কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে ১৩ রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার : নিখোঁজ ৩৩

rohingya-boat-sink.jpg

হুমায়ুন রশীদ,টেকনাফ(৯ অক্টোবর) :: মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার কক্সবাজারের টেকনাফের বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনায় ঢোকার সময় ট্রলার ডুবির ঘটনায় সোমবার সকালে ১৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর বিজিবি সহ স্থানীয়রা ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩৩ জন।

এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্টের গোলারচর নামক স্থানে এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির কারণে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নং স্থানীয় সর্তক সংকেত দেয়া হয়। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়। এর মধ্যে রাত ৮ টার দিকে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার সাগর পাড়ি দিয়ে নাফ নদী হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ আসার পথে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ঢেউয়ের তোড়ে নাফ নদীর গোলার চর নামক স্থানে ডুবে যায় বলে জানান টেকনাফস্থ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম খান।

স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতে ৮জন কে পানিতে ভাসমান অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে বলেও জানান তিনি।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, ট্রলারটিতে অন্তত ৬০ জনের মতো ছিল। তার মধ্যে বেশিরভাগ নারী ও শিশু ছিল। সাগরে ভাটার সময় দমকা হাওয়ার কারণে ট্রলারটি উল্টে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জনের মতো রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল কাদের জানান, সোমবার সকালে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ১৩ জনের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। তার মধ্যে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে ৩, নয়া পাড়া থেকে ১, গোলার চর থেকে ৫ এবং জালিয়াপাড়া পয়েন্ট থেকে ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

সকালে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলোকে জালিয়া পাড়া ও বাজার পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। উদ্ধার হওয়া জীবিত ১৪ রোহিঙ্গা বিজিবি হেফাজতে রয়েছে। এখনও ওই এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয়রা কাজ করছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, উদ্ধার লাশগুলোর দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর সৃষ্ট সহিংসতা থেকে বাচঁতে নাফ নদী ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসতে গিয়ে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত  ১৪৭ জন রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri