buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

রাখাইনে তৈরি হচ্ছে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির

myn-rkn.jpg

মোসলেহ উদ্দিন,উখিয়া(১৪ ডিসেম্বর) :: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নামে মিয়ানমার সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সম্পাদিত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় যে সমস্ত রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফিরতে পারবে তাদেরকে ক্যাম্পে নজরবন্ধি হিসেবে রাখা হবে। বাড়ী-ঘরে ফিরতে দেওয়া হবেনা। খাদ্য,বস্ত্র,চিকিৎসা বঞ্চিত হবে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। রাখাইনের এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে।

তবে নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের পরপরই নিজ নিজ বাড়ী ঘরে ফিরে যাওয়ার নিশ্চিয়তা দিলেই রোহিঙ্গারা ভেবে দেখবে মিয়ানমারে যাবে কিনা।

বৃহস্পতিবার উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ঘুরে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

তারা আরো জানান, দায়সাড়া প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে আওতায় মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার চাইতে এখানে মরে যাওয়া ভাল।

রোহিঙ্গাদের জন্য সার্বক্ষণিক প্রচারিত ‘আরভিশন’ চ্যালেনের উদ্বৃত্তি দিয়ে কুতুপালং ২নং ক্যাম্পে আশ্রিত মিয়ানমারের ঢেকিবুনিয়াস্থ ফকিরা বাজারের বাসিন্দা ও সেখানকার (হুক্কাট্টা) চেয়ারম্যান আরিফুল্লাহ (৪৫) জানান, গত ২১ নভেম্বর মিয়ানমারের সংসদীয় বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে ১৯৪২সালে রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রোহিঙ্গারা ৩শতাধিক গ্রাম দখল করে সেখানে বসবাস শুরু করে। বর্তমানে ওই সমস্ত গ্রামে রাখাইনদের পুর্নঃবাসনের সেদেশের সরকার কাজ করছে। তাই রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়ী ঘরে ফিরে যাওয়া কোন সম্ভাবনা নেই।

কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত রাখাইন রাজ্যের হাইচ্চুরাতা মেরুল্লা গ্রামের আরেক (হুক্কাট্টা) চেয়ারম্যান মাষ্টার এনায়েত উল্লাহ( ৪৮) জানান, মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় যে সমস্ত রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরতে পারবে ওই সমস্ত রোহিঙ্গাদের রাখার জন্য মংডুর নলবনিয়া, নয়াপাড়া, নাইছাডং, হাইচ্চুরাতা, মেরুল্লা নাফপুরা, গদুরী এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করছে। নাফপুরা এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে।

বালুখালী ২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা মিয়ানমারের বুরা সিকদার পাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক মাষ্টার আব্দুর রহিম(৩৯) জানান, ২০১২সালে যে সমস্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসিত হয়েছে তাদেরকে এখনো পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় প্রতিষ্টিত ক্যাম্পে বন্ধি জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সেখানে প্রায় ৭হাজারের অধিক রোহিঙ্গা অনাহারে-অর্ধাহারে বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পেয়ে মরছে। এবার মিয়ানমার সরকার এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের নামে ক্যাম্পে বন্ধি করে রাখার ফন্ধি নিয়ে প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পাদন করেছে।

গত ২৩ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সে অনুযায়ী দু’দেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যৌথ ওয়ারর্কিং গ্রুপ গঠনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও মিয়ানমার সরকার নানা কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে যৌথ ওয়ারর্কিং গ্রুপ গঠনে বিলম্ব করছে।

কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওয়ারর্কিং গ্রুপ গঠনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সরকার আন্তরিক হলেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সময় কাল-ক্ষেপন করা হচ্ছে।

এখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা নেতারা আরো জানান, মিয়ানমার সরকার ঘোষণা করেছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হবে। তবে তাদের আপাতত মংডুর রাখাইন রাজ্যে সীমান্ত এলাকার আশে-পাশে নির্মিত ক্যাম্পে রাখা হবে। প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকার সীমান্ত এলাকায় ক্যাম্প নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ক্যাম্প নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

উখিয়ার থাইংখালী হাকিমপাড়া ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা ক্যাম্প কমিটির সভাপতি আরিফুল হক(৪০) বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি সম্পাদন করেছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করছে।

তিনি বলেন, পূর্ণ নিরাপত্তা সহ বাড়ী ভিটায় ফিরতে দেওয়া না হলে উখিয়া-টেকনাফে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে যাওয়ার অনীহা প্রকাশ করতে পারে।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri