খালেদা-তারেক কি নির্বাচন করতে পারবেন ?

bnp-andolon-khaleda-mamla.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৮ ফেব্রুয়ারী) :: বাংলাদেশের সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অভিযুক্ত হয়ে কারও ২ বছরের অধিক সাজা হলে সাজার পরবর্তী ৫ বছর তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

জিয়া অরফানেজ স্ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালত বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছে।

সেই দিক থেকে তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে লড়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে তাদের সামনে আরও দুটি সুযোগ থাকছে। সেক্ষেত্রে আপিল করে ভোটে অংশ নিতে পারবেন তারা।

আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের এই রায়কে পূর্ণাঙ্গ রায় বলা যাবে না। কেননা- তাদের সামনে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

বেগম জিয়ার আইনজীবীরা এখন বিচারিক আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করতে পারবেন। হাইকোর্ট কিংবা আপিল বিভাগে বিচারিক আদালতের রায় স্থগিত ঘোষণা হলে কিংবা খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হলে নির্বাচনে অংশ নিতে তার আর কোনও বাধা থাকবে না।

তবে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকার পর যদি খালেদা জিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তখন তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। এখন বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আপিল করতে পারবেন এবং জামিন আবেদনও করতে পারবেন।

জানা যায়, সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম ২ বছর দ-িত হলে সংসদ সদস্য হওয়ার ও থাকবার যোগ্যতা হারান যে কেউ। মুক্তি লাভের ৫ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত ভোটে অংশ নেওয়া যায় না।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অভিযুক্ত হয়ে কারও দুই বছরের অধিক সাজা হলে সাজার পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন- এই হল বিধান।

রায়ের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম জিয়ার অংশ নেয়ার সুযোগ কতটা আছে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দুটি রায় আছে, যেখানে এই ব্যাপারে কিন্তু সুনিশ্চিত বলা হয়েছে আপিল যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই মামলাটা পূর্ণাঙ্গ স্থানে যায়নি সেজন্য দ-প্রাপ্ত হননি সেজন্য ইলেকশন করতে পারবেন, আবার আরেকটা রায়ে আছে পারবেন না।

এখন উনার (খালেদা) ব্যাপারে আপিল বিভাগ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা তাদের ব্যাপার।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri