ঈদগাঁওতে ভয়াবহ দই ও চিড়া প্রতারণা

protarok.jpg

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ,সদর(১৪ মে) :: গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা দই ও চিড়া প্রতারণায় নেমেছে। আর সহজ সরল গ্রাহকরা না বুঝেই পিপাসা মেঠাতে খেয়ে নিচ্ছে দই ও চিড়া। কিন্তু তাতে কি পরিমাণ ক্যামিকেল রয়েছে কেউ জানে না।

বাজারের কয়েকটি দোকানে খাঁটি গরুর দুধের দই বলে প্রচার করলেও আসলে তা খাটি দুধ নয়। ঠান্ডা পানিকে সিদ্ধ করে প্যাকেট দুধ মিশিয়ে তা ফ্রিজে সংরক্ষণ করে বাজারজাত করছে কতিপয় ব্যবসায়ী। এমন ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে দই চিড়া খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকেই।

সরেজমিন স্টেশনের ফুলকলি নামক একটি ফাস্টফুডের দোকানে গিয়ে দেখা যায় মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বিহীন ফ্রিজে সংরক্ষিত কোটা ভর্তি দই। নাস্তা করতে গিয়ে সচেতন কয়েক যুবকের কাছে ধরা পড়ে এ নকল ব্যবসা। কোটার উপর মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখের চেয়ে আরো ৩ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছিল। শুধু ফুলকলি নয়, বাজারের বিভিন্ন কুলিং কর্নার, ফাস্ট ফুডের দোকান, হোটেল রেস্তুরায় ও বিক্রি হচ্ছে এসব নোংরা পরিবেশে তৈরি দই ও চিড়া। ভ্রাম্যমান আদালত কিংবা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের কোন নজরদারী না থাকায় এভাবেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কতিপয় ব্যবসায়ীরা।

গ্রীষ্ম মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে এ ব্যবসায় নেমে পড়েছে তারা। ঈদগাঁও ডিসি সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, বাসস্টেশন, জাগির পাড়া সড়ক, স্কুল গেইট, দক্ষিণ পাশের্^ হাসপাতাল সড়ক, বাঁশঘাটা সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়ে আসছে এসব দই ও চিড়া। অথচ এসব পণ্যের উপর বিএসটিআই কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা নেই। যার কারণে এসব নোংরা পরিবেশে তৈরী পণ্য খেয়ে ডায়রিয়াসহ হরেক রকম রোগে ভুগছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাজারবাসী।

ঈদগাহ হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্র জানায়, স্কুলের পাশর্^বর্তী একটি ফাস্টফুডের দোকান থেকে দই খেয়ে দীর্ঘক্ষণ পেট ব্যাথা করছিল। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করে কোন রকম বাড়ী চলে যায়। ঈদগাঁওর কর্মরত সংবাদকর্মী মিছবাহ উদ্দীন জানান, তীব্র তাপদাহের পিপাসা মেটাতে বাসস্টেশনস্থ ফুলকলি ফাস্টফুড থেকে দই খেয়ে খুবই অসুস্থ বোধ করছিলাম।

এ ব্যাপারে ডাঃ মমতাজুল ইসলাম বলেন, নোংরা পরিবেশে তৈরিকৃত এসব দই ও চিড়া খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে তার চেম্বারে চিকিৎসার জন্য আসছিল। এ ভয়াবহ প্রতারণা থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় বৃহত্তর এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে ফুলকলির ম্যানেজারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, অভিযান পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri