রাখাইনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের প্রমাণ চায় মিয়ানমার

myn-rkn.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৯ মার্চ) :: মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগের সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ চেয়েছে মিয়ানমার সরকার। বৃহস্পতিবার জেনেভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন এ প্রমাণ চান। খবর রয়টার্স।

তিনি যুক্তি দাঁড় করিয়ে বলেন, রাখাইনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশিভাগ এখনও সেখানেই বসবাস করছে। যদি সেখানে গণহত্যাই চালানো হত তবে তারা সবাই পালিয়ে যেত।

তিনি আরো বলেন, জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ খুবই গুরুতর এবং এটা হাল্কা ভাবে নেওয়া উচিত না। সেখানে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে রায় দেওয়ার আগে আমাদের উচিত আসলেই সেখানে কি হয়েছে সেটা দেখে নেওয়া।

যদিও এই দেখে নেওয়ার সুযোগ মিয়ানমার সরকারই দিচ্ছে না। এমনকি তারা জাতিসংঘের তদন্ত দলকেও এখনও রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

তুন আরো বলেন, রাখাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের মিয়ানমার সরকার ফেরত নিতে চায় এবং তাদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়া হবে। সরকার চায় না তারা দেশের বাইরে থাকুক। রাখাইনের ৩০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে খুব কম সংখ্যকই দেশত্যাগ করেছে।

তিনি আরো বলেন, পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের মধ্যে যারা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব চাইবে আমরা তাদের খুশি মনে স্বাগত জানাব। কিন্তু তাদের একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তারা এমনি এমনিই নাগরিকত্ব পাবে না।

গত বছরের অগাস্টের শেষ দিকে রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে সেনা অভিযান শুরু হয়। গত ছয় মাসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। অতীতে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসাইন বলেন, রাখাইনে সেনাঅভিযান নিয়ে বিশ্বজুড়ে অভিযোগ উঠার পরও মিয়ানমার সেনাবাহিনী তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসি করেছে। আমার দৃঢ় সন্দেহ সেখানে গণহত্যা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানে জনশূন্য হয়ে পড়া রোহিঙ্গা গ্রামগুলো বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

তবে মিয়ানমার সরকার দাবি করেছে, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালিয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri