পেকুয়ায় স্কুলে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিটিং নিয়ে প্রধান শিক্ষক-সভাপতির দ্বন্ধ

miting-quarel.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৬ অক্টোবর) :: পেকুয়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে ওই সম্মেলন ও পূর্ববর্তী আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান সরকার ও তাদের প্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক দল আ’লীগ সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করেছেন।

এ নিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির মধ্যে মতদ্বন্ধ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বগোঁয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারী দল আ’লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ নং ওয়ার্ড কমিটির দ্বি বার্ষিক কাউন্সিল ও সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে। এ দিকে সরকারী স্কুলে গোপনে একটি সমাবেশকে ঘিরে তোলপাড় চলছে পেকুয়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সারা দেশে সরকার বিরোধী গোপন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি আগামী নির্বাচনকে ঘিরে শক্তি সঞ্চার করতে ব্যস্ত। তারা ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রমকে বেগবান করার কাজ করছে। ওই দিন পেকুয়ায় একটি ওয়ার্ডের সম্মেলন হয়েছে।

এ সময় বক্তারা সরকারকে বেকায়দায় রাখতে কিছু স্থানীয় কৌশল নির্ধারন করছিলেন। বিশেষ করে সরকারী দল আ’লীগকে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করার কর্মপরিকল্পনাও হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

গোঁয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মসুচীর এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মৌলভী নাজেম উদ্দিন ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট কামাল হোসেনের মধ্যে দ্বন্ধ তৈরী হয়েছে।

মিটিং শেষে সভাপতি স্কুল অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কর্মসুচীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ছোড়েন প্রধান শিক্ষক। সন্ধ্যার দিকে এ নিয়ে মুখ খোলেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বর্ষিয়ান আ’লীগের এ নেতা।

এ বিষয়ে এডভোকেট কামাল হোসেন জানায়, বিএনপির সহযোগী সংগঠনের ওয়ার্ড সম্মেলন স্কুলে হয়েছে তাতে আমি অবগত ছিলাম না। রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক কোন কর্মসুচী স্কুল কক্ষে হয়ে থাকলে সেটি পরিচালনা কমিটি কিংবা স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন। আমি জেনেছি প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাদের স্কুলের চাবি দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দু:খজনক। প্রধান শিক্ষক একা পারেন না।

গোঁয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজেম উদ্দিন জানায়, আমি অনুমতি দিয়েছি মিটিং করতে। পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয় নি। সেটি আমার ভূল হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও মর্মাহত। তারা রাজনৈতিক কর্মসুচী করবে। সেখানে সরকার, সরকারীদল নিয়ে এ ধরনের কুৎসিত অবান্তর বক্তব্য ও মন্তব্য আমরা কামনা করি না।

তবে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানায়, এ সব প্রধান শিক্ষকের চলচাতুরি। তিনি একজন জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক। এর আগেও তার অনেক কুকীর্তি পরিলক্ষিত হয়েছে। গোপন বৈঠক হয়েছিল ওই স্কুলে। এ সবের দায় এড়ানোর সুযোগ তার নেই। আমরা বিষয়টি রাজনৈতিক বৈঠকে উত্তাপন করব। এ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অপসারন চাই।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri