মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতি : এবার এডিসি জাফর কারাগারে

adc-jafor-jail-coxbangla.jpg

শহীদুল্লাহ্ কায়সার(৩১ জুলাই) :: কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবার কারাগারে গেলেন সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জাফর আলম। তাঁকেও মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলাতেই কারাগারে যেতে হলো।

সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক নির্দেশিত হয়েই আজ ৩১ জুলাই তিনি কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তৌফিক আজিজের আদালত তাঁকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

জানা গেছে, ইতিপূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিনপ্রাপ্ত সাবেক এডিসি (রাজস্ব) জাফর আলমের জামিনের আদেশ বাতিল করতে রাষ্ট্র পক্ষ লিভ টু আপিল (৫৮৩/’১৭) আবেদন দায়ের করেন। চলতি বছরের ১০ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও মীর্জা হোসেন হায়দার এর সমন্বয়ে গঠিত আপীল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া মোঃ জাফর আলমের জামিনের আদেশ বাতিল করে তাঁকে নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। রাষ্ট্র এবং আসামী পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষেই আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

সেই আদেশের সূত্র ধরে আজ ৩১ জুলাই সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জাফর আলম কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হলে আদালত তাঁকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। এ নিয়ে চলতি বছরেই দু’বার বহুল আলোচিত মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুর্নীতি মামলায় কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জাফর আলমকে কারাগারে যেতে হলো।

উল্লেখ্য, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে ভুয়া মালিকানার দলিল তৈরি করে ক্ষতিপূরণের ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে কক্সবাজারের সাবেক ডিসি রুহুল আমিন বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মাতারবাড়ির কায়সার চৌধুরী বাদী হয়ে কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, এডিসি (রাজস্ব) জাফর আলমসহ ২৩ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীকালে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কে দায়িত্ব দেন। দুদক মামলার তদন্ত পরবর্তী চলতি বছরের ৩ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

চার্জশিটে কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাফর আলম, সার্ভেয়ার, কানুনগোসহ ১৩ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ২৩ জন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমেদ রাসেল।

ওই মামলায় দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতে জামিনপ্রাপ্ত ছিলেন মোঃ রুহুল আমিন। ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে চলতি বছর প্রথমবারের মতো নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন মোঃ জাফর আলম । আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে দ্বিতীয়বারের মতো উচ্চ আদালত থেকে জামিনে নিয়ে তিনি কারা ফটক পার হতে সমর্থ হন।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ ও জামিনের বিরোধিতা করে লিভ টু আপিল আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ মোঃ রুহুল আমিন ও জাফর আলমসহ মামলাটি সব আসামির জামিনাদেশ বাতিল করে নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ প্রদান করেন।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri