টেকনাফে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে মাছ ও তরকারী বাজার অস্থির : গরীবদের ভোগান্তি চরমে

Teknaf-Pic-B-4-12-09-17..jpg

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ(১২ সেপ্টেম্বর) :: মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় রোহিঙ্গা নিধন,নির্যাতন ও বসত-বাড়ি অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্থ করার কারণে সীমান্ত জনপদ টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে গত ৩সপ্তাহ ধরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিরূপ প্রভাবে স্থানীয় মাছ ও শাক-সবজির বাজারে আগুন লেগেছে। এতে সাধারণ খেটে খাওয়া গরীব মানুষের জীবন-যাত্রা অস্থির হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ,নয়াপাড়া,সাবরাং,পৌরসভা,সদর,বাহারছড়া,হ্নীলা এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হাট-বাজার সমুহ ঘুরে দেখা গেছে গত ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে এদিকে প্রতিবেশী দেশে সংঘাত ও উত্তেজনার কারণে নাফনদীতে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় বিভিন্ন প্রকার মাছের চাহিদা চরম বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরের মাছ শিকারী ট্রলার সমুহ মাছ শিকারে না গিয়ে রোহিঙ্গা বোঝাইতে লিপ্ত থাকায় সহজলভ্য হচ্ছে না। তাই যেকোন প্রকারের মাছের দাম এখনো পর্যন্ত চড়া রয়েছে।

ভূক্তভোগী ক্রেতা ও জেলেরা এসব ঘটনা নিশ্চিত করেন। এছাড়া শুটকী মাইট্টা, পোয়া, ছুরি,ছোট মাছসহ বিভিন্ন প্রকার শুটকীর দাম প্রতি কেজি ২০০টাকা হতে ৩০০টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই ব্যাপারে শুটকী ব্যবসায়ী ইদ্রিস বলেন,এখন আগের মতো মাছ মিলছেনা। অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়ার পাশাপাশি আড়তদারেরা দাম বৃদ্ধি করায় শুটকীর দাম বেড়েছে।

বাহার ছড়ার রহমত উল্লাহ বলেন,লোকজন ভয়ে সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছেনা। তার উপরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে মাছ ও শাক-সবজির দাম কিছুটা চড়া। আশাকরি শীঘ্রই সব ঠিক হয়ে যাবে।

অপরদিকে ২০টাকার গোল আলু ৫০টাকা, ১১০টাকার কাঁচা মরিচ ১৭০টাকা, ৪০টাকার বেগুন ৭০টাকা,২০টাকার বটবটি ৮০টাকা,৩০টাকার পেয়াজ ৪৫টাকা,২৫টাকার কঁচু ৪০টাকা, ৩০টাকার ঢেঁড়শ ৬০-৭০টাকা,৪০টাকার করলা ৬০টাকা এবং চাউলের বস্তা প্রতি ১৫০টাকা হতে ২০০টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাবরাং কাটাবনিয়ার মাছ শিকারী জেলে ইসমাঈল বলেন,এখানকার বাজারে আলুগোলা প্রতি কেজি ৭০টাকা বিক্রি করছে। গরীব মানুষ বেশী কষ্টে আছে।

হোয়াইক্যংয়ের আসগর আলী বলেন,নাফনদী ও সাগরের মাছসহ তৈল,শাক-সবজি ও তৈল-মসল্লার দাম পর্যন্ত বৃদ্ধি পেেয়ছে। যা সাধারণ মানুষের জীবনে চরম ভোগান্তি বয়ে আনছে।

এদিকে ভাদ্র মাসে এমনিতেই সাধারণ মানুষের কাজ-কর্ম কমে যাওয়ায় রোজগার নেই। মরার উপর খঁড়ার গার মতো অবস্থা বিরাজমান হওয়ায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনে।

এই ব্যাপারে হ্নীলা ফুলের ডেইল এলাকার চাউল ক্রেতা মুফিজুর রহমান বলেন,আজকে চাউলের বস্তা গতবারের চেয়ে ২শ টাকা বেশী নিয়েছে। এই ব্যাপারে চাউল ব্যবসায়ী জাবেদ সওদাগর জানান,রোহিঙ্গা অবস্থানের পর হতে টাকা অগ্রিম দিলেও আড়ত হতে গাড়ি ছাড় দিচ্ছেনা। প্রতি গাড়িতে বাড়তি টাকা নিচ্ছে। তাই স্থানীয় বাজারে চাউলের দাম কিছুটা বাড়ছে। সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল জাব্বার,শাহাব মিয়া, বেলাল ও সোলতান বলেন,মালামাল আনতে যানবাহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আড়ত হতে দামও বাড়িয়ে নিচ্ছে। তাই স্থানীয় বাজারে শাক-সবজির দাম কিছুটা বাড়ছে।

এই ব্যাপারে সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন,রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। তা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান,রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরিত না হওয়ায় দ্রব্যমূল্য ও যানবাহনের ভাড়া চরম বেড়েছে। তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গেলে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।

এই ব্যাপারে বাজার মনিটরিং কমিটি দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি যে সহানুভূতি রয়েছে তা নষ্ট হয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে।

এই ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ইউএনও জাহেদ হোছন ছিদ্দিকী জানান,বিষয়টি কেউ আমাদের অবহিত করেনি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্থ করেন।

এদিকে সচেতন মহলের বিভিন্ন সুত্র থেকে অভিযোগ উঠছে যে,রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অজুহাতে বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে জনজীবনকে দূর্বিসহ করে তুলেছেন। তাই এই ব্যাপারে উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri