পেকুয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় আসামী আ’লীগের কর্মী : ক্ষমতাসীন দলের বিবৃতি

pekua-oasim-younus-mamla-1.jpg

নাজিম উদ্দিন পেকুয়া (১৫ জানুয়ারী) :: পেকুয়ায় এস,আলমের জমি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের ডজন খানেক স্থানীয় নেতা-কর্মী আসামী হয়েছে। দক্ষিন মগনামায় সোনালী কার্গো লি: এর জমির আধিপত্য নিতে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ চৌধুরী ও বর্তমান চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমের অনুসারীদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী আহত হন।

গত ১৩ জানুয়ারী সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সৃষ্ট ঘটনার জের ধরে দক্ষিন মগনামায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১৪ জানুয়ারী পেকুয়া থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলায় ৩৭ জনকে আসামী করে। মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম মামলার প্রধান আসামী।

এ দিকে অভিযোগ উঠেছে দায়েরকৃত মামলায় এক ডজনেরও বেশী আসামী ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের তৃণমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মী বলে দাবী করেছে দলটির স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দক্ষিন মগনামার কালারপাড়া,শুদ্ধাখালীপাড়া ও বেদেরবিল পাড়া থেকে যে সব ব্যক্তিকে আসামী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এদের মধ্যে এক ডজনেরও বেশী আ’লীগের রাজনীতির স্থানীয় পর্যায়ের নিবেদিত প্রাণ।

বিশেষ করে শুদ্ধাখালীপাড়ায় আসামী হয়েছেন ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক রশিদ আহমদের দু’ ছেলে মনজুর আলম ও ওবাইদুল হাকিম। একই পাড়া থেকে মৃত মোক্তার আহমদের চার পুত্র আসামী হয়েছেন। মোক্তার আহমদ স্বাধীনতার পূর্ব সময় থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আ’লীগের রাজনীতিকে আলিঙ্গন করেছেন। ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ডাকে কৃষক ক্ষেত মজুর সংগ্রামে দিকপাল ছিলেন।

এডভোকেট জহিরুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে জোরদার ও নিপীড়নের বিপক্ষে অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন। লাঙ্গল যার জমি তার এ শ্লোগান বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জমিদারদের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন। তার ছেলে মোকাদ্দেস, রবি আলম, আলমগীর এ মামলায় আসামী। তারা আ’লীগের স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতির অতন্দ্রপ্রহরী।

একইভাবে কালারপাড়ার ৯ নং ওয়ার্ড শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ইলিয়াছ, মনছুর আলমকেও আসামী করা হয়েছে। বেদেরবিল পাড়ার ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আবদুল হামিদ ও নেজাম উদ্দিন ছাড়াও একই স্থানের আ’লীগ নেতা জসিম উদ্দিনকেও আসামী করা হয়েছে। বলিরপাড়ার যুবলীগ নেতা কলিম উদ্দিন, কালারপাড়ার ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আমান উল্লাহসহ ডজন খানেক আসামী আ’লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় নেতা-কর্মী।

মনজুর আলম বর্তমান পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক, তার ভাই ওবাইদুল হাকিম যুবলীগের স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। পিতা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক। পাশাপাশি দক্ষিন মগনামায় এ পরিবারটি আ’লীগের নির্ভরতার অন্যতম শক্তি। এ দিকে সৃষ্ট ঘটনা ও মামলা দায়েরের এ ঘটনায় আ’লীগের এ সব নেতা-কর্মীকে আসামী করায় আ’লীগ এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশসহ মুখ খুলছেন।

এ সম্পর্কিত বিষয়ে ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক রশিদ আহমদ জানায়, তারা দু’জনই বিএনপি। এস,আলমের জমি নিয়ে বিরোধ দুই চেয়ারম্যানের। এখানে আ’লীগের কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অথচ মামলায় আমার ছেলে ও নেতা-কর্মীরা আসামী। একটি চক্র আ’লীগের স্থানীয় শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার খেলায় মেতেছে।

তারা সন্ত্রাসীদের দলে এনে বিবাদ তৈরীর পথ খুঁজছে। ইউনুছ আ’লীগের কেউ নই। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ সালে এ ইউনুছ বিএনপির মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে আ’লীগে নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে। মগনামায় বিএনপির শাসনের সময় ইউনুছের অত্যাচার ছিল স্বৈরাচারের চেয়ে ভয়ংকর। তার নেতৃত্বে আ’লীগ নিধন ও নির্যাতনের খেলা চলছিল।

টর্চার সেল ছিল তার। ভয়ংকর আতংক ছিল এ ইউনুছ। আ’লীগ অসহায় ছিল তার কারনে মগনামায়। কিছু দিন জাতীয় পার্টি করে। তার কোন চরিত্র নেই। একজন বর্বর ও নিকৃষ্ট চরিত্রের দুরন্ত সন্ত্রাসী। দখল বেদখল তার কাজ। এ সবের জন্য তার রাজনীতি পরিচয়। আমরা তাকে আ’লীগ হিসেবে দেখিনা।

জানতে চ্ইালে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) শাহনেওয়াজ চৌধুরী বিটু ও সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেম জানায়, আ’লীগ দখলে বেদখলে নেই। আ’লীগের মিছিলে বিএনপির পক্ষে যে গুলি করে। তাকে আ’লীগ বলবে কে? যারা আ’লীগকে বিভক্তি করতে চাই তারা এ সন্ত্রাসীকে দিয়ে এ সব করাচ্ছে। সে আমাদের কেউ নই। আ’লীগে সন্ত্রাস ও দখলবাজকে জায়গা দেওয়া হয় না।

 

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri