ভারতকে কৌশলগত অংশীদার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

us-ind-1.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২০ অক্টোবর) :: আগামী শতকে চীনের চেয়ে ভারতকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার ‘স্বাধীন ও উন্মুক্ত’ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে এ বক্তব্য দিয়েছে দেশটি। খবর এএফপি।

গত বুধবারই চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি তাদের সপ্তাহব্যাপী পঞ্চবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বেইজিংয়ের উদ্দেশে অপ্রত্যাশিতভাবে এ কঠোর বার্তা দেন।

এশিয়ায় চীনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত সফরের প্রাক্কালে এ বার্তা দিলেন টিলারসন। আগামী সপ্তাহে দিল্লি সফরে এসে দুই দেশের মধ্যে একটি শতবর্ষীয় ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ দর্শন উপস্থাপনের কথা রয়েছে তার।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান কূটনীতিবিদ এ সুযোগে চীনের সঙ্গে ‘পৃথিবীর দুটি মহত্তম গণতন্ত্র’ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের তুলনা টানেন এবং বলেন, চীন ‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে’কে খাটো করছে।

ওদিকে চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। টিলারসনের এ বক্তব্য তাই এরই মধ্যে চীনের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী প্রেসিডেন্টের জন্য উসকানিমূলক।

টিলারসনের ভাষণের পর সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, এ ভাষণটি চীনকে কোনোরূপ সতর্ক কিংবা ভর্ত্সনার উদ্দেশে করা কিনা।

উত্তরে এই কর্মকর্তা হেসে বলেন, এ বক্তব্য বহু শ্রোতার জন্য পরিকল্পনা করা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা বলেন, এ বক্তব্যে অবশ্যই চীনের প্রতি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে কিন্তু এটি এমন এক বক্তব্য, যেটা আমরা আশা করি, ইন্দো-প্যাসিফিক রাষ্ট্রগুলো তাদের হূদয় দিয়ে অনুভব করবে।

বেশ কিছুদিন ধরে ওয়াশিংটন ও দিল্লি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে, তবে এবার টিলারসন খুব পরিষ্কার একটি বার্তা দিলেন। তিনি বুঝিয়ে দিলেন ‘মূল্যবোধের অংশীদারত্ব’ দুই দেশকে আদর্শ সহযোগীতে পরিণত করবে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে চীনকে কেবল সতর্ক নয়, ওয়াশিংটন জানিয়ে দিল তারা এশিয়ার চীনের ক্রমবর্ধমান বিশাল শক্তি খর্ব করার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বলয় তৈরি করবে। একই সঙ্গে তারা মুক্ত বাণিজ্যকে উত্সাহ প্রদান এবং সামুদ্রিক রুট চালু করার কাজ চালিয়ে যাবে।

ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঐক্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত আরো বেশি করে বৈশ্বিক সহযোগী হয়ে উঠছে, বলেন টিলারসন।

তিনি আরো বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কেবল যে গণতন্ত্রের প্রতি অনুরাগ দেখায়, তা-ই নয়; আমরা একত্রে একটি ভবিষ্যত্ নির্মাণের স্বপ্ন দেখি।

ভারতের নিজেরই বাণিজ্য সুরক্ষা আইন কার্যকর রয়েছে, তবে ‘স্বাধীন ও মুক্ত’ ইন্দো-প্যাসিফিকে বৃহত্তর প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টিলারসন দেশটিকে আরো বেশি আঞ্চলিক ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য জোর দিলেন।

তবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এ গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিবিদ তার দেশ ও বিশাল জনসংখ্যার দেশ ভারত উভয়েরই প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের উদ্দেশে কঠোর বক্তব্য দেন।

টিলারসন বলেন, ভারতের পাশাপাশি উন্নত হতে থাকা চীন এতটাই দায়িত্বহীন যে, মাঝে মধ্যে তারা আন্তর্জাতিক, ‘নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে খাটো করছে।

টিলারসন বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উসকানিমূলক আচরণ সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়মকে ভঙ্গ করছে। এর জবাব দিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ও টিলারসন দুজনেরই অগ্রাধিকার একটি ‘নতুন প্যাসিফিক’। আরো বিস্তারিত বললে, এটি একটি বড় পরিকল্পনার অংশ। এ পরিকল্পনার আওতায় অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র চার দেশ মিলে একত্রে এ বিশাল অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র এদের মধ্যে ‘নোঙর’-এর কাজ করবে এবং পরোক্ষভাবে এ অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে চীনকে এর বাইরে রাখা হবে।

ক্রমেই শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হতে থাকা ভারতের অর্থনীতি অবশ্য কোনো ধরনের জোট না করে খুব সতর্কতার সঙ্গে ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছে। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

সম্প্রতি ডোকলাম মালভূমি নিয়ে এক সীমান্ত উত্তেজনায় গত মাসে ভারতের সেনাপ্রধান জানিয়েছিলেন, চীন তাদের ‘সহ্যের সীমা পরীক্ষা’ করছে এবং দিল্লি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

টিলারসন এ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের এক ঘোষণার সমর্থনে বলেন, ‘পৃথিবীর দুটি বৃহত্তম গণতন্ত্রের দুটি বৃহত্তম সেনাবাহিনী থাকা উচিত।’

টিলারসন উল্লেখ করেন, ভারতের বিমান বাহিনী এখন যুক্তরাষ্ট্রের পি-এইট নজরদারি বিমান চালায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভারতকে সাহায্য করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri