচ বছর টিকে থাকা, পর পর তিন বার ক্ষমতায় আসা, টানা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় টিকে থাকার রেকর্ডও আওয়ামী লীগের।

২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার শুরু করে। এরই মধ্যে শীর্ষ অপরাধীদের সাজা কার্যকরও করা হয়েছে। বাকিদের বিচার চলমান।

তবে আজকের এ পর্যায়ে আসতে নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরোতে হয়েছে দলটিকে। বহুবার ভাঙনের মুখেও পড়েছে দলটি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন সামরিক শাসক নিশ্চিহ্ন করে ফেলার চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগকে। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলের হাল ধরলে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরে আসে দলটি।

কী বলছেন নেতারা

দলের ইতিহাস বলতে গিয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অপর নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে যে নির্বাচন, সেখানে অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগ জয়লাভ করে এবং মুসলিম লীগের তৎকালীন সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকার গঠন করেন।

‘কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বক্ষণে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দীকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং তার স্থলে খাজা নাজিমুদ্দিনকে অভিষিক্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, মুসলিম লীগের কমিটি না ভেঙে হঠাৎ করে স্বঘোষিত সভাপতি হয়ে গেলেন মাওলানা আকরম খাঁ। তার কাছে যখন সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া পাকিস্তানের তরুণ কর্মীরা সদস্য সংগ্রহের বই আনতে গেলেন, তখন তিনি তা দিতে অস্বীকার করলেন সোহরাওয়ার্দী ভীতির কারণ। তখন থেকেই গোলমালের সূত্রপাত।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে সোহরাওয়ার্দী সাহেব ঢাকায় আসেন। তখন তিনি পরামর্শ দিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য বিরোধী দল প্রয়োজন। তোমরা দল গঠন করো। আমিও পশ্চিম পাকিস্তানে সেইভাবে কাজ শুরু করেছি। নামেরও সাজেসন দিলেন।

‘তখন ঢাকায় ১৫৫ মোগলটুলি ছিল মুসলিম লীগের একটি শাখা অফিস। তখন সেই অফিসকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহীরা কাজ পরিচালনা করতেন। এখান থেকেই ভাষা আন্দোলন থেকে অন্যান্য আন্দোলনের তারা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

‘পরে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৯৪৯ এর ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে কর্মিসম্মেলন ডাকা হয় এবং সেখান থেকেই মওলানা ভাসানীকে সভাপতি ও শামসুল হক সাহেবকে সাধারণ সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই থেকেই যাত্রা শুরু। পরে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন, যার মূল নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যই আওয়ামী লীগের সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে সে লক্ষ্য পুরণ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজ থেকে ৭২ বছর আগে ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। আজকে ভাবতে ভালো লাগে বঙ্গবন্ধু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার লক্ষ্যই ছিল স্বাধীনতা।

‘বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা, যিনি বলেছিলেন পাকিস্তান বাঙালিদের জন্য হয়নি। একদিন বাংলার ভাগ্যনিয়ন্তা বাঙালিদেরকেই হতে হবে। এ লক্ষ্য সামনে নিয়েই তিনি সংগ্রাম করেছেন। তিনি প্রথমে নিজেকে, তারপর দেশকে, তারপরে তার যে নীতি ও আদর্শ সেটাকে প্রস্তুত করেছেন। তিনি অনেকবার, ১৩ বছর কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, কিন্তু কোনদিন মাথা নত করেননি। তিনি যে লক্ষ্য নিয়ে আরম্ভ করেছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড, সে লক্ষ্য তিনি পূরণ করেছেন।’

ছয় দফা আন্দোলনের সাফল্য ভিত

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে শুরুতে আওয়ামী লীগ তার পূর্ববর্তী সংগঠন মুসলিম লীগের আদর্শেই পরিচালিত হয়েছে। পরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের বিষয়গুলো সামনে এলে গণমুখী আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে সময় আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, তার দুই বছর আগে পাকিস্তান হলো। যারা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করলেন, তারা পাকিস্তান আন্দোলনের সামনের সারির নেতা ছিলেন। এরপর মুসলিম লীগের ভেতরে গণতন্ত্রায়নের দাবিতে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন।

‘তখন মুসলিম লীগ ঢাকায় নিয়ন্ত্রণ করা হতো নবাববাড়ি থেকে। তারা এর বিরুদ্ধে জনগণের মুসলিম লীগ বানাতে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ বানালেন। এটা মূলত মওলানা ভাসানীর উদ্যোগ, তার সাথে এখানকার তরুণ নেতারাও ছিলেন। করাচিতে সোহরাওয়ার্দী বানালেন জিন্নাহ আওয়ামী লীগ। তারা পাকিস্তান ও মুসলিম লীগের রাজনীতিরই লিগেসিটা বহন করছিলেন।’

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পরে ধীরে ধীরে তাদের একটা রিয়েলাইজেশন হয়, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের, যে পূর্ব বাংলা বঞ্চিত হচ্ছে। তারপর আওয়ামী লীগের মধ্যেও পরিবর্তন হয়, তারা সেই পাকিস্তানবাদ ছেড়ে গণমুখী হয় এবং পরে স্বায়ত্বশাসনের আন্দোলনে যোগ দেয়। পরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছয় দফার মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসনের আন্দোলন দানা বাঁধে।

এই গবেষকের মতে, ছয় দফার সাফল্যই আওয়ামী লীগকে সাহসী করে তোলে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছয় দফা নিয়ে এগুতে থাকে এবং জনগণের ম্যান্ডেট তাদের অনেক বেশি আস্থাশীল করে তোলে।

‘পুরো পর্বটি জুড়েই আমরা বলতে পারি, পূর্ব বাংলার প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল এবং ৭০ সালের পর আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠলেন পূর্ব বাংলার একচ্ছত্র নেতা। তাকে মানুষ ভালোবেসে নাম দিলো বঙ্গবন্ধু।’

‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দলটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা, বিশ্বের মুসলমানদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব জোরদার এবং বিশ্ব শান্তির পথকে প্রশস্ত করা।

জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শত প্রতিকূলতার পরেও দলকে মজবুত ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে আমাদের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শত প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আজ অত্যন্ত মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে।

‘আওয়ামী লীগের লক্ষ্যই হলো দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ এবং বাঙালিদের বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দলের মধ্যে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও গণতন্ত্রের চর্চা অটুট থাকলে কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’

এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বানও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ঘটনাক্রম তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালির মুক্তি এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ শে জুন এক সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

‘দলটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা, বিশ্বের মুসলমানদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব জোরদার এবং বিশ্ব শান্তির পথকে প্রশস্ত করা।

‘কারাবন্দি অবস্থায় তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিব নবগঠিত সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য ১৯৫৩ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় সম্মেলনেই তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।’

বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি মুক্তির সনদ রচনা এবং ৬৯-এর গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসন অবসানের প্রতিশ্রুতি অর্জন দলটিকে মুক্তিকামী মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শেখ মুজিবের নেতৃত্বের জন্য আওয়ামী লীগকে ৭০-এর নির্বাচনে পূর্ব-বাংলার মানুষ তাদের মুক্তির ম্যান্ডেট দিয়েছিল। জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জনগণের এ রায়কে উপেক্ষা করে, শুরু করে প্রহসন। ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্য ছয় দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ গ্রহণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি নিধন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পরপরই জান্তা সরকার জাতির পিতাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে প্রেরণ করে।

‘তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণশক্তি। তার অবিচল নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মরণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যায়।’

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। ১২ জানুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধানে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর করেন।

‘১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে পুনরায় সরকার গঠন করে। জাতির পিতার আহ্বানে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। অতি অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় এবং মাত্র সাড়ে তিন বছরেই স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী চক্র আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করে। বিদেশে থাকায় আমি এবং আমার বোন শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যাই।

‘২৬ সেপ্টেম্বর দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে। ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। মোস্তাক-জিয়া চক্র খুনিদের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তারা মার্শাল ল জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে পাকিস্তানি কায়দায় দেশ শাসন করতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদেশে থাকা অবস্থায় ৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। প্রায় ছয় বছর রিফিউজি জীবন শেষে ৮১ সালের ১৭ মে আমি দেশে ফিরে এসে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করি।

‘সারা দেশে প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা চিত্র স্বচক্ষে অবলোকন করি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সংগঠিত করি। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে স্বৈরাচারী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পরাজিত করে সরকার গঠন করে। একই বছরে ১২ নভেম্বর ‘দায়মুক্ত অধ্যাদেশ বাতিল আইন-১৯৯৬’ সংসদে পাশ করে। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়।’

দেশ গঠনে আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে বারো বছরে আমরা উন্নয়নের সকল সূচকে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছি। অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছি। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

‘আমরা দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। আমাদের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর। ৯৯ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সড়ক, রেল, বিমান ও নৌ ও সমুদ্র যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি। দেশকে আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এ রূপান্তরিত করেছি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়েছে।

‘বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছি। রূপকল্প-২০২১ এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি।’

সরকারে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষে আমরা অঙ্গীকার করেছি কেউ গৃহহীন থাকবে না। শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেব। আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছি।

‘২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ গ্রহণ করেছি।’

70 ভিউ

Posted ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com