কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পুর্নবাসনকৃত ৭৬ পরিবারকে ফের উচ্ছেদের পাঁয়তারা

20171017_071829.jpg

বার্তা পরিবেশক(১৭ অক্টোবর) :: কক্সবাজার শহরের বাদশা ঘোনা এলাকায় পুর্নবাসনকৃত ৭৬ পরিবারকে ফের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কক্সবাজারের সদস্যরা। প্রায় আট বছর ধরে বসবাস করা এসব পরিবারকে চলে যেতে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকিও দেয়া হচ্ছে। তাদের উচ্ছেদ করা হলে পুনরায় পুর্নবাসন করার দাবী জানান ‘বাদশাঘোনা নতুন পাড়া সমাজ কমিটি’র লোকজন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীরা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ছাত্রী নাহিদা আক্তার টুম্পা বলেন- আজ থেকে আট বছর আগে আমি অনেক ছোট ছিলাম; তখন আমার পরিবারসহ অনেক পরিবারকে জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলোর সামনে থেকে উচ্ছেদ করে পুর্নবাসন করেন নৌবাহিনীর পিছনে বাদশা ঘোনা এলাকায়। এরপর থেকে আমরা বাদশা ঘোনায় বড় হয়েছি। এখন কলেজে যাচ্ছি। আমার মতো অনেকেই স্কুল কলেজে পড়ছে।

কিন্তু এখন নৌবাহিনীর লোকজন আমাদের আবারো বাদশাঘোনা থেকে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। বারবার উচ্ছেদ করলে আমরা যাবো কই। যেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য জায়গা হচ্ছে যেখানে আমাদের জন্য বাংলাদেশে জায়গা নেই। আমাদের যদি উচ্ছেদ করতে হয়; তাহলে পুনরায় পুর্নবাসন করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা এম. সাহাব উদ্দীন জনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলাম। আমাদের ভিটেমাটিতে দীর্ঘ মেয়াদি ফলের বাগান সৃজন করেছি। অধিকাংশ মানুষ কায়িক শ্রম দিয়ে জীবন কাটাচ্ছি। ইতোমধ্যে কোনো নোটিশ ছাড়াই নৌ-বাহিনী আমাদের এলাকায় বাউন্ডারী ওয়াল দেয়া শুরু করেছে। বাউন্ডারীর ভিতরে অনেক বাড়ি-ঘর রয়েছে।

পুনর্বাসনকৃত জায়গায় আমরা প্রায় আট বছর ধরে বসবাস করে আসছি। এমন সময়ে আমাদের আবার উচ্ছেদের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, কাটা ঘাঁ-তে কয়বার নুন ছিটায়? আমরা একবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছি। আর উচ্ছেদ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাদশার বাসিন্দা রুবি আক্তার বলেন- ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বাদশা ঘোনা এলাকায় ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গায় আমাদের পুনর্বাসন করে জেলা প্রশাসন। জেলা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারকে ৫ শতক করে ঘর ভিটার জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের আবারো উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এবার উচ্ছেদ করলে সাগরে ঝাঁপ দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ বাকী থাকবেনা।

বাদশাঘোনা নতুন পাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি আহমেদুর রহমান জাম্বু বলেন, আট বছর আগে তার বসতি ছিল জাম্বুর দোকান এলাকায়। ওখান থেকে উচ্ছেদ করে বাদশাঘোনা এলাকায় তাদের পুনর্বাসন করে তৎকালীন প্রশাসন। কিন্তু আবারো মাথায় উচ্ছেদের খড়ক! দুঃখ পিছু ছাড়ছেনা আমাদের। বাদশা ঘোনা এলাকায় প্রায় ৭৬ পরিবারের প্রায় ২ হাজার মানুষের বসবাস। বর্তমানে সবাই উচ্ছেদ আতংকে দিনাতিপাত করছে। বারবার উচ্ছেদ নয়, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ চায় বাদশাঘোনাবাসী।

এদিকে কক্সবাজার নৌ-বাহিনী কর্তৃক কক্সবাজার শহরের বৃহত্তর বাদশাঘোনা নতুনপাড়া এলাকা অসহায় মানুষের বাড়ীঘর উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধের দাবীতে মঙ্গলবার সকালে শহরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ কর্মসুচিতে এলাকার নারী-পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহণ করে। এরপর জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri