কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধন সাড়ে ৬ লাখ ছাড়িয়েছে

rh-balokhali-camp.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৪ নভেম্বর) :: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নির্যাতনের মুখে কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা কি সংশ্লিষ্টদের ধারণারও বাইরে ? ইতোমধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।

বৃহস্পতিবারও কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের ৭টি কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৮৭২ জন নিবন্ধিত হয়েছে। তারপরও রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে এখনও দীর্ঘ লাইন।অথচ জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের ধারণা ছিল সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর সিনিয়র ইমার্জেন্সি কো-অর্ডিনেটর লুইস অবিন কক্সবাজারে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জানিয়েছেন, উখিয়া ও টেকনাফে এ পর্যন্ত এক লাখ ৭২ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার সনাক্ত করা হয়েছে।আর এসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭ লাখ ৪৫ হাজার।তাদের মধ্যে ১৫ শতাংশ পরিবার পরিচালনা করছে নারীরা।এছাড়া ৫ হাজার শিশু রয়েছে যারা পরিবারের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের তাদের ভাই-বোনসহ নিকটাত্মীয় শিশুদের দেখাশোনা করছে।

আর গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে।গত এক মাসে নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে।তিনি আরও জানান ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উদ্ভুত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত তিন মাসে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে তা প্রসংশনীয়।

এদিকে ইমিগ্রেশন পাসপোর্ট অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে উখিয়া-টেকনাফের ৭টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন।

এরমধ্যে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং-১, কুতুপালং–-২, নোয়াপাড়া, থাইংখালী-১, থাইংখালী-২, বালুখালী ও টেকনাফের লেদাসহ ৭টি ক্যাম্পে মিয়ানমার ন্যাশনাল’স বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ চলছে। রোহিঙ্গারা যেন সারাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে সেই লক্ষ্যে নিবন্ধনের ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবিযুক্ত এই কার্ডের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সঠিক পরিসংখ্যান রাখার পাশাপাশি তাদের চিহ্নিত করাও সহজ হবে।

নিবন্ধন কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান,আগের দিনগুলোর মতোই প্রচন্ড ভিড় ছিল। কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ জন রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। শুক্রবার এ সংখ্যা সাড়ে ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে রোহিঙ্গাদের এখনও দীর্ঘ লাইন থাকায় আর কত রোহিঙ্গা রেজিস্ট্রেশনের বাইরে রয়েছে তা নিয়ে কোনো মহলই ধারণা করতে পারছে না। এনিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে নতুন ভাবনার উদ্রেক করেছে।

বাংলাদেশ পার্সপোট এন্ড ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নোমান মুহাম্মদ জাকের হোসেন জানান, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকার কারণে বায়োমেট্টিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন শেষ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে এ প্রকল্পে কর্মরতরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ফলে শুক্রবার পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের ৭টি বুথে ৬ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিকের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, জাতিসংঘ সহ সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা ৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আসার ধারণা করেনি। কিন্তু ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে এবং আরো হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধনের অপেক্ষা রয়েছে। ফলে এনিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে নতুন ভাবনার উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri