কুতুবদিয়ায় দারিদ্রতাকে জয় করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল মাসুদ

kt22.jpg

এম.নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া(২২ মে) :: অভাব,অনটন ও দারিদ্রতা কোনটিই দমিয়ে রাখতে পারেনি অদম্য মেধাবী মাসুদ ইলাহীকে। সদ্য প্রকাশিত পিএসসি বৃত্তি ফলাফলে কুতুবদিয়া উপজেলায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে সাফল্য অজর্ন করেছে মাসুদ ইলাহি।

পিএসসিতে ভালো ফলাফল করলেও তার পরবর্তী শিক্ষা জীবন নিয়ে শংকিত তার অসহায় পরিবার। কুঁড়ে ঘরে জন্ম নেয়া এ অদম্য মেধাবী ছাত্র ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও মাধ্যমিকের গন্ডি পার করাতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার।

সকালে কুতুবিদয়া উপজেলার মুরালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজেম উদ্দিনকে সাথে নিয়ে এ প্রতিবেদক মাসুদের বাড়িতে গেলে দেখা হয় মাসুদের মা খোরশিদা বেগমের।

তার সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ মুরালিয়া বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করছেন তারা। সাত সদস্যের পরিবারে মাসুদ তাদের একমাত্র সন্তান। শিশুকাল থেকেই মেধার পরিচয় ঘটে মাসুদের। এ পরিবারের বাকি চার সন্তানের সবাই কন্যা। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

সংসারের বুঝা মাথায় নিয়ে পোশাক শ্রমিকের চাকরি নিয়েছে মেঝ মেয়ে। ছোট দুই মেয়ের একজন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অন্যজন ১ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পিতা-মাতাসহ সাত সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে মেঝ মেয়ে। পিতা মোস্তাক আহমদ বেকার। শারিরীক অসুস্থতার কারনে কাজ করতেও অক্ষম তিনি।

মাস শেষে মেঝ মেয়ের পাঠানো টাকায় কোনমতে চলছে মাসুদের অসুস্থ পিতার অভাবের সংসার। বেড়িবাঁেধর ভাঙনের কবলে পড়ায় আগামী বর্ষায় কুঁেড় ঘরটিও বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে।

সংসার চালাতে প্রায় সময় বালি টানার কাজ করেছে মাসুদ। মাথায় করে মাঠির ঝুড়িও কম টানেনি এ মেধাবী ছাত্র।

এত অভাবের পরেও তার এ সাফল্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ খুবই আনন্দিত। মাসুদের সাফল্যের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজেম উদ্দিন বলেন, আমি আসার পর থেকে এ বিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর একজন না একজন মেধাবী ছাত্র বের হচ্ছে।

মেধাবী ছাত্রদের প্রায় সবাই গরীব ঘরের সন্তান হলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় ভালো রেজাল্ট করতে সক্ষম হচ্ছে। তাদের মধ্যে মাসুদ ইলাহী একজন খুবই অনুগত ছাত্র । ভদ্রতা,ন¤্রতাসহ শিষ্টাচারের কোন কিছুর অভাব ছিলনা তার মধ্যে। শিক্ষকদের পরিশ্রমের মর্যাদা রেখেছে সে। সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবে।

মাসুদের খরচ যোগাতে প্রায় সময় বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি প্রবীন আ’লীগ নেতা শফিউল আলম আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ করেছেন সার্বিক সহযোগিতা। বিদ্যালয়ের লেখা পড়ার গুণগত মান উন্নয়নে প্রবীন এ আ’লীগনেতা বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন যা চোখে পড়ারমত।

সবেমাত্র প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিকে প্রবেশ করেছে মাসুদ। ভর্তি হয়েছে কুতুবদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে। পারবে কি !

মাধ্যমিকের গন্ডি পেরেয়ি উচ্চ মাধ্যমিকের পথে হাটটে? তার আশাটুকু পূরণ করতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছে মাসুদের অসহায় মা খোরশিদা বেগম। চাইলে আপনিও সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারেন নিচের নাম্বারে যোগাযোগ করে। প্রধান শিক্ষক মুরালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (০১৮৩২৪৬৩২৮৫)।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri