চীনের উপরে পাল্টা চাপ বাড়িয়ে সীমান্তে সেনা বাড়াল ভারত

ind-army.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১২ আগস্ট) :: সিকিমের ডোকালাম নিয়ে চীনের উপরে পাল্টা চাপ বাড়িয়ে সিকিম-সহ উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি বাড়াল ভারত। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে অভ্যন্তরীণ সতর্কতাও। জারি করা হয়েছে অপারেশন অ্যালার্টও। আর এর মাধ্যমে চীনের চোখ রাঙানিকে ভয় না পাওয়ার ইঙ্গিতই দিল ভারত।

ডোকা লা নিয়ে প্রতিবেশি দেশ চীনের থেকে যুদ্ধের হুমকি আসছে। তাই সময় থাকতেই নিরাপত্তা আঁটোসাটো করতে উদ্যোগী হল ভারত। সিকিম থেকে অরুণাচলপ্রদেশ পর্যন্ত, ১৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইন্দো–চীন সীমান্তে আরও বেশি সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে সাবধানতাও।

জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি শীর্ষ সেনা আধিকারিকরা।

তবে চীনা আগ্রাসনের মোকাবিলায় ভারত যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে, গোপন সূত্রে সংবাদমাধ্যমের কাছে সেই খবর এসে পৌঁছেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‌সিকিম ও অরুণাচল সেক্টরে চীন সীমান্ত এলাকায় সেনা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।’‌ সুকনার ৩৩তম এবং অরুণাচল–অসমের তৃতীয় ও চতুর্থ বাহিনীর ওপরই নাকি সীমান্ত অঞ্চল সুরক্ষার দায়িত্ব বর্তেছে। তবে ঠিক কত সংখ্যক সেনা বাড়ানো হয়েছে  তা এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রতিকূল আবহাওয়ায় মানিয়ে নিতে সক্ষম, সীমান্ত অঞ্চলের জন্য এমন প্রায় ৪৫,০০০ নিরাপত্তাকর্মী সবসময়ই তৈরি রাখা হয়। যাতে জরুরি অবস্থায় কাজে লাগে। সকলকেই যে মোতায়েন করা হয় এমনটা নয়। দুর্গম পরিবেশে জওয়ানরা যাতে মানিয়ে নিতে পারেন, তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ৯০০০ ফুট উচ্চতায় পাঠানোর আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় অন্তঃত ১৪ দিন ধরে।

তবে চীন সীমান্তে সেনা সংখ্যা বাড়ানো হলেও, যাকে ঘিরে টানাপোড়েন, সেই ভারত–চীন–ভূটান ত্রিদেশীয় অঞ্চলের ডোকা লা মালভূমিতে সেনা সংখ্যা বাড়ানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন এক আধিকারিক। গত ৮ সপ্তাহ ধরে ৩৫০ জন জওয়ানই চীনা বাহিনীর হাত থেকে অঞ্চলটি আগলে রেখেছেন। ডোকা লা–কে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে চীন ও ভূটান। মাস তিনেক আগে সেখানে মোটর চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণে উদ্যোগী হয় চীনা বাহিনী। সেই পরিস্থিতিতে ভূটানের পাশে দাঁড়ায় ভারত।

চীনা বাহিনীকে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয় দেশের সেনাবাহিনী। সেই থেকেই নতুন করে ইন্দো–চীন সঙ্ঘাতের সূত্রপাত। ডোকা লা থেকে সেনা সরিয়ে নিতে একাধিকবার ভারতকে হুমকি দিয়েছে বেজিং। মনে করিয়ে দিয়েছে ১৮৬২–র যুদ্ধের পরিণাম। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে দিল্লিও।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri