বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকরিয়ায় যৌথবাহিনীর সাথে ইটভাটা শ্রমিক-জনতার সংঘর্ষ : গাড়ি ভাংচুর, আহত ২০

🗓 শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

👁️ ১৫৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

👁️ ১৫৩ বার দেখা হয়েছে

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়া হয়ে ফাইতং এলাকায় ইটভাটায় অভিযানে যাওয়ার পথে কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কায় শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, র‌্যাব-১৫, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড় ভেঙে যেতে চাইলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। ভাংচুর করা হয়েছে বিজিবি, র‌্যাব-১৫ ও স্কেভেটর বহনকারী ট্রাক।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটজন শ্রমিককে আটক করে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মানিকপুর সড়কের বাদশারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ান উল ইসলাম ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. জমির উদ্দিনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‌্যা-১৫, পুলিশ ও বিজিবি’র সদস্যদের নিয়ে লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় ইটভাটায় অভিযানে জন্য বের হয়।

যাওয়ায় পথে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের বাদশারটেক এলাকায় হাজারো শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণ ব্যারিকেড় দেয়।

তারা সড়কের উপর ইট ভাঙ্গা ও পিকআপ যানবাহন রেখে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

এসময় উপস্থিত শ্রমিক- জনতা অভিযানের বিপক্ষে স্লোগান দিয়ে অবস্থান করে।

পরে অবস্থা খারাপ দেখে দুপুর দেড়টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তেরর কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ফিরে যায়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশকিছু শ্রমিক জানান, পরিবেশের দোহাই দিয়ে ফাইতং এলাকায় ইটভাটা ভেঙে ফেললে এ ভাটাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের উপোষ থাকতে হবে।

এছাড়া উন্নয়ন ও বাড়িঘর নির্মাণের উপকরণ ইট না পেলে দেশের মানুষের কষ্ট বাড়বে।

শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিকল্প বব্যস্থা না করে ইটভাটা ধ্বংস করা হলে বেকার হবে হাজার হাজার শ্রমিক। এতে এলাকায় চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাবে।

এদিকে, গত ১৬ নভেম্বরও পরিবেশ অধিদপ্তর ফাইতং এলাকায় ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে।

পরে চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকার তিনটি ইটভাটার চিমনি ভেঙে ও কাঁচা ইট নষ্ট করে দেয়।

ওইদিনের ঘটনাকে সরকারী কাজে বাঁধা দেওয়ায় এনসিপি ও এবি পার্টির নেতাসহ ১১জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতসহ ৪০০জনকে আসামী করে পরদিন সোমবার লামা থানায় মামলা দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দবান জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নূর উদ্দিন।

ফাইতংয়ের ইটভাটা মালিক মাষ্টার খাইরুল ইসলাম ও দিদারুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে ইটভাটা মালিকপক্ষের দায়ের করা দুটি রিট মামলার (মামলা নং ৯৬০৬/২২ ও মামলা নং ১৩১৯১/২২) প্রেক্ষিতে পরিবেশ দুষণ হয়না এমন এলাকায় জায়গা শনাক্ত করে ইটভাটা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসককে ছয়মাসের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে সময় বেঁধে দেন মহামান্য হাইকোর্ট।

এরই আলোকে ইতোমধ্যে ইটভাটা মালিকরা বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের সাথে একাধিকবার বৈঠক করলেও কোন সুরাহা মেলেনি।

এমন প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া ছয়মাস সময়ের মধ্যে তিনমাস অতিবাহিত হয়েছে। এখনো বাকি রয়েছে তিনমাস সময়।

এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন ইটভাটা করার উপযোগী জায়গা শনাক্ত করে না দিয়ে উল্টো কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা ইটভাটা সমূহ উচ্ছেদের নামে মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি করে যাচ্ছে।

তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া সময়ের আলোকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইটভাটা গুলো সরিয়ে নিতে আমরা বাকি তিনমাস সময় চেয়েছি।

বলেছি, তিনমাসের ভেতরে ইটভাটা সরিয়ে না নিলে জেল জরিমানা করলে তা আমরা মেনে নেব। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা আমাদের আবেদন আমলে নিচ্ছে না।

কক্সবাজারের চকরিয়া সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাস বলেন, ফাইতংয়ের ইটভাটা উচ্ছেদে অভিযানে যাবার পথে (বৃহস্পতিবার) সকালে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বাদশারটেক এলাকায় ইটভাটার শ্রমিকরা অভিযান টিমকে বাঁধা দেন।

তাঁরা সড়ক অবরোধ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এসময় শ্রমিকদের নিক্ষেপ করা ইট পাটকেলের আঘাতে যৌথবাহিনীর দুইটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর