কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ১৮’র নির্বাচনে জিতবে কোন প্যানেল ?

cox-bar-election-18.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৩ ফেব্রুয়ারী) :: কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনের বাকী আর একদিন।২৪ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতির নিজস্ব ভবনে একটানা এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের পর গণনা শেষে রাতেই ঘোষণা করা হবে ফলাফল। সাত শতাধিক আইনজীবীর মধ্যে মোট ৬৩২ জন ভোটার ১৭টি পদে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নির্বাচিত করবেন।এবারের নির্বাচনে প্রতিবারেরই মতই দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এদের মধ্যে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন সোহেলের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং অ্যাডভোকেট নুরুল মোর্শেদ আমিন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা আইনজীবী পরিষদ।

কক্সবাজারে আইনজীবীদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ নির্বাচন নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,উভয় প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র আইনজীবীরা।আদালতে ৬৩২টি ভোটের মধ্যে দুই শতাধিক প্যানেল ভোট রয়েছে আওয়ামীলীগের। অন্যদিকে বিএনপির প্রায় আড়া্ই শতাধিক প্যানেল ভোট রয়েছে। বিএনপি পুরো প্যানেল ভোট দিলে আওয়ামীলীগ সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারবে না। আর আওয়ামীলীগ যদি দুই শতাধিক ভোট প্যানেল ভোট পেয়ে যায় তাহলে বিএনপিকে আড়া্ই শতাধিক প্যানেল ভোট পেতে হবে। মুলত এই প্যানেল ভোট এবং নিরপেক্ষ কিছু ভোটের উপরই নির্ভর করবে জয় পরাজয় কোনদিকে যাবে।

যদিও বিএনপির উপরে দেখা যাচ্ছে ঐক্যবদ্ধতা কিন্তু ভিতরে কি রয়েছে তা জানা যাবে ভোট গণনার পরে।অার ২০১৬ সালের নির্বাচনে ১৩টি এবং সর্বশেষ ২০১৭’র নির্বাচনে ১১টি পদে জয়ী হওয়ায় এবারও ধারাবাহিক সাফল্য বজায় থাকবে বলে আশাবাদি তারা।

তবে আওয়ামীলীগকেই দেখা যাচ্ছে একতাবদ্ধ কিন্তু ভিতরে সমস্যা থাকলে তাদেরও বেশ বেকায়দায় পড়তে হবে।যদিওবা তারা গত নির্বাচনে সভাপতি,সহসভাপতি ও সা:সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছিল।তাই সংখ্যাগরিষ্ট প্যানেল জয়ে অনেকটা আশাবাদি তারা।

আদালত পাড়ায় গত দু’দিন গিয়ে দেখা যায়, আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে সরগরম রয়েছে কোর্ট বিল্পিং ও এর আশপাশের এলাকা। মর্যাদার এ লাড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা ওঠে এ নিয়ে চলছে সরব আলোচনা। প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে এসে ভোটারদের মন গলাতে নানা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি ভোটারদের দারে-দারেও ধরনা দিয়েছেন তারা। মোবাইলফোনে খোঁজ-খবর রেখে চলেছেন ভোটারদের।

নির্বাচন কমিশনার সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে সরকার সমর্থক আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ’র প্রবীণ আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সভাপতি এবং আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক এডঃ ইকবালুর রশিদ আমিন ( সোহেল) কে সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করে। এ প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন সহ সভাপতি ১ ও ২ পদে এডঃ মোঃ সেলিম নেওয়াজ ও এডঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম , সহ সম্পাদক সাধারণ ও হিসাব পদে যথাক্রমে এডঃ মোহাম্মদ নুরুল হক ও এড. মোহাম্মদ ইসহাক শাহারিয়ার, পাঠাগার সম্পাদক পদে এডঃ মোঃ আবুল হোসেন, আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এডঃ এবিএম মহিউদ্দীন। সদস্য পদে যথাক্রমে এডভোকেট আমজাদ হোসেন, এডঃ মোহাম্মদ ইসহাক, এডঃ কপিল উদ্দিন চেšধুরী, এডঃ মাহাবুবুর রহমান, এডঃ মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন, এডঃ রবিউল এহেচান, এডঃ মাহমুদুল হক , এডঃ মোঃ ইমরুল কায়েস মানিক এবং এডঃ লিপিকা দাশ।

অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্যানেল থেকে জামায়াত নেতা এডঃ নুরুল মোর্শেদ আমিনকে সভাপতি ও এডঃ মোঃ আবদুল মান্নানকে সাধারণ সম্পাদক করে এ প্যানেল চূড়ান্ত করে । এ প্যানেলের অন্যান্য পদের প্রার্থীগণ হলেন সহ-সভাপতি (১) ও (২) পদে এডঃ মোহাম্মদ ছাদেক উল্লাহ ও এডঃ মোঃ ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, সহ সাধারণ সম্পাদক সাধারণ ও হিসাব পদে এডঃ মোহাম্মদ ইউনুচ ও এডঃ একে ফিরুজ আহমদ। পাঠাগার সম্পাদক পদে এডঃ সরোয়ার আলম, আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এডঃ মনজুরুল ইসলাম, সদস্য পদে যথাক্রমে এডভোকেট এস এম নুরুল ইসলাম, এড. ছব্বির আহমদ, এড.একেএম আতাউল হক, এড.নাজিম উদ্দিন, এড. মোহাম্মদ তাওহিদুল আনোয়ার, এড.মঈনুল আমিন ইমু, এড. মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ,এড. আবু মুসা মোহাম্মদ।

নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এম. শাহাজাহান জানান, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্নের জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।আর এবারের নির্বাচনকে প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছেন দুই প্যানেলের প্রার্থীরাই।

উল্লেখ্য, জেলা আইনজীবী সমিতির ২০১৭’র নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত মো: ইছহাক-জিয়া উদ্দিন প্যানেল থেকে সভাপতি-সা:সম্পাদক সহ ৬জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন।অপরদিকে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, সমমনা পরিষদ মনোনীত এসএম নজরুল ইসলাম-তৌহিদুল আনোয়ার প্যানেল থেকে সহ সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১১ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন।

অার ২০১৬ সালের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, সমমনা পরিষদ মনোনীত সৈয়দ আলম-গোলাম ফারুক খান কায়সার প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৩ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত একে আহমদ হোসেন-আ.জ.ম মঈন উদ্দিন প্যানেল থেকে সভাপতিসহ মাত্র ৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়। 

 

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri