উখিয়ায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ

u1.jpg

মোসলেহ উদ্দিন,উখিয়া(২৫ জানুয়ারী) :: উখিয়ায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি জন্য উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি বলেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে সাধারণ জনগণের জানমাল নিরাপত্তার জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উখিয়া উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃংখলা ও সমন্বয় সভায় জালিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপকূলে গত ১মাসে ১০/১২টি বসতবাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতের গুলিতে স্কুলছাত্রী নিহত হয়।

সন্ধ্যা নামলেই সংঘবদ্ধ ডাকাতদল আশপাশের পাহাড় থেকে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। যার ফলে উপকূলীয় এলাকার মানুষের ডাকাত আতংকে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এসব ঘটনার নেপথ্যে তিনি ওসি তদন্তকে দায়ী করেন।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি বলেন, যেহেতু ওসি তদন্ত ইতিপূর্বে উপকূলের শাপলাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ হিসেবে চাকরি করেছে।

তার জানা উচিত কোথায়, কিভাবে ডাকাতেরা অবস্থান করছে এবং বসতবাড়ির ডাকাতি করছে। ঘন ঘন ডাকাতি, মালামাল লুটপাটের ফলে এলাকার আইনশৃংখলার অবনতি হয়েছে বলে সংসদ সদস্য ওসি তদন্তকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিত ভাবে অভিযোগ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরীকে নির্দেশ দেন।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে সংসদ সদস্য বলেন, যে সব রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে চাকরি করছে তাদের পূর্ণ তথ্য বিবরণী ইউএনওকে দাখিল করতে পারলে চাকরিরত রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এনজিওদের সুবিধার্থে যেখানে সেখানে রাস্তা, সড়ক ,উপ-সড়ক নির্মাণ করে এনজিওগুলো তাদের নামি দামি গাড়ি ও ত্রাণবাহী ভারি যানবাহন চলাচলে যাতে স্থানীয়দের কোন প্রকার অসুবিধার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য এনজিওগুলোতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃংখলার অবনতি প্রসঙ্গে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫টি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হলে পুলিশ এলাকার আইনশৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট হবে। যেহেতু বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এ সুযোগে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি সংঘঠিত করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামানের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) একেরামূল ছিদ্দিক, উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছেনুয়ারা বেগম, রত্নাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী, রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের শাহ আলম, পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীসহ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri