শেখ জামাল চকরিয়া ক্লাবের কর্মকর্তাদের বিবৃতি : জেলা ফুটবল লীগে ফাইনালের নামে প্রতারণা কেন ?

shekh-jamal-fc-Chakaria.jpg

বার্তা পরিবেশক(১৪ অক্টোবর) :: জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত জেলা ফুটবল লীগের ১৪ অক্টোবরের কথিত ফাইনাল ম্যাচকে কক্সবাজারের ফুটবল ধ্বংস করতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাজানো নাটক বলে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শেখ জামাল ক্লাব চকরিয়ার কর্মকর্তাগণ।

ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসাইন এক বিবৃতিতে জানান- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামালের নামে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি জেলার ফুটবল জাগরনে অনন্য একটি নাম। বর্তমানেও শেখ জামাল রানিং চ্যাম্পিয়ন। অথচ শুধু মাত্র বঙ্গবন্ধু পুত্র ও চকরিয়ার নামে হওয়ায় ডিএসএ’র অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা সুবিধাবাদি চক্রটি শেখ জামালের পথ চলায় বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

এরই ধারাবাহিকতায়- ডিএসএ’র একচোখা ফুটবল কমিটি একজন কথিত, কালো তালিকাভূক্ত ব্যবসায়ীকে তার কেনা চারটি দলকে বিশেষ সুবিধা দিতে জঘন্য ভাবে তিনবার খেলার ফিকচার প্রনয়ন করেছে। শেখ জামালের কোচ নুরুল আবছার জানান- আমরা বিধি সম্মত ভাবে সেমি ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচের আগে ডিএসএ’র কাছে সময়সূচি ২/১ দিন পেছাতে আবেদন করেও কোন সাড়া পায়নি।

সর্বশেষ ১১ অক্টোবর ডিএসএ’র রিকোয়েষ্টে সেমি ফাইনালে অংশ নিয়েছি। যথারীতি সেমি ফাইনাল জিতে ফাইনালে উন্নীত হয়েছি। আয়োজক ডিএসএ’র কাছে শেখ জামালের দাবী ছিল ১৪ তারিখের পরিবর্তে ফাইনাল ম্যাচটি ১৫ অক্টোবরসহ যে কোনদিন আয়োজন করতে। কিন্তু তারা কক্সবাজারের ফুটবলকে ধ্বংস করতে এবং বিশেষ ব্যক্তির ক্লাবকে ফাঁকা মাঠে বিজয়ী করতে অন্ধ ডিএসএ গোধরে বসে থাকলো। এরই অংশ হিসাবে কক্সবাজার বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল স্টেডিয়ামে মনস্থ করলো ঢেমুশিয়া বনাম ঢেমুশিয়ার আজগুবি ফাইনাল।

প্রতারিত হলো স্টেডিয়ামে উপস্থিত কক্সবাজারের হাজার হাজার ফুটবল দর্শক। উদ্বোধনের নামে কথিত ম্যাচের শুরুতে ডিএসএ’র কর্তাদের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও তার দলের নামে গুনকীর্তন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা সহজেই বুঝে গেছে। প্রশ্ন রয়েছে- বঙ্গবন্ধুর দেশে বঙ্গবন্ধুর সন্তানের নামে করা ক্লাব ও কর্মকর্তাদের হুমকিধমকি কতটুকু যুক্তিযুক্ত। আর এই বিতর্কিত ফুটবল লীগের রানার্সআপ দল কোনটি?

সর্বশেষ ১২ অক্টোবর কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমিন স্টেড়িয়ামে ডিএসএ’র বড় কর্তাদের উপস্থিতিতে মহা-সমারোহে অনুষ্ঠিত হলো ঐ বিশেষ ব্যক্তির কেনা দু’টি ক্লাবের শতদল রামু- ঢেমুশিয়ার মধ্যকার প্রকাশ্যে পাঁতানো কথিত সেমি ফাইনালে ম্যাচ। যা মাঠে উপস্থিত হাজারো দর্শক স্বাক্ষী (২০ মিনিট পর যারা গ্যালারী ছেড়েছিল)। অন্ধ ডিএসএ এসবেরও বিচার করে না।

শেখ জামাল যাতে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে সে জন্য শুধু কুটচালে ব্যস্ত থাকে কথিত ফুটবল কমিটি। ক্লাবের সহ-সভাপতি শের আলম শেরো জানান- বঙ্গবন্ধুর পুত্র ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের কর্মকর্তারা কক্সবাজার স্টেড়িয়ামে প্রাপ্য সম্মান টুকু পায়না। ইতোপূর্বে শেখ জামালের ম্যাচের দিন খেলোয়াড় এমনকি রেফারিরাও নিরাপত্তা শংকায় ভোগেছে।

তিনি বলেন- যেখানে বঙ্গবন্ধুর পুত্রের নাম নিরাপদ নয়, সেখানে আমরা যাই কি ভাবে। খেলি কিভাবে? পাতানো ম্যাচের বাহাদুরী দেখিয়ে এবং ডিএসএ’র আস্কারা পেয়ে ফাইনালে উঠা বিক্রিত ক্লাব ঢেমুশিয়াকে খেলার মাঠে আমরা ভয় পাইনা।

শেখ জামালের অতীত রের্কডই এর স্বাক্ষী। তবু সুন্দর, জনপ্রিয় ফুটবল তথ্য শেখ জামালের গায়ে কালিমা না লাগাতে আমরা বুঝে শুনে ডিএসএ’র অন্যায়ের স্বাক্ষী না হতে এবং প্রতিবাদ জানাতে গতকালের পূর্ব সিদ্ধান্তের প্যাকেটে অবরুদ্ধ তথাকথিত ম্যাচে অনুপস্থিত হয়েছি। কখনো ডিএসএ’র বোধোদয় হলে পরে অবশ্যই ম্যাচটি খেলবো।

শেখ জামালের অধিনায়ক জমির উদ্দিন বলেন- প্রবল ইচ্ছা থাকলেও ডিএসএ’র একচোখা সিদ্ধান্তের কারণে আমরা গতকালের ম্যাচ অনিবার্য কারণ বশতঃ খেলতে পারেনি। এজন্য শেখ জামালের অজস্র সমর্থক সহ কক্সবাজারের ফুটবল সংগঠক, খেলোয়াড়, দর্শকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri