সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমছে না

Savings-Certifiacte.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৮ আগস্ট) :: চলতি অর্থবছরের বাজেট বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হবে। এই ঘাটতি মেটাতেও সঞ্চয়পত্র বড় ভূমিকা রাখছে। এসব দিক বিবেচনা করে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমানোর পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কাল বুধবার সঞ্চয়পত্র সুদ সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নাও কমতে পারে- সংশ্লিষ্টরা এমন আভাস দিয়েছেন।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ খাতের সুদ কমানোর আভাস দিয়েছেন একাধিকবার। কিন্তু নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ায় বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের অর্থ সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তা মোকাবেলা করতেই আপাতত সঞ্চয়পত্রের ওপর হাত না দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। তবে এ খাতে কর্পোরেট হাউসসহ অস্বাভাবিক বড় বিনিয়োগকারীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে। পৃথকভাবে তাদের জন্য বিনিয়োগের গাইডলাইন দেয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি মহল আপাতত সঞ্চয়পত্রের সুদহার না কমানোর পক্ষে। কারণ এ খাতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী, প্রতিবন্ধী, মহিলা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের টাকা বিনিয়োগ হয়ে থাকে। এর সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও জড়িত। এ ছাড়া চলতি বাজেটের ঘাটতি অর্থের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে বেশি ঋণ নেয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এসব বিষয় চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বৈঠকে।

জানা গেছে, গত ২৮ জুন অর্থবিল পাস হওয়ার দিন অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নির্ধারণের কারণে কোনো পেনশনভোগী, নিন্ম মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত কেউ যাতে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।’ তবে ব্যাংক ব্যবস্থায় সুদের হার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে অধিক ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। ফলে সুদ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনার ওপর একটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

জানা গেছে, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়া এবং ব্যাংক লেনদেনের ওপর আবগারি শুল্কহার কমানোর ফলে চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছর বড় ধরনের রাজস্ব আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ধারণা, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ খাত থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমবে। একইভাবে আবগারি শুল্কহার কমানোর ফলে এ খাতেও আয় হ্রাস পাবে। এতে বাজেটে নির্ধারিত ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা শেষ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঘাটতি বাজেটের অর্থায়নের জন্য এ বছর স্বাভাবিকভাবে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ভ্যাট আইন ও আবগারি শুল্কহার নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে উভয় খাত থেকে আয় কম হওয়ায় ঘাটতির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়বে। এই ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টাকা ঋণ নিতে পারে।

এদিকে সরকার বাজেট ঘাটতির অর্থায়নের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। তবে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা জটিলতাও আছে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে ঋণের চাহিদা, ঋণ ইস্যুর অনুরোধ করতে হয়। আবার ব্যাংকিং খাত থেকে বেশি পরিমাণ ঋণ নিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ওপর। এ ক্ষেত্রে সরকার ব্যাংক ঋণের দিকে বেশি মনোযোগী না হয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। ফলে এ খাতে আরও বাড়তি অর্থ কিভাবে নিয়ে আসা যায় তা ভাবা হচ্ছে।

এদিকে সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগকারী বিশেষ করে বিভিন্ন কর্পোরেট হাউস, বড় শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী গ্রুপ, শিল্পপতি যারা অস্বাভাবিক মোটা অঙ্কের টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনেছে তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সঞ্চয়পত্রে কালো টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। একে প্রতিরোধ করার জন্যই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবার সঞ্চয়পত্র ও অবসরভোগীদের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য সঞ্চয়পত্রের সুবিধা যেন প্রকৃতজন ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক আমানতের চেয়ে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বেশি হওয়ায় বেশ কয়েক বছর ধরে এর বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার ৫১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ দশমিক ৩৯ ভাগ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নিয়েছে ৪২ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ নেয়া হয়েছিল ২৬ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri