চকরিয়ায় প্রবাসী হত্যার প্রতিবাদে খুনিদের গ্রেফতার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল

Chakaria-Pic-08-09-2017.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া(৮ সেপ্টেম্বর) :: কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সদ্য মালয়েশিয়া ফেরত মোহাম্মদ হাশেম হত্যায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি।

ওই প্রবাসীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত তার স্ত্রী খদিজা বেগম এবং সহযোগিরা জড়িত দাবি করে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবীতে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে ও দুপুরে জুমা নামাজের পর ঘটনাস্থল জালিয়াপাড়া গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি।

অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সেখানে বক্তব্য রাখেন, চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আমিন টিপু।

দুপুরে ঘটনাস্থলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মিজবাউল হক, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক জোবাইদুল হক, মৎস্যজীবি নেতা আশরাফ আলীসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এলাকাবাসীর দাবী, হাশেম আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। স্ত্রী খদিজা বেগম পরকিয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে বিদেশ ফেরত স্বামী হাশেমকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। এমনকি সে প্রতিনিয়ত ইয়াবা ব্যবসা করতো। তার বেপরোয়া আচরণে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি।

ঘটনাটি যাতে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়া যায় সেইজন্য হত্যার পর হাশেমের মরদেহ ফ্যানের মধ্যে ঝুলানো হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় হাশেমের মরদেহ খাটের মধ্যে বসানো অবস্থায় ছিলো বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে হাশেম হত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু ও দুইটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট মোহাম্মদ হাশেমের বড় ভাই আবুল কাসেম বাদি হয়ে চকরিয়া উপজেলা জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে খদিজা বেগমসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য চকরিয়া থানাকে নির্দেশ দেন। এরআগে চকরিয়া থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা করে। গত ৬ আগস্ট হাশেমের স্ত্রী খদিজা বেগম বাদি হয়ে উপজেলা জুড়িশিয়া ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদি আবুল কাশেমকে প্রধান আসামী করে আরও ৫জনকে আসামী করা হয়। সেখানে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদকারী আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আমিন টিপুকে আসামী করা হয়েছে। তাকে আসামী করায় ক্ষিপ্ত হয়েছে ¯’ানীয় এলাকাবাসী।

বাদী আবুল কাসেম জানান, তার ভাই মোহাম্মদ হাশেমের সাথে প্রায় ১৪ বছর পূর্বে একই এলাকার হাজী সৈয়দ আহমদের মেয়ে খদিজা বেগমের মধ্যে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিনটি সন্তানও রয়েছে। পরিবারের সূখ শান্তির কথা ভেবে হাশেম ১০বছর পূর্বে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার কিছুদিন যেতে না যেতে স্ত্রী খদিজা বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে।

স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়ে জমি-জমা বাড়ি খদিজা নিজের নামে করে ফেলে। এমনকী পাঠানো টাকা দিয়ে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে খদিজা। এভাবে তার চাচা মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ৪০লাখ টাকা পাঠিয়েছেন।

আবুল কাসেম দাবি করেন, স্ত্রীর অনৈতিক ঘটনার খবর শুনে আবুল হাশেম ৪ মাস পূর্বে দেশে চলে আসেন। এনিয়ে শুরু হয় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি। স্ত্রীর এ ধরনের বেপরোয়া আচরণে হাশেম এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিচার দিয়ে কোন প্রতিকার পায়নি। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে গলাঁয় ফাঁস লাগানো অবস্থায় হাশেমের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri