buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের উচ্ছ্বাস কমছে

bd-ind-new.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৯ অঅগস্ট) :: ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের শুরুতে দুই দেশের নীতিনির্ধারণী ও ব্যবসায়ী মহলেই বেশ উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় পণ্য ও যাত্রী পরিবহন তুমুল জনপ্রিয়তা পাবে বলে ধারণা ছিল নয়াদিল্লির। যদিও ভারতীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের মধ্যে সুযোগটি কাজে লাগানোর আগ্রহ কমে আসছে।

একই অবস্থা এ প্রান্তেও। মাশুল নির্ধারণের পর নৌ-প্রটোকলের আওতায় ভারত দু-চারটি ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিলেও, একটিও নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের কথা থাকলেও সীমান্তের ২০০ গজের বেশি যেতে পারে না বাংলাদেশী ট্রাকগুলো।

ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা যে কাজে লাগানো যাচ্ছে না, তা স্বীকার করছেন ব্যবসায়ীরাও। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, চাহিদা থাকলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ট্রানজিট সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়ে উঠছে না।

আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনের তুলনায়ই বন্দরের সক্ষমতা অপ্রতুল। আবার যেসব সড়ক রয়েছে, সেগুলোও আমাদের দেশের গাড়ির তুলনায়ই কম। তবে সক্ষমতা বাড়লে ব্যবহারও বাড়বে।

ঢাকা হয়ে কলকাতা থেকে আগরতলা পর্যন্ত বাস সার্ভিস উদ্বোধন করা হয় ২০১৫ সালের জুনে। নীতিনির্ধারকদের ধারণা ছিল, ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে এটি ব্যাপক সাড়া পাবে। কারণ শিলিগুড়ি করিডোর হয়ে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে যে ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো, ঢাকা হয়ে গেলে তা ৫০০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। ট্রানজিটের আগে ভারতের মূল ভূখণ্ড দিয়ে সড়কপথে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে সময় লাগত প্রায় তিনদিন।

ঢাকা হয়ে যাওয়ায় তা নেমে আসে ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টায়। কিন্তু যাত্রী সংকটের কারণে দুই বছরের মাথায় এ বাস সার্ভিস টিকিয়ে রাখাই কঠিন বলে মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। দেড় মাস ধরে ত্রিপুরা সরকার বাস সার্ভিসটি বন্ধ রাখলেও এর অভাববোধ করছেন না ভ্রমণকারীরা।

এর কারণ হিসেবে ভারতীয় গণমাধ্যম বিজনেস লাইনের এক প্রতিবেদন বলছে, এ রুটে ৪৫ আসনের বাসে চার-পাঁচজনের বেশি যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ ভাড়া। সড়কপথে ২০ ঘণ্টার এ রুটে ভাড়া গুনতে হয় ২ হাজার রুপি। অথচ আকাশপথে কলকাতা থেকে আগরতলার ভাড়া ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ রুপির মধ্যে। সময়ও লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা।

একই অবস্থা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও। ২০১৬ সালের জুনে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সুযোগ পায় ভারত। কিন্তু এ পর্যন্ত আশুগঞ্জ দিয়ে দেশটি মাত্র তিনটি ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিয়েছে। সীমিত পরিসরে সুবিধাটি কাজে লাগানোর কথা ভারতীয় গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছে ত্রিপুরা কর্তৃপক্ষও।

ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের বিষয়ে ঢাকা-দিল্লি ঐকমত্য হলেও এ সুবিধা কাজে লাগাতে পারছেন না বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। চুক্তির পরও ভারতের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সীমান্তের ২০০ গজ পর্যন্ত প্রবেশ করে বাংলাদেশী ট্রাকগুলো পণ্য নামাতে পারে। তবে সেটা তাদের কাস্টমসের সীমানার মধ্যে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মাশুল নির্ধারণের পর নৌ-প্রটোকলের আওতায় ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নেয়া শুরু করে। মাশুল নির্ধারণের পর নৌ-প্রটোকলের আওতায় ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি হলেও কোনো রফতানি হয়নি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশী ও ভারতীয় নৌযান দিয়ে মোট ২২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫৪ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশী নৌযান দিয়ে পণ্য পরিবহন হয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯৭৪ টন। আর ভারতীয় নৌযান দিয়ে হয়েছে ৮ হাজার ৬৮০ টন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৯৯ টন পণ্য ট্রানজিটে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশী নৌযান। পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশী নৌযানের ভাড়া বাবদ আয় হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬০ টাকা।

আর ট্রানজিট দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের টনপ্রতি ১৯২ দশমিক ২২ টাকা করে আয় হয়েছে ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ দশমিক ৭৪ টাকা। সব মিলিয়ে নৌ-প্রটোকলের আওতায় বাংলাদেশের মোট আয় হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৭ দশমিক ৭৮ টাকা। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের নৌ-রুট সংরক্ষণের জন্য প্রতি বছর ভারত ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যে বাণিজ্য, সেটার পরও ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে বাড়তি সুবিধা পেতে হলে চুক্তিতে আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় নজর দিতে হবে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক পথে পণ্য ও যাত্রী চলাচলের সুযোগ হলেও ভবিষ্যতে তা দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেবে। এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ সংযুক্ত হলে ব্যয় কমে সার্বিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri