নির্বাচনের বছরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতি

bd-11-election-coxbangla.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৭ এপ্রিল) :: এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী বছর। আর এ বছরটিই রাজনৈতিক গোলযোগ বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটল।

খালেদা জিয়ার সামনে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা ছিল মার্চে হাইকোর্ট থেকে চার মাসের জামিন লাভে। কিন্তু এক সপ্তাহ পর সুপ্রিম কোর্ট তা স্থগিত করে দিয়েছে।

খালেদা জিয়ার বিএনপি নির্যাতন বাড়ানোর জন্য দায়ী করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী লীগকে।

এশিয়া টাইমকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি কয়েকবার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা দমন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু বহুবার আমাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমরা যখন আমাদের কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে কালো পতাকা প্রদর্শন করেছি, পুলিশ আমাদের ওপর জলকামান আর লাঠিচার্জ করেছে।

রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির অনেক নেতাকে জেলে ঢুকিয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির গবেষণা শাখা দাবি করছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর দলের বিপুলসংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক সমর্থককে হত্যা করা হয়েছে, ৭০০-এর বেশি জনকে অপহরণ করা হয়েছে। এদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। অনেককে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ সরকার।

বিচার বিভাগে প্রভাব বিস্তার

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছে, সুপ্রিম কোর্টের খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় ডিসেম্বরে তিনি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, আওয়ামী লীগের ওই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।

ওই রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর বিএনটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জনগণের শেষ আশ্রয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়া ও আমাদেরকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে ৩৪টি মামলা রয়েছে জিয়া অরফানেজ টাস্ট মামলা তার মাত্র একটি। বিএনপির অনেকে মনে করছেন, জামিন পেলেও আইনগত জটিলতার কারণে খালেদা জিয়া বের নাও হতে পারেন।

দলটি ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড আলেক্স কার্লাইলকে আইনজীবী দলের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। এতে করে খালেদা জিয়ার মামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচার পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বৈরশাসন

এদিকে জার্মান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বারটেলসম্যান স্টিফটাঙ গত মাসে জানিয়েছে, বাংলাদেশ এখন স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে রয়েছে। এখানে এমনকি গণতন্ত্রের ন্যূনতম শর্তও পালিত হচ্ছে না। এতে বলা হয়, একসময় বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। ক্ষুয়িঞ্চু নির্বাচনীব্যবস্থার কারণে এখন তারা একনায়কতন্ত্রের দেশে পরিণত হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এশিয়া টাইমসকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে স্বৈরাচার বলা ‘উদ্দেশ্যমূলক’, এর কোনো ভিত্তি নেই।

শক্তির অভাবে বিএনপি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিতে শক্তিশালী নেতৃত্ব, বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাব রয়েছে।

ঢাকার একটি বিদেশী দূতাবাসে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ফারুক হাসান এশিয়া টাইমসকে বলেন, খালেদা জিয়ার জেল হওয়ার পর তিনি বিএনপির একটি ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এটি ছিল কারারুদ্ধ নেতার প্রতি জনগণের সহানুভূতি আকর্ষণ করার বিরাট সুযোগ।

তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম, তারা দেশের জনগণের সমর্থন পেতে ভবিষ্যতের কৌশল নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা পুরো সময়টা ব্যয় করলেন কারাগারে খালেদা জিয়ার কঠিন অবস্থা ও তার যন্ত্রণা নিয়ে।

ঢাকাভিত্তিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট আফসান চৌধুরীও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের নিয়োগের সমালোচনা করেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তিনি এখন যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।

আফসান চৌধুরী বলেন, পলাতক নেতা কিভাবে বিএনপির মতো একটি বড় দলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন। খালেদা জিয়া না থাকলে বিএনপি যে নেতৃত্ব সঙ্কটে পড়ে, তা সত্য।

তবে বিএনপি নেতা রিজভী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার দল এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। কারণ জনগণ এখন বিএনপির প্রতি আওয়ামী লীগের আগ্রাসী আচরণ স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছে।

source : Asia Times

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri