আওয়ামী লীগে কপাল খুলছে সৎ ও জনপ্রিয়দের : জরিপে উঠে আসারাই পাচ্ছে মনোনয়ন

alg-el-map-coxbangla.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৩ নভেম্বর) :: আওয়ামী লীগে অর্ধেক মন্ত্রী ও শতাধিক এমপির কপাল পুড়তে পারে আগামী নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানামুখী জরিপ চালিয়ে আসছেন আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে। সংসদীয় দলের সভায় বারবার বলেছেন, জরিপে যারা উঠে আসবে তারাই মনোনয়ন পাবে।

এ যাবত নানামুখী জরিপে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মন্ত্রী থেকে অনেক আলোচিত এমপিসহ শতাধিক প্রার্থীর অবস্থা নির্বাচনী এলাকায় নাজুক। কারো বয়স, কারো জনবিচ্ছিন্নতা কারো বা সিণ্ডিকেট নিয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে।

অনেক এমপিরা নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় গণবিরোধী কর্মকাণ্ডই করছেন না দলবিচ্ছিন্ন হয়ে অথনৈতিক বিত্তই গড়ে তোলেননি টেণ্ডার, কমিশন, চাঁদা, নিয়োগ বাণিজ্য মিলিয়ে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছেন।

বাইরে প্রতাপশালী হলেও ভেতরে জনপ্রিয়তা হারিয়ে সমালোচনার তীরে ক্ষত-বিক্ষত, কেউ কেউ নির্বাচনী অভিজ্ঞতা না থাকলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা ভোটের এমপি হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন নিজের ভিত্তি মজবুত না করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। এতে করে জনমত জরিপে ছিটকে পড়া মন্ত্রী-এমপিদের জায়গায় জনপ্রিয় গণমুখী ও সৎ অনেক প্রার্থী উঠে আসছেন।

পরিবর্তনের হাওয়ায় প্রায় দেড়শ আসনে প্রার্থী বদল করে ভোটযুদ্ধের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, গণমাধ্যমে যেসব চূড়ান্ত তালিকা প্রচার হচ্ছে তা সত্য থেকে দূরে রয়েছে। সকল জরিপ বিবেচনা করে খোদ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছেন।

কাটাছেঁড়া চলছে, নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার আগে পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রার্থী জরিপ অব্যাহত থাকবে।

এ কারণেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আল্লাহর পর কেবল শেখ হাসিনাই জানেন কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন? যাদের নাম গণমাধ্যমে চূড়ান্ত বলে এসেছে তাদের অনেকেই মনোনয়ন পাচ্ছেন না।

নানামুখী জরিপের যে চিত্র উঠে এসেছে উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী মন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি (এবার টেকনাফের কোটায় হলেও) নির্বাচনী এলাকায় বিপর্যয়ের মুখে রয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একজন সৎ মানুষ হিসেবে সব মহলে সম্মানিত। তিনি বলে আসছেন, আগামীতে নির্বাচন করবেন না। তার ছোট ভাই ড. এ কে আবদুল মোমেন প্রার্থী হতে মাঠে নামলে দলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জরিপে মুহিতের বিকল্প মুহিত থাকলেও একটি প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসা কঠিন বিষয়।

সাবেক সচিব ও নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের নামও সিলেট সদর আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় উচ্চারিত হচ্ছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্পর্কে জাতীয়ভাবে ইতিবাচক ইমেজ থাকলেও এলাকায় দল ও মানুষের তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। একই অবস্থা কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীরও। এলাকায় দলের নেতাকর্মীসহ অনেকেই ক্ষুব্ধ অসন্তুষ্ট তার ওপর। সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী এলাকায়ও অবস্থান ভালো নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমপি-মন্ত্রী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের অবস্থাও খারাপ। খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওবায়দুল কাদের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দলের মুখপাত্র হিসেবে সারাদেশ নিয়ে দলের জন্য কঠিন পরিশ্রম করছেন।

কিন্তু নোয়াখালী থেকে ফেনী পর্যন্ত যে অর্থনৈতিক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রতাপশালী হয়ে উঠেছে এতে সেইসব এমপিদেরই বিতর্কিত করেনি সেতুমন্ত্রীকেও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দূরে থাক ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের বাইরে থেকে এবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছেন। এতে করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে শতাধিক মন্ত্রী-এমপির কপাল পুড়বে আর জনপ্রিয় গণমুখী সৎ প্রার্থীদের কপাল খুলবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri