বিশ্বের পাঁচ ‘স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায়’ বাংলাদেশ

bd-world-1.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৩ মার্চ) :: বাংলাদেশে বর্তমানে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে জার্মানির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। গবেষণা প্রতিবেদনের মন্তব্যে বলা হয়েছে, দেশটি এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদন্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না।

এ নিয়ে বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের ১২৯ টি দেশে গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং সুশাসনের অবস্থা নিয়ে এক সমীক্ষার পর জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ তাদের রিপোর্টে এই মন্তব্য করে। রিপোর্টটি শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে ১২৯ টি দেশের মধ্যে ৫৮ টি দেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং ৭১ টি দেশকে গণতান্ত্রিক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০১৬ সালে তাদের আগের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ৭৪টি দেশে গণতান্ত্রিক এবং ৫৫টি দেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে।

একশো উনত্রিশটি দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে যে সূচক এই সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০ নম্বরে। একই অবস্থানে আছে রাশিয়া। উরুগুয়ে, এস্তোনিয়া এবং তাইওয়ান আছে এই সূচকের শীর্ষে। আর একেবারে তলায় রয়েছে সোমালিয়া, ইয়েমেন এবং সিরিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান অবশ্য বাংলাদেশের নীচে – ৯৮ নম্বরে। মিয়ানমারের অবস্থান ১০৪ নম্বরে। অন্যদিকে ভারত আছে বেশ উপরের দিকে – ২৪ নম্বরে। শ্রীলংকার অবস্থান ৪১ নম্বরে।

জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরণের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। তবে তাদের এই সমীক্ষায় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া সহ পরিণত গণতন্ত্রের দেশগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, “বিশ্বে গত ১২ বছরের মধ্যে গণতন্ত্র এবং সুশাসনের অবস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এক সময় বিশ্বের যেসব দেশকে মুক্ত বলে ভাবা হতো, সেসব দেশের সরকারও ক্রমশ কর্তৃত্বপরায়ন হয়ে উঠছে।”

দুর্ভাগ্যজনক হলেও বাংলাদেশ এখন স্বৈরতান্ত্রিক দেশ : বিএনপি

জার্মানভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে ৫টি স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় রাখার বিষয়কে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান।

বিবিসি বাংলায় ওই তালিকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যানের মতে, ‘‘অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মুক্তচিন্তা প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ, দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ওপর গুম-খুন এবং অসংখ্য মামলা হামলার মাধ্যমে জগদ্দল পাথরের মতো বসে থাকা শাসনের কারণেই এই স্বৈরতান্ত্রিকতার উন্মেষ।’’

অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান

‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনী নাটক করে যেভাবে দেশের গণতান্ত্রিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে তারই প্রতিফলন হলো জার্মান ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল। এটি একটি স্বাধীন দেশের জন্য দুর্ভাগ্যই বলতে হয়। এই পরিস্থিতিকে আরো বেশি নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখার মাধ্যমে’, বলেন অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান।

তিনি বলেন: ‘কঠিন এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অবশ্যই প্রয়োজন। একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারার দিকে যেতে না পারলে আগামীতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।’

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri