কক্সববাজারে রোহিঙ্গা বস্তিতে ত্রাণ বিতরণকালে মির্জা ফখরুল : রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাইনা

Mirja-Faqrul-in-R-camp-27-9-2017-1.jpg

শহীদুল ইসলাম,উখিয়া(২৭ সেপ্টেম্বর) :: বিএনপির মহাসচিব ও দলের মুখপত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন আমরা (বিএনপি) মানবতার পক্ষে। বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে মানবতার পাশে দাড়িয়েছি।বিএনপি মজলুমের পক্ষে কথা বলে। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাড়ায়।নিপীড়িত মানুষের কথা বলে।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ন্যায়ের স্বপক্ষে অবস্থান নেয়। বিএনপি দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে পাশে ছিল, আছে থাকবে। তেমনি মিয়ানমার জান্তা সরকারের দমন নিপীড়নের শিকার হয়ে একটু আশ্রয়ের খুঁজে এপারে আসা রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছি। এরা আমার নাই, আপনাদের ভাই।

এদের পাশে থাকার জন্য দেশনেত্রী খালেদা নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। ওনি (খালেদা জিয়া) দেশে ফিরলে রোহিঙ্গা আশ্রিতদের দেখতে আসবেন। রোহিঙ্গাদের অমানবিক বর্বতায় জীবনযাপন, ভিটে বাড়ি, সহায় সম্পদ হারা করেছে।

তাদের বাড়িঘরের আগুন, নারী -পুরুষ ও শিশু হত্যার বিভৎস চিত্র বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়েছে। সরকার চাইলে রোহিঙ্গা ইস্যু দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে। তাতে আমরাও (বিএনপি) নেতাকর্মীরা সমর্থন করবে। রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাইনা। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চাই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালীতে নতুন রোহিঙ্গা বস্তিতে নির্যাতিত রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা দেশের মধ্যে কোনো রাজনীতি করতে চাই না। আমরা মানবতার পাশে দাঁড়ানো জন্য সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলেছি। আমরা বিশ্বাস করি সরকার যদি আজকে সব বিরোধী দল ও জনগনকে নিয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সৃষ্টি করতে পারতো তাহলে সরকারের হাতই শক্তিশালী হতো, রাষ্ট্রের হাত শক্তিশালী হতো। কিন্তু তারা সেটা করেননি, তারা সেটা নাকচ করে দিচ্ছেন। এই থেকে প্রমাণিত হয় যে, আসলে সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তরিক নয়।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকার এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিমর্মতাকে গণহত্যা বলেননি। তারা এখন পর্যন্ত বিদেশের কাছে বিভিন্ন দেশগুলোর কাছে বিশেষ করে যেসব দেশ মিয়ারমানকে সমর্থন দিচ্ছে তাদের কাছে টিম বা প্রতিনিধিদল পাঠায়নি।

রোহিঙ্গাদের যে স্বার্থ, সেই স্বার্থ পুরোপুরিভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।রোহিঙ্গাদের স্ব-সন্মানে তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আজকে আমাদের মূল লক্ষ্য। ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আপনি এতো বিলম্বে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের দেখতে এসেছেন- এরকম প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এটা কোনো কথা না। আমাদের দল ও দলের নেতৃবৃন্দ ঘটনার প্রথম দিন থেকে অর্থাৎ ২৫ আগস্টের পর থেকে এখানে আছেন, পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা একদিন এখানে অবস্থান করে, লোক দেখানো ত্রাণের কাজ করেছে, তারা সরকারি ত্রাণ ব্যবহার করছে। আমরা বিরোধী দল থেকে এই সংকটে যতটুকু সম্ভব ত্রাণ দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

এ সময়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মাহবুবের রহমান শামীম, লুৎফর রহমান কাজল, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, ভিপি হারুনুর রশীদ, শরীফুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুপ, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, উখিয়া উপজেলা সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল কবির চৌধুরী সহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri