buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

রাখাইনে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা গ্রামের ধ্বংসাবশেষ

rh-bldr.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৩ ফেব্রুয়ারী) :: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো প্রথমে পুড়িয়ে দেয়া হলেও এখন বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসাবশেষগুলো একেবারে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠনগুলো।

সংগঠনগুলো জানায়, জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের ধ্বংসপ্রায় পোড়াগ্রামগুলোতে পরিচালিত নৃশংসতার সব প্রমাণ বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সংকটাপন্ন রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। যাতে দেখা যায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ গত কয়েক সপ্তাহে জনশূন্য গ্রামগুলোকে বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণভাবে সমতলভূমিতে পরিণত করেছে।

গত বছরের আগস্টে সহিংসতা শুরুর সময় ওইসব গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তখন নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর চালানো বর্বর অভিযানের কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়।

মিয়ানমার সরকার দাবি করেছে তারা শুধুমাত্র বিধ্বস্ত এলাকাটি পুনর্গঠনের কাজ করছে। তবে তাদের কাজ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তাদের ভাষ্য, বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়ার আগেই অপরাধের আলামতগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে সরকার।

মিয়ানমার সরকারের নতুন এ পদক্ষেপে রোহিঙ্গারাও ভীত হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করছেন, তাদের ফিরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব করে দিতে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের সংস্কৃতির বাকি অংশ ধ্বংস করে দিচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া গ্রামের ছবি প্রথম সামনে আসে গত ৯ ফেব্রুয়ারি। তখন বিমান থেকে ধারণ করা কিছু ছবি পোস্ট করেন মিয়ানমারে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান স্মিত। তিনি জানিয়েছিলেন, ছবিগুলো মংডু শহরের দক্ষিণে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া বিশাল এলাকার।

এদিকে ডিজিটালগ্লোব থেকে পাওয়া নতুন স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, মংডুর পাশে ৫০ কিলোমিটারের ভেতরে বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্র ব্যবহার করে কমপক্ষে ২৮টি গ্রাম ও পাড়া মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কাজ করা হয়। গুঁড়িয়ে দেয়া কিছু জায়গায় নির্মাণ শ্রমিকরা নতুন ভবন বা ঘরের কাঠামো ও হেলিপ্যাড তৈরি করেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচও শুক্রবার একই তথ্য জানিয়ে বলেছে, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৫টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মিয়ানমার বহির্বিশ্ব থেকে যা গোপন করে চলেছে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা দেখা গেল নতুন প্রকাশিত ছবিগুলোতে। দেশটি রাখাইন রাজ্যে স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে কথা বলে আসছে মিয়ানমার সরকার। তারা রাস্তা সম্প্রসারণ, সেতু মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র  তৈরি ও বাংলাদেশ সীমান্তে ট্রানজিট শিবির নির্মাণে ব্যস্ত রয়েছে। ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য গত জানুয়ারিতে শিবিরগুলো চালু করা হলেও কেউ এখনো ফিরে যায়নি। বরং রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা এখনো অব্যাহত রয়েছে। 

রোহিঙ্গাদের গ্রাম গুঁড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই দাবি করে মংডুর সরকারি কর্মকর্তা মিন্ট খাইন বলেন, ‘আমরা মাটি সরানোর মতো যন্ত্র ও বুলডোজার ব্যবহার করছি। কারণ নতুন ঘর তৈরির জন্য আগে তো আমাদের জায়গা পরিষ্কার করতে হবে।’

তিনি জানান, নতুন বাড়ির মধ্যে কিছু মুসলিমদের জন্য বানানো হয়েছে। তবে যে সব বাড়ি বানানো হয়েছে বা পরিকল্পনা রয়েছে তাতে সেটা মনে হচ্ছে না। আর রোহিঙ্গাদের ভয়, কয়েক প্রজন্ম ধরে বাস করা তাদের জমি কর্তৃপক্ষ কেড়ে নিচ্ছে।

ডিসেম্বরে প্রকাশ করা সরকারি তালিকা অনুযায়ী, ৭৮৭টি বাড়ি তৈরি করা হবে। যার বেশির ভাগই পাবে বৌদ্ধ ও হিন্দুরা। মাত্র ২২টি বাড়ি পাবে‘বাঙালিরা’। রোহিঙ্গাদের নির্দেশ করতে মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদীরা ‘বাঙালি’ শব্দটি ব্যবহার করে। তাদের ভাষায়, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri