OIC’র তালিকায় রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত মুসলমান : ড. ইউসুফ

DSC07165.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক(৪ আগস্ট) :: কক্সবাজার এসে নিজের চোখে রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় দু:খ-দুর্দশার চিত্র দেখে গেলেন সারাবিশ্বের মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারি সংগঠন আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থা (ওআইসি)’র মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওথাইমিনের নেতৃত্বে ওআইসি’র সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল।

৪ আগস্ট (শুক্রবার) বেলা সাড়ে বারো টায় কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রেজিস্টার্ড- আনরেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান তিনি। এরপর গাড়ি থেকে নেমেই প্রথমে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেনের কাছে রোহিঙ্গাদের সার্বিক অবস্থার কথা জানতে চান।

এ সময় কক্সবাজারের ওআইসি মহাসচিবের সফরসঙ্গীসহ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, বিজিবি’র কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)’র কর্মকর্তা এবং উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বচক্ষে দেখেন বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে বসবাসের চিত্র। রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে দেখার পাশাপাশি কথা দোভাষীর সহায়তায় কথা বলেন রোহিঙ্গা শিশু এবং নারীদের সঙ্গে। এ সময় কয়েকজন রোহিঙ্গা শিশু ও নারী ওআইসি মহাসচিবকে জানান কোন পরিস্থিতিতে তারা নিজ দেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওথাইমিন বলেন, ওআইসি বিশ্বের মুসলানদের সমস্যার তালিকায় রোহিঙ্গাদের এক নম্বরে স্থান দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিক স্বীকৃতি নিশ্চিতসহ নিজ দেশের সকল নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে মায়ানমার সরকারের উপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

ওআইসি মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের সমস্যা শুধু মুসলমানদের সমস্যা নয়। এটি সারাবিশ্বের সমস্যা। বিশ্বের সকল সম্প্রদায়ের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় দু:খ-দুর্দশার চিত্র স্বচক্ষে দেখে যান। কীভাবে তারা ধর্ষণ, গণধর্ষন, লুণ্ঠনের শিকার হয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

অর্থ দিয়ে সহায়তা করে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান। মানবিক, আইনগত, রাজনৈতিকসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহায়তা করুন। পাশাপাশি চাপ প্রয়োগ করুন মায়ানমারের উপর।

সন্ত্রাসবাদ রুখতে ওআইসি, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে লড়ে যাচ্ছে উল্লেখ ওআইসি মহাসচিব বলেন, আমরা নিজ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে মায়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করবো।

এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দেয়াসহ বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা করায় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিরোধী দলসহ এদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানান।

বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে নভো এয়ারের একটি বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করেন ওআইসি মহাসচিব।

 

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri