কক্সবাজারের কুতুপালং-বালুখালী এলাকায় ছয় মাসে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ১২ রোহিঙ্গার মৃত্যূ

elephant-attack-dead.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৮ মার্চ) :: কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং-বালুখালী এলাকায় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ছয় মাসে ১২ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের ঝুঁকি আরো বাড়বে।

মানুষ ও প্রাণীর এমন সংঘাত এড়াতে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) সঙ্গে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

গত ছয় মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে কুতুপালং-বালুখালী এলাকায়, যা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী বসতি। এ বসতি পড়েছে এশীয় হাতির প্রধান অভিবাসন রুটে। বিপন্ন প্রজাতির এশীয় হাতির সংখ্যা বাংলাদেশে মাত্র ২৬৮।

দীর্ঘদিন ধরে কুতুপালং-বালুখালী এলাকায় বাস করছে এসব হাতি। খাবার ও আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে চলাচলে জঙ্গলাকীর্ণ কুতুপালং-বালুখালী রুট ব্যবহার করে এসব হাতি। বিশেষ করে শরণার্থী বসতির পশ্চিম পাশে হাতির পালের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ গত সপ্তাহে সেখানে ১২ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা কিশোর হাতির পায়ের চাপায় মারা যায়।

রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে হাতির আনাগোনার কারণ ও ধরন জানতে জরিপ চালিয়েছে আইইউসিএন।

কক্সবাজার ও আশপাশের ৭০ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, শরণার্থী বসতির কাছে এখনো বিপন্ন প্রজাতির প্রায় ৪৫টি হাতির উপস্থিতি রয়েছে। আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে খাবার ও পানির খোঁজে হাতির পাল জঙ্গল ছেড়ে বেরোলে শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিপদ বাড়তে পারে বলে আইইউসিএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জেনেভা থেকে ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুনো হাতির পাল শরণার্থী বসতির মধ্য দিয়ে ছুটলে মানুষের সঙ্গে সংযোগ হয়, আর তখনই বিপদ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ ঝুঁকি নিরসনে ইউএনএইচসিআর ও আইইউসিএন বন বিভাগ ও রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন কমিশনারের  (আরআরআরসি) কার্যালয়ের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে হাতির চলাচলে নজরদারি করতে শরণার্থী বসতির উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোয় ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করবে ইউএনএইচসিআর ও আইইউসিএন। এছাড়া শরণার্থীদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবী বেছে নিয়ে কয়েকটি ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করা হবে। একেকটি টিমে থাকবে ১০ জন সদস্য, যাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

হাতির অবাধ ও নিরাপদ পারাপারের জন্য এলিফ্যান্ট করিডোর সৃষ্টির জন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছে আইইউসিএন। কাজটি শেষ হলে এলিফ্যান্ট করিডোর শনাক্ত করে সবার অবগতির জন্য সাইনবোর্ড ও নির্দেশিকা রাখা হবে। এছাড়া সচেতনতামূলক বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri